শনিবার , জুলাই 31 2021
Home / আইন আদালত / ময়নাতদন্তে আত্মহত্যার উল্লেখ, অথচ হত্যার দায় স্বীকার আসামীর

ময়নাতদন্তে আত্মহত্যার উল্লেখ, অথচ হত্যার দায় স্বীকার আসামীর

নিজস্ব প্রতিবেদক || যমুনাপ্রবাহ.কম

আপডেট সময়: ১৬০৩ ঘন্টা : ০৩ মে : ২০২১

সিরাজগঞ্জ: সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার চাঞ্চল্যকর নুর ইসলাম (৪৮) হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) টিম। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে আত্মহত্যা ও পুলিশের চার্জসীটেও আত্মহত্যার উল্লেখ করা হলেও এ হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দী দিয়েছেন আসামী ওমর ফারুক (২৫)। জোরপূর্বক যৌন সঙ্গম করতে বাধ্য করাতেই এ হত্যাকান্ড ঘটানো হয়েছে বলে জানান তিনি।

সোমবার (০৩ মে) দুপুরে চক সদর উপজেলার শিয়ালকোল এলাকার নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন পিবিআই সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. রেজাউল করিম।

তিনি বলেন, ২০১৮ সালের জুন ২৮ জুন বেলকুচি উপজেলার ধুকুরিয়া বেড়া থেকে বরই গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় নুর ইসলামের মরদেহ উদ্ধার করে থানা পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী মনো বেগম বাদী হয়ে ওমর ফারুকসহ তার পরিবারের চার জনকে আসামী করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা জেনারেল হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. ফয়সাল আহম্মেদ নিহত নুর ইসলামের মরদেহের ময়নাতদন্ত করেন। ময়নাতদন্ত শেষে এটিকে আত্মহত্যা উল্লেখ করে রিপোর্ট দেয়া হয়।

ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পর্যালোচনা এবং তদন্ত শেষে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আব্দুল আলীম নুর ইসলাম নিহতের ঘটনাটিকে আত্মহত্যা উল্লেখ করে প্ররোচনার অভিযোগে তিন আসামীকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জসীট দাখিল করেন। এদিকে বাদী ওই চার্জসীটে নারাজি দাখিল করলে মামলাটি তদন্তের জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দেন আদালত। পিবিআই মামলাটি হাতে নিয়েই প্রধান আসামী ওমর ফারুককে গ্রেফতারে চেষ্টা চালায়। এ অবস্থায় চলতি বছরের ১ এপ্রিল আদালতে আত্মসমর্পণ করেন ওমর ফারুক। পিবিআইয়ের তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই কামরুল হাসান আসামীর রিমান্ডের আবেদন করলে বিচারক দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে হত্যার দায় স্বীকার করে ওমর ফারুক। হত্যার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, তাকে দিয়ে বার বার জোরপূর্ব যৌন সঙ্গম করতে বাধ্য করার কারণেই নুর ইসলামকে গলাটিপে হত্যা করা হয়েছে।

ওমর ফারুক জানায়, বেকার ওমর ফারুককে টাঙ্গাইলে তাঁতশ্রমিকের কাজ নিয়ে দেয় নুর ইসলাম। তারা দুজন একই সঙ্গে থাকে। একই খাটে ঘুমানো অবস্থায় নুর ইসলাম ওমর ফারুককে তার উপর যৌন সঙ্গম করতে বলে। এক পর্যায়ে তাকে জোরপূর্বক যৌন ক্রিয়া করতে বাধ্য করে। ধীরে ধীরে ভিকটিম নুর ইসলাম আসামী ফারুকের প্রতি দূর্বল হতে থাকে। এমনকি একজন পুরুষ হয়েও অপর পুরুষ ওমর ফারুককে বিয়ে করতে চায়। কিন্তু এতে আসামী ওমর ফারুক বিব্রত ও মনে মনে ক্ষুব্ধ হয়।

ঘটনার আগের দিন রাতে নুর ইসলামকে সাথে নিয়ে নিজের বাড়িতে আসে ওমর ফারুক। তারা একই ঘরে ঘুমোতে যান এবং রাত দেড়টার দিকে নুর ইসলাম তার সাথে যৌন সঙ্গমের জন্য চাপ দেয়। ফারুক অস্বীকার করলে উভয়ের মধ্যে তর্কাতর্কি ও ধাক্কাধাক্কি হয়। এক পর্যায়ে নুর ইসলামকে মেঝেতে শুইয়ে গলাটিপে হত্যা করে ফারুক। এরপর মরদেহ টেনে বাড়ির পাশের ক্ষেতের মধ্যে বরই গাছের কাছে নিয়ে ঝুলিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে। একা একা এ কাজটি করতে না পেরে তার বাবা আব্দুর রহমান ও মা নাজমা খাতুনকে ডেকে এনে বরই গাছে ঝুলিয়ে রেখে ওমর ফারুক পালিয়ে যায়।

About jamuna

আবার চেষ্টা করুন

বেলকুচিতে বায়াতুস সালাত জামে  মসজিদের উদ্বোধন

জহুরুল ইসলাম, উপজেলা প্রতিনিধি || যমুনাপ্রবাহ.কম বেলকুচি : সিরাজগঞ্জের বেলকুচি পৌর এলাকার শেরনগর পশ্চিম পাড়া বায়াতুস …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।