সদ্য সংবাদ
Home / অপরাধ / রায়গঞ্জে ছেলে নৌকার সমর্থক হওয়ায় বাবাকে কুপিয়ে জখম

রায়গঞ্জে ছেলে নৌকার সমর্থক হওয়ায় বাবাকে কুপিয়ে জখম

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিরাজগঞ্জ

যমুনাপ্রবাহ.কম: ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ছেলে আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থীর নৌকা প্রতিকের পক্ষে কাজ করায় তার বাবাকে কুপিয়ে জখম করেছে চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা।
ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার (১৬ নভেম্বর) সকালে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার পাঙ্গাসী ইউনিয়নের বৈকুন্ঠপুর গ্রামে। আহত গোলাম রসুল তালুকদার ফিরোজকে সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি বৈকুন্ঠপুর গ্রামের মৃত আবু বক্কার তালুকদারের ছেলে।
এ ঘটনায় আহত গোলাম রসুল তালুকদারের ছেলে এহতেসাম উদ্দিন তালুকদার রোমেল বাদী হয়ে একই গ্রামের মৃত করম আলী খানের ছেলে নারুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক বেলাল হোসেন খান, সদর আলী সেখের ছেলে ঘোতা সেখ, আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে জাকারিয়া, মঙ্গলা সেখের ছেলে হোসেন আলী ও হাসান আলী সরকারের ছেলে সেলিম সরকারসহ অজ্ঞাত ৪/৫জনকে আসামী করে রায়গঞ্জ আমলী আদালতে মামলা দায়ের করেছেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ১১ নভেম্বর পাঙ্গাসী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আসামীদের বিপরীত প্রার্থীর পক্ষে কাজ করায় বাদীর বাবার উপর ক্ষিপ্ত ছিল। এরই এক পর্যায়ে মঙ্গলবার সকালে বাদীর বাবা ভিকটিম গোলাম রসূল তালুকদার ফিরোজ বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে তার উপর বেলাল হোসেন খানের নেতৃত্বে রাম দা, লোহার রড, বাটামসহ দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে আসামীরা হামলা করে। এ সময় তারা লোহার রড ও লাঠি দিয়ে গোলাম রসূল তালুকদার ফিরোজকে বেদম মারপিট করতে থাকে। এক পর্যায়ে হত্যার উদ্দেশ্যে ভিকটিমকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথায় আঘাত করে। এ সময় তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে আসামীরা হুমকি দিতে দিতে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেছে।
মামলার বাদী আরও বলেন, মামলার প্রধান আসামী বেলাল হোসেন খান একজন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। তিনি পাঙ্গাসী ইউনিয়নের নারুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। ১১ নভেম্বরের ইউপি নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার ও সংঘর্ষের ঘটনা তাকে আসামী করে পুলিশ বাদী হয়ে আরও একটি মামলা দায়ের করে।
স্থানীয়রা জানান, আওয়ামীলীগের নাম ব্যবহার করে বেলাল হোসেন খান এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। তারই অংশ হিসেবে এ ধরণের হামলার ঘটনা ঘটানো হয়েছে। স্কুলের শিক্ষক হওয়া স্বত্বেও তিনি সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে লিপ্ত রয়েছেন। ফলে এলাকার জনগণ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। কিন্তু প্রভাবশালী হওয়ার কারণে তার বিরুদ্ধে মুখ খোলার সাহস করেনি কেউ।
এ ব্যাপারে রায়গঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহীদুল ইসলাম বলেন, মামলার বিষয়টি আমার জানা নেই। কোর্টের নির্দেশনা এলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ ব্যাপারে স্থানীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. আব্দুল আজিজ সরকার বলেন, আওয়ামীলীগে সন্ত্রাসীর কোন স্থান নেই। সন্ত্রাসী যে দলেরই হোক তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

About jamuna

আবার চেষ্টা করুন

নির্বাচনী কন্ট্রোল রুমে পাল্টে গেল ভোটের ফল: আদালতে স্বতন্ত্র প্রার্থী

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিরাজগঞ্জ যমুনাপ্রবাহ.কম: সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার বাঙালা ইউনিয়নের পশ্চিম সাতবাড়ীয় এবতেদায়ী মাদ্রাসা ভোট কেন্দ্রে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *