শনিবার , জুলাই 31 2021
Home / কৃষি ও শিল্প / শিল্পায়নের ফলে যমুনা যেন বুড়িগঙ্গা না হয়

শিল্পায়নের ফলে যমুনা যেন বুড়িগঙ্গা না হয়

টি.এম ইয়াসা

যমুনা প্রবাহ.কম: উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার সিরাজগঞ্জকে ঘিরে দুটি মেগা প্রকল্প গড়ে উঠতে যাচ্ছে। একাটি হলো বিসিক শিল্প পার্ক, অপরটি সিরাজগঞ্জ ইকোনোমিক জোন। ১০২ কোটি ৯ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন বিসিক শিল্পপার্কে ১ লাখ বেকার যুবকের কর্মসংস্থান হবে। ধীরে ধীরে এ অঞ্চলে শিল্পের প্রসার ঘটবে। অপরদিকে সিরাজগঞ্জ ইকনোমিক জোনে বাণিজ্যিক উপাদনের প্রথম বছরে এ অর্থনৈতিক অঞ্চলে ১০ হাজার দক্ষ-অদক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি হবে। পরের ১০ বছরের মধ্যে তা বেড়ে দাঁড়াবে পাঁচ লাখেরও বেশি। এটি আমাদের সিরাজগঞ্জ বাসীর কাছে আর্শীবাদ স্বরুপ। কিন্তু চিন্তার বিষয় এইযে শিল্প কারখানাগুলো নদীর পাড় ঘেষে গড়ে উঠছে। আমি জানি আমাদের বর্তমান সরকার পরিবেশবাদী। তারপরও একটা ঝুঁকি থেকে যায়। এই যে এত বড় মেগা প্রজেক্টে এত বড় বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠছে।এই শিল্প প্রতিষ্ঠান গুলোর বর্জ্য পদার্থ কোথায় গিয়ে পড়বে? এগুলোর জন্য কি সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে? যদি নিয়ে থাকে তবে ভালো, আর যদি না নিয়ে থাকে তবে আমি সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সরকারকে জানাতে চাই আপনারা এর জন্য জরুরী পদক্ষেপ গ্রহণ করুন। আমরা চাইনা ঐ শিল্পকারখানা গুলোর বর্জ্য পদার্থ যমুনাতে মিশুক। নদী দূষণের অন্যতম প্রধান কারণ হলো শিল্প জল। দূষণকারীদের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উত্স হলো শক্ত বর্জ্য নদীতে ফেলে দেওয়া বা ধুয়ে নেওয়া। সর্বাধিক প্রচলিত দূষকগুলির মধ্যে হলো জঞ্জাল পদার্থ, অজৈব পদার্থ, রাসায়নিক, প্লাস্টিক এবং ভারী ধাতু। অনুরূপভাবে, নদীর সাথে বহিরাগত প্রজাতি বা রোগজীবাণু জীবাণুগুলি প্রবর্তনের মাধ্যমে দূষণ দেখা দিতে পারে। নদী দূষণের প্রধান পরিণতির মধ্যে রয়েছে পানির গুণমান হ্রাস, এটি অদম্য। একইভাবে, এটি জীববৈচিত্র্যকে প্রভাবিত করে যা বিষাক্ত পদার্থ বা ইউট্রোফিকেশন প্রক্রিয়া দ্বারা হুমকীযুক্ত।

নদী দূষণ পর্যটন ও কৃষির মতো অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকেও প্রভাবিত করে। পরবর্তী ক্ষেত্রে, সেচের জন্য পানির নিম্নমানের ফল হিসাবে। বিশ্বের বেশিরভাগ নদী কিছুটা দূষণের উপস্থাপন করে, বিশেষত এগুলি যেগুলি বৃহত নগর কেন্দ্রগুলি অতিক্রম করে। নদী দূষিত হওয়ার প্রধান কারণ হলো নগর ও শিল্প কেন্দ্র থেকে আগত তাদের বয়ে যাওয়া জলের স্রাব। এই স্রাবগুলি নর্দমা ব্যবস্থা থেকে উভয়ই আসতে পারে এবং বৃষ্টির কারণে পানিতে পৃষ্ঠের উপরে বহন করতে পারে। শিল্প বর্জ্যগুলি নদীতে পৌঁছায় তার মধ্যে মলিক পদার্থ এবং প্রডাক্ট ধ্বংসাবশেষ অন্তর্ভুক্ত। এই জাতীয় বর্জ্য বিশেষত বিপজ্জনক কারণ এটি প্যাথোজেনিক অণুজীবগুলিতে অবদান রাখে যা বিভিন্ন রোগের কারণ করে।দূষিত জলের সাথে জড়িত রোগগুলির মধ্যে হলো ডায়রিয়া, হেপাটাইটিস, টাইফয়েড জ্বর এবং কলেরা।শিল্পে ব্যবহৃত সাবান এবং সারফ্যাক্ট্যান্টগুলি চিকিত্সা ছাড়ানো নিকাশির মাধ্যমে নদীতে পৌঁছতে পারে। ডিটারজেন্টগুলি অত্যন্ত দূষিত হয়, কারণ তারা তাদের পৃষ্ঠের টান ভেঙে সরাসরি কোষের ঝিল্লিগুলিকে প্রভাবিত করে।শিল্পগুলি তাদের নিকাশী ব্যবস্থায় সমস্ত ধরণের বর্জ্য রাসায়নিক সংযুক্ত করে এবং যদি এই বর্জ্যগুলি সঠিকভাবে চিকিসা না করা হয় তবে তারা নদীগুলিকে প্রভাবিত করে। সবচেয়ে সাধারণ দূষণকারীগুলির মধ্যে রয়েছে ভারী ধাতু যেমন পারদ, ক্যাডমিয়াম, সিসা, আর্সেনিক, নিকেল এবং ক্রোমিয়াম।নদীর দূষণ তাদের উপর নির্ভরশীল সম্প্রদায়ের জন্য গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। দূষিত নদীগুলি রোগজনিত অণুজীবের উত্স হয়ে ওঠে যা রোগের কারণ হয় এবং তাদের জলের ত্বকের সমস্যা হতে পারে। পারদ, সীসা বা আর্সেনিকের মতো ভারী ধাতু দ্বারা দূষিত জলের ব্যবহার মারাত্মক বিষক্রিয়া সৃষ্টি করে। কিছু প্যাথলজগুলির মধ্যে যা স্নায়ুতন্ত্রের পরিবর্তনগুলি, এন্ডোক্রাইন ভারসাম্যহীনতা এবং কিডনির সমস্যার বাইরে দাঁড়াতে পারে। সুতরাং শিল্প কারখানা গুলোর বর্জ্য নিষ্কাশনের জন্য ভালো ব্যবস্থা নিতে হবে। নদী বাঁচলে পরিবেশ ও প্রাণী উভয়ই বাঁচবে। আমরা চাইনা শিল্প কারখানা গুলোর বর্জ্য যমুনাতে মিশুক। এর জন্য যথোপযোগী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। আমরা যমুনাকে বুড়িগঙ্গা হতে দিতে চাই না। আমরা সরকারের হাত ধরে যমুনাকে বাঁচাতে চাই।

লেখক: টি.এম ইয়াসা, (বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার্থী)

About jamuna

আবার চেষ্টা করুন

বেলকুচিতে বায়াতুস সালাত জামে  মসজিদের উদ্বোধন

জহুরুল ইসলাম, উপজেলা প্রতিনিধি || যমুনাপ্রবাহ.কম বেলকুচি : সিরাজগঞ্জের বেলকুচি পৌর এলাকার শেরনগর পশ্চিম পাড়া বায়াতুস …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।