বৃহস্পতিবার , জুন 17 2021
সদ্য সংবাদ
Home / সিরাজগঞ্জ / কাজিপুর / ৬০ টাকার ভাড়া এখন ১’শ: দিশেহারা যাত্রীরা

৬০ টাকার ভাড়া এখন ১’শ: দিশেহারা যাত্রীরা

টি এম কামাল , উপজেলা প্রতিনিধি || যমুনাপ্রবাহ.কম

আপডেট সময়: ০৮ঃ ২৯ ঘন্টা: ১৬ মে, ২০২১

সিরাজগঞ্জ: সিরাজগঞ্জের কাজিপুরের মেঘাই থেকে বগুড়ার শেরপুর, মেঘাই থেকে সিরাজগঞ্জ শহর পর্যন্ত এসেছি মাত্র ৬০ টাকা দিয়ে। আর আজকে আইলাম ১০০ শ’ টাকা দিয়ে। মাঝখানে তিন-চার কিলোমিটার হাঁটলাম। আমাগো দুঃখ-কষ্ট কেউ দেখে না। আমি একজন মাঝারি ব্যবসায়ী, করোনায় আমাগো ব্যবসা-বাণিজ্যের অনেক ক্ষতি হইছে। তখন কেউ সাহায্য করলো না! এখন মা-বউ, বাপ-ভাইয়ের সাথে ঈদ করতে যামু, এখানেই যত নিয়ম। এত নিয়মে আমাদের ভোগান্তি বাড়ছে, আমাগো বেশি ভাড়া দিয়ে আসতে হলো।’ রাজধানীর কর্মস্থল থেকে কাজিপুরে বাড়ি যেতে মেঘাই আসার পথে ভোগান্তি আর বেশি ভাড়ার দেয়ার কথা এভাবেই জানাচ্ছিলেন আশরাফুল আলম নামের এক যাত্রী। শুধু আশরাফুল আলম নন, মেঘাই বাজারে আসা প্রায় সবারই ছিল একই রকমে কথা। লকডাউনে নিজ নিজ অবস্থানে থাকার নির্দেশনা থাকলেও পরিবারের সাথে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে বাড়ির পথে মাইলের পর মাইল হেঁটে আর পরিবহনে বেশি ভাড়া গুনতে হচ্ছে প্রায় সবাইকে।

আবুল হোসেন নামের এক কলেজছাত্র জানান, ‘শেরপুর-কাজিপুর ও সিরাজগঞ্জ থেকে কাজিপুরের মেঘাই সিএনজিতে সব সময় ৬০ টাকা দিয়ে আসলাম। আজকা ১০০ শ’ টাকা। গাড়ি চালকরা বিভিন্ন অজুহাত দেখান। বাড়িতে তো যেতে হবে। তাই কী আর করার!’ কেনাবাড়ীর একটি গার্মেন্টসে কমর্রত আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘আমাদের গার্মেন্টস ছয় দিন ছুটি দিছে। থাকার জায়গা নাই তাই এখন বাড়িতে গিয়ে টাইম মতো ফিরে আসতে হবে। কেনাবাড়ী থেকে আসতে আমার এমনি ৩০০ শ’ টাকার মতো লাগে। আজকে আমার ৬০০ থেকে ৭০০ শ’ টাকা খরচ হইয়া গেছে। চারবার গাড়ি পাল্টাইছি। জানি লকডাউন, তবে একে তো থাকার জায়গা নাই, আরেক হইলো বছরের একটা দিন, বাড়িতে না গেলে কেমনে হয়।’ আব্দুর রাজ্জাক নামের আরেক যাত্রী বলেন, ‘রাস্তায় চেকপোস্টে গাড়ি আটকানোর কারণে দীর্ঘ জ্যাম। অনেক পথ ঘুরে ঘুরে আসছি। গাড়িওয়ালা যার কাছ থেকে যা পারছে নিচ্ছে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কয়েকজন সিএনজি, মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালকেরা বলেন, ‘ঈদের আগে ভাড়া বেশিই। আমরা তো রিস্ক (ঝুঁকি) নিয়া আসি। অনেক রাস্তায় ঘুরে আসতে হয়। পুলিশ আটকাইলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বইসা থাকা লাগে। কষ্ট করে গাড়ি চালাই, কয়েকটা টাকা কামানোর জন্যইতো।’ ফেরদৌস নামের এক সিএনজিচালক বলেন, ‘মানুষ তো সব বাড়ীতে আসতাছে, কেউতো ঢাকায় যায় না। ঢাকায় তো আমাদের ফাঁকা গাড়ি নিয়ে গিয়ে তারপর যাত্রী নিয়ে আসতে হয়। ফাঁকা যে যাই এটার টাকা কে দিবো?’ খালেক নামের এক ট্্রাকচালক বলেন, ‘রাস্তায় অনেক খরচ, তাই ভাড়া বেশি।’

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, সরকার লকডাউন দিয়ে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থানে থাকার নির্দেশনা দিয়েছে। যাত্রীরা নিয়ম না মেনে বাড়ীতে আসছেন, বাড়ি ফিরছেন, আমাদের কী করার আছে!

About jamuna

আবার চেষ্টা করুন

বেলকুচিতে বাল্যবিয়ে বন্ধ করলেন ইউএনও, কনের বাবার জরিমানা 

নিজস্ব প্রতিবেদক || যমুনাপ্রবাহ.কম প্রকাশ কাল: ২২৫৩ ঘন্টা, জুন  ১৬, ২০২১ সিরাজগঞ্জ : সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।