Home / গুরুত্বপূর্ণ /  শীতের শুরুতেই মিষ্টি খেঁজুরের রস সংগ্রহে ব্যস্ত গাছিরা

 শীতের শুরুতেই মিষ্টি খেঁজুরের রস সংগ্রহে ব্যস্ত গাছিরা

এস এম মাসুদ রানা
বিরামপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি || যমুনাপ্রবাহ.কম
শীতের সকালে রোদের আলোয় বসে মুড়ির সাথে মিস্টি খেঁজুর রসের আয়োজন শুরু হয়েছে এখনই। পাশাপাশি চলছে বেচাকেনাও। খেঁজুর গাছের সংকট স্বত্তেও উত্তরের জেলা দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলায় অবশিষ্ঠ গাছ থেকে রস সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন গাছীরা।
তবে আরও কিছুদিন পর শীতের এ রস উতসব শুরু হবে পুরোদমে শীতের তীব্রতা শুরু না হলেও পুরোদমে আয়োজন শুরু হয়ে গেছে। কোন পরিচর্যা ছাড়াই অনেকটা প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে ওঠা এসব খেঁজুরের রস অত্যন্ত সুস্বাদু হওয়ায় এলাকার চাহিদা অনেক।
সভ্যতার ক্রমবিকাশে সময়ের পরিবর্তনে দিন দিন বিরামপুর উপজেলায় হারিয়ে যেতে বসেছে খেঁজুর গাছের পরিমান। কয়েক বছর আগেও বিভিন্ন এলাকার অধিকাংশ বাড়িতে, ক্ষেতের আইলের পাশে কিংবা রাস্তার দুই পাশে অসংখ্য খেঁজুর গাছ ছিল। বর্তমানে বসতবাড়ি কিংবা ক্ষেত- খামারের পাশে এমনকি রাস্তা ঘাটের পাশে আর আগের মতো খেঁজুর গাছের দেখা মিলেনা। যুগ যুগ ধরে শীত মৌসুমে খেঁজুর গাছের রস সংগ্রহ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন অনেকে। আজ খেঁজুর গাছের সংখ্যা কমে যাওয়ায় বেশির ভাগ গাছিরা তাদের পুরুষানুক্রমের পেশা ছেড়েছেন। তবে হাতে গোনা ক’জন এখনও ধরে রেখেছেন পেশা।
চাঁদপুর মধ্যপাড়ার গাছি আমির আলী বলেন, “দিন দিন খেঁজুর গাছের সংখ্যা কমে যাওয়ায় পেশাটি বর্তমানে ছেড়ে অন্য পেশায় যোগ দিয়েছে এলাকার অনেক গাছীরা”।
সচেতন মহল মনে করেন গ্রামের মানুষকে বেশি বেশি করে খেঁজুর গাছ রোপন করার বিষয়ে উতসাহিত ও সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য সরকারি কিংবা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে আসা উচিত। তাছাড়া প্রতি বছর আমরা যে পরিমাণে খেঁজুর গাছ কেটে ফেলছি তাতে আর কয়েক বছর পর এই খেঁজুর গাছের রস পাওয়া যাবে না।
এ প্রসঙ্গে বিরামপুর পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মিজানুর রহমান বলেন, “বাঙ্গালিরা মৌসুম ভিত্তিক কিছু খাবারের প্রতি আকৃষ্ট। খেঁজুর গাছের রসের প্রতি আমাদের লোভ এখনো আছে। আমরা খেঁজুর গাছের কথা ভুলে গেছি”।
কাউন্সিলর আরো বলেন, “আমাদের উচিত তালগাছ ও অন্যান্য বৃক্ষ রোপনের পাশাপাশি খেঁজুর গাছ রোপন করা। নতুবা আগামী প্রজন্মের কাছে খেঁজুর গাছ অচেনা গাছে পরিনত হবে”।
বিরামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিকছন চন্দ্র পাল অপরূপ বিরামপুর পেজের এডমিন আব্দুর রাজ্জাক কে বলেন, ” ইতিমধ্যে উপজেলা দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের উদ্যোগে উপজেলার ইউনিয়ন পর্যায়ে সড়কের দুপাশে তালগাছের বীজ রোপণ হয়েছে। তাছাড়াও পরিবেশ বান্ধব গুরুত্বপূর্ণ ও আমাদের ঐতিহ্যের এই খেঁজুর গাছ টিকিয়ে রাখতে আমাদের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে, গণসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে এবং বেশি বেশি করে সাধ্য মতো খেঁজুর গাছ রোপন করতে হবে। সবাইকে এ ব্যপারে উতসাহ প্রদান করেন তিনি”।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *