সদ্য সংবাদ
Home / সিরাজগঞ্জ / উল্লাপাড়া / হারিয়ে যাওয়া নদী পুনঃ খনন প্রকল্প উল্লাপাড়ার গ্রামীণ জনপদে উতসব

হারিয়ে যাওয়া নদী পুনঃ খনন প্রকল্প উল্লাপাড়ার গ্রামীণ জনপদে উতসব


 উপজেলা প্রতিনিধি || যমুনাপ্রবাহ.কম

উল্লাপাড়া: দীর্ঘ দিন যাব ভরাট হয়ে যাওয়া দুষণ ও দখলের কবলে পরা উল্লাপাড়ার একাধিক নদী পুনঃ খনন কাজ শুরু হওয়ায়, কৃষি সমৃদ্ধ নদী পাড়ের গ্রামের মানুষের মধ্যে উসবের আমেজ। নদী মাতৃক বাংলাদেশে দুষণ ও দখল হয়ে যাওয়া নদী গুলো যখন মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাচ্ছিল, পানির অভাবে নদী কেন্দ্রীক কৃষি ব্যাবস্থা ও গ্রামীণ জীবন যখন দুর্বিসহ, সেই প্রেক্ষিতে সরকারের নেওয়া ছোট নদী, খাল ও জলাশয় পুনঃ খনন প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়ায় নদী গুলো যখন আগের রূপ ফিরে পাচ্ছে- তা দেখে গ্রামের কৃষক-শ্রমিক, কুমার ও জেলে পল্লীতে উসবের আমেজ বিরাজ করছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের বর্তমান সচিব কবির বিন আনোয়ার চলনবিল অধ্যষিত সিরাজগঞ্জ জেলায় ভরাট, দুষণ ও দখল হয়ে যাওয়া নদীগুলো উদ্ধারে বিশেষ উদ্যোগ নেন। নদীগুলোর বর্তমান অবস্থা পর্যবেক্ষন করে কৃষি ও জলবায়ু উন্নয়নে নদীগুলো পুনঃ খননের প্রতি গুরুত্ব দেন।
সরকারের গৃহিত নদী-খাল-জলাশয় পুনঃ খননের জন্য ৬৪ জেলায় গৃহিত প্রকল্পের আওতায় তিনি উল্লাপাড়া উপজেলায় ৪টি প্যাকেজ এর অধিনে ২৬ কোটি ২ লক্ষ টাকা ব্যায়ে ৪৬.৫কি:মি: দীর্ঘ খনন প্রকল্পের কাজ অনুমদোন করেন। এর মধ্যে ৯ কোটি ৮৬ লক্ষ্য টাকা ব্যায়ে ২২কি:মি: দীর্ঘ বিলসূর্য প্রকল্পের কাজ ২০২০ সালে সম্পন্ন হয়েছে। অন্য তিনটি প্যাকেজের ২৬.৫ কি:মি: এর কাজ চলতি সালের ফেব্্রুয়ারিতে শুরু হয়েছে যা এই বছরের ডিসেম্বরেই শেষ হবার কথা। সরজমিনে উল্লাপাড়া উপজেলার দহিখোলা, রাজমান, বালসাবাড়ি, বজ্রাপুর নদী খনন প্রকল্পের কাজ দেখতে গেলে এলাকার প্রবীন লোকজন এক সময়ের উচ্ছল নদীকে ঘিড়ে তাদের শৈশব-কৈশরের নানা স্মৃতি, উর্বর কৃষি, মস্য শিকার উসব-পার্বন জীবনের নানা কথা বলছিলেন। রাজমানের কৃষক লাল মিয়া বলেন- নদীর বুকে পলি জমে ভরাট হয়ে যাওয়ায় এক শ্রেণীর ভুমি দস্যুরা নদীর যায়গা দখল করে নিজের জমি হিসেবে দীর্ঘ দিন ধরে চাষাবাদ করছে। কেউ কেউ ভুমি অফিস থেকে নামে বেনামে কাগজ পত্র করে নিয়েছে।
এই নদী গুলোর সুবিধা ভোগী উল্লাপাড়া উপজেলার নয় লক্ষ্য জনগন। অথচ যা হাতে গোনা কিছু লোক ভোগ দখল করে আসছিল। নদী খননের মধ্য দিয়ে দখলদারদের হাত থেকে নদী মুক্ত হয়ে আবার গোটা এলাকা বাসির সম্পদে পরিনত হচ্ছে। কয়রা জঙ্গল খামারের মুক্তিযোদ্ধা খোরশেদ আলম বলেন- নদীর যায়গা দ্রæত যে ভাবে দখল হয়ে যাচ্ছিল, সরকারের এই নদী খনন প্রকল্প না হলে হয়ত কয়েক বছরের মধ্যে মানচিত্র থেকে এই নদী গুলোর অস্তিত্ব চির দিনের জন্য হারিয়ে যেত। উল্লাপাড়া পৈর-শহরের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত দখল হয়ে যাওয়া ফুলঝোর খাল প্রায় ৩০ বছর পর খনন শুরু হওয়ায় পৈর-শহরে নাগরিক ও পরিবেশ বাদিদের মধ্যে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়।
যদিও ৩০কি.মি দৈর্ঘ এই খালের মাত্র ১২ শত মিটার যায়গা খনন নিয়ে প্রকল্পটি বাধার সম্মুখিন হচ্ছে। দখলদাররা খনন কাজ বাধা দিচ্ছে বলে ঠিকাদর ও পানি উন্নয়ন বোর্ড সুত্র যানায়। হার্ট বøকের মতো ২৬.৫ কি.মি. প্রকল্পের কাজ শেষ পর্যায়ে এসে ১২ শত মিটার জায়গা দখল দাররা বাধা সৃষ্টি করে প্রকল্পটির মৃত্যু কামনা করছে। আমরা আশা করব নদীর জীবন্ত সত্বা ফিরিয়ে দিতে প্রধান মন্ত্রীর যে অঙ্গীকার তা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন যথাযথ ব্যাবস্থা নিবে। পৌর শহরের শতবর্ষী প্রবীন ওয়াজেদ শেখ বলেন-শিশু কাল থেকে আমরা এই নদী শ্রোতশীনি দেখে আসছি,আমদের বাবা একই ভাবে দেখে আসছে, কত বছর ধরে এটা প্রবাহমান তা তিনি জানতেন না। ৩০ কি:মি: দির্ঘ এই খালের মধ্যে পৌর শহরের উল্লাপাড়া ওভার ব্রিজ থেকে শ্যামলি পাড়া বিশ শয্যা হসপিটাল পর্যন্ত মাত্র ১২শত মিটার নদীর যায়গা কেন সরকারের নথি ভুক্ত হল না, এর দায়ভার কে নেবে। পরিবেশবাদী সংগঠন বাপার সদস্য অধ্যাপক শামীম হাসান বলেন- পরিবেশ বিপর্যয়ের কারনে শুধু মানুষই ক্ষতিগ্রস্থ নয়, অনেক প্রানি ও উদ্ভিদ বিলুপ্ত হয়ে গেছে। প্রকৃতির এই বিরুপ প্রভাব থেকে রক্ষা করে আগামী প্রজম্মের জন্য পরিবেশ বান্ধব সুন্দর পৃথিবী গড়তে নদীর কোন বিকল্প নেই।
উল্লাপাড়া শহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত খাল শুধু জলবায়ু আর পরিবহনের জন্য নয়, শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে পৌর শহরের সাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশনের একমাত্র অবলম্বন। পাট বন্দর খ্যাত এই শহরে প্রায়ই বড় বড় আগুন লাগার ঘটনা দেখেছি, যা নেভানোর এক মাত্র ভরসা এই খালের পানি।
জেলা আইনজীবী বারের সদস্য বীর মুক্তি যোদ্ধা এডভোকেট সামসুল আলম বলেন- উল্লাপাড়া শহরের দুই পাশে ছিল ভুতাগাড়ী ও খৈলশাগাড়ী নামের দুটি বড় বিল বা জলাধার। যা ভরাট করে অপরিকল্পিত ভাবে গড়ে উঠেছে উপ শহর। গত দশ বছরে ভুমি ব্যবসায়িরা শহরের অন্তত ১৫টি পুকুর ভরাট করে বিক্রি করে দিয়েছে। বর্তমান পরিবেশ বান্ধব শহর বলি অথবা অবকাঠামোগত উন্নয়ন বলি, কোনটাই পরিকল্পিত জলাধার, খাল বা নদী ছাড়া আইন সম্মত নয়। নদী রক্ষায় বর্তমান আইনে কারো ব্যক্তিগত জমির উপর দিয়ে খাল বা নদীর পানি প্রবাহিত হলে সেটাও বাধা গ্রস্থ করা যাবে না। খাল ও নদী রক্ষায় সরকারের এই উদ্যোগ অত্যান্ত সময়োপযোগী।
উল্লাপাড়া পাট বন্দর ফুলঝোড় নদী এই খালের প্রধান উৎস। নদীটি পৌর শহরের মধ্য দিয়ে পশ্চিম দিক দিয়ে বের হয়ে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ পথ প্রবাহিত হয়েছে। বর্তমান এই প্রকল্পের আওতায় পৌর-শহরের উৎস মুখ থেকে ২৬ কিলোমিটার পুনঃ খননের কাজ তিনটি গ্রæপ মিলে দ্রæত সম্পন্ন করছে। হাজার বছর ধরে প্রবাহিত এই খাল, যে নদী ও খালের নৌ পরিবহন ও যোগাযোগ সুবিধার উপর ভিত্তি করে শত বছর পূর্বে গড়ে উঠেছিল পাট বন্দর খ্যত উল্লাপাড়া কুঠি বাজার। দুই/তিন বছর পূর্বে এই খালের মধ্যে স্থাপনা তৈরি করে এক শ্রেনীর দখলদাররা এই নদীর অস্তিত্বকে অস্বীকার করছে। আমরা দাবি রাখি এই ক্ষুদ্র বাধা অপসারন করে শহরের মধ্যে দিয়ে খালটি পুনঃ খননের কাজ সম্পন্ন করে মূল প্রকল্পটি আলোর মুখ দেখবে।
সরকারের কৃষি ও জলবায়ু উন্নয়নের পথ সুগম হবে। খনন প্রকল্প বিষয়ে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম বলেন-উল্লাপাড়া উপজেলায় বিলসূর্য প্রকল্পটি যথা সময়ে সম্পন্ন হয়েছে, অবশিষ্ট তিনটি প্যাকেজের যে কাজ চলমান রয়েছে তা এবছরে যথা সময়ে সম্পন্ন হবে।

About jamuna

আবার চেষ্টা করুন

সিরাজগঞ্জে পৃথক সড়ক দূর্ঘটনায় মহিলাসহ নিহত ২ (ভিডিওসহ)

আপডেট সময় : ০৬:২০ ঘন্টা: ১৩ মে, ২০২১ নিজস্ব প্রতিবেদক || যমুনাপ্রবাহ.কম সিরাজগঞ্জ : সিরাজগঞ্জ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *