সদ্য সংবাদ
Home / গুরুত্বপূর্ণ / যমুনার ভাঙ্গণে বিলিন চৌহালীর ১৫ গ্রাম

যমুনার ভাঙ্গণে বিলিন চৌহালীর ১৫ গ্রাম

চৌহালী প্রতিনিধি, যমুনাপ্রবাহ.কম
সিরাজজগঞ্জ: সিরাজগঞ্জের চৌহালি উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে যমুনা নদীর ভাঙ্গণে বিলিন হয়েছে ১০টি গ্রাম। যমুনাগর্ভে নিশ্চিহৃ হওয়ার পথে রয়েছে আরও আট গ্রাম। ইতিমধ্যেই এসব গ্রামের পাঁচ শতাধিক বাড়িঘর ও অন্তত দুই হাজার বিঘা ফসলি জমি হারিয়ে গেছে যমুনার গর্ভে। হুমকির মুখে আছে আরও দুই শতাধিক বাড়ি ও স্থাপনা।
এদিকে, ভাঙ্গন রোধে পনি উন্নয়ন বোর্ড কার্যকরী কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। ভাঙ্গনের প্রতিরক্ষামুলক ব্যবস্থা গ্রহনের দাবিতে যমুনা পাড়ে মিছিল, মিটিং ও মানববন্ধন করেছে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। ঘরবাড়ি হারানো মানুষগুলো নিঃস্ব হয়ে বসে গেছেন পথে। চোখের সামনে একের পর এক ঘরবাড়ি,জমিজমাসহ বিভিন্ন স্থাপনা যমুনাগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ায় তারা আজ দিশেহারা হয়ে পড়েছে।
মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাওয়া গ্রামগুলো হলো-মিটুয়ানি, আরমাশুকা, বীরমাশুকা, বীরবাউনিয়া, খাসপুখুরিয়া, বাঘুটিয়া, সম্ভুদিয়া, চৌবাড়িয়া ,হাপানিয়া, চর সলিমাবাদ পশ্চিমপাড়া, হাটাইল, কাশেমগঞ্জ, দত্তকান্দি, পয়লা, হিজুলিয়া। আংশিক ভাঙ্গনের শিকার গ্রামগুলো হলো-খাষপুখুরিয়া উত্তর, খাষপুখুরিয়া দক্ষিন, রেহাই পুখুরিয়া, চরনাকালিয়া, চরবিনানই, চরসলিমাবাদ, ভুতের মোড়।
বাঘুটিয়া, খাষপুখুরিয়া, ঘোরজান, স্থল ও উমারপুর ইউনিয়নের গ্রামবাসী এখন পরিবার নিয়ে হতাশায় ভুগছেন।

এ বিষয়ে বীরবাউনিয়া গ্রামের সাইফুল ইসলাম,শাকপাল গ্রামের আইয়ুব আলী, খাসপুখুরিয়া গ্রামের আব্দুল মালেক,মিটুয়ানি গ্রামের গোলাম মোস্তোফা, বাঘুটিয়া গ্রামের আবু মুছা, চর সলিমাবাদ গ্রামের কামরুল ইসলাম, ঘুষুরিয়া গ্রামের সেলিম হোসেন, সম্ভুদিয়া গ্রামের সালাউদ্দিন জানান, এ বছর বর্ষা মৌসুম শুরুর পর থেকেই চৌহালী উপজেলার এ ৫টি ইউনিয়নে ব্যাপক ভাঙ্গণ শুরু হয়। এরই মধ্যে শতাধিক বাড়িঘর, ২ হাজর বিঘা ফসলি জমি নদী গর্ভে চলে গেছে। ভাঙন আতঙ্কে মানুষ বাড়িঘর সরিয়ে নিচ্ছে।

এ বিষয়ে চৌহালি উপজেলার বাঘুটিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল কাহার সিদ্দীকি, প্রায় এক যুগ ধরে চৌহালি
উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের গ্রাম গুলি যমুনা নদী ভাঙ্গণের মুখে পড়েছে। গ্রাম গুলি ভাংতে ভাঙতে ক্রমশ মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। অথচ এ ভাঙ্গণ রোধে বার্যকরি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছেনা। ফলে এ সব এলাকার শা শত ঘরবাড়ি,সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন স্থাপনা ও ফসলি জমি একের পর এক যমুনা নদী গর্ভে বিলিন হয়ে যাচ্ছে। এতে এ উপজেলার অন্তত ১০ হাজার মানুষ সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছে। নিরুপায় হয়ে তারা আন্দোলন শুরু করেছে।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম বলেন,চৌহালির ভাঙ্গণ রোধে টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ড কাজ করছে। তারা এ বিষয়ে কি ব্যবস্থা নিয়েছে তা তারাই ভাল বরতে পারবে।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম বলেন, ভাঙ্গণ রোধে এখন ওই এলাকায় জিওটেক্স বালুর বস্তা ফেলার কাজ চলছে। এ ছাড়া ওই এলাকায় স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের জন্য সাড়ে ৬০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প জমা দেওয়া আছে। প্রকল্পটি অনুমোদন হলেই ওই এলাকায় স্থায়ী বাধ নির্মাণের কাজ শুরু করা হবে।

About jamuna

আবার চেষ্টা করুন

সিরাজগঞ্জে পৃথক সড়ক দূর্ঘটনায় মহিলাসহ নিহত ২ (ভিডিওসহ)

আপডেট সময় : ০৬:২০ ঘন্টা: ১৩ মে, ২০২১ নিজস্ব প্রতিবেদক || যমুনাপ্রবাহ.কম সিরাজগঞ্জ : সিরাজগঞ্জ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *