সদ্য সংবাদ
Home / গুরুত্বপূর্ণ / মেয়াদ শেষ হলেও শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজের নির্মাণ কাজ শেষ হয়নি

মেয়াদ শেষ হলেও শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজের নির্মাণ কাজ শেষ হয়নি


বিশেষ প্রতিনিধি || যমুনাপ্রবাহ.কম

আপডেট: ১০-১২ ঘন্টা ২৩ এপ্রিল: ২০২১

সিরাজগঞ্জ: মেয়াদ শেষ হলেও সিরাজগঞ্জের শহীদ এম. মনসুর আলী মেডিকেল কলেজে ও হাসপাতাল প্রকল্পের নির্মাণ কাজ এখনো শেষ হয়নি। এ প্রকল্পের হাসপাতাল ও কলেজে মাটি ভরাট ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণকাজে প্রথম থেকেই গরিমসির অভিযোগ রয়েছে। শিক্ষার্থীদের জন্য একাডেমিক ভবন নির্মাণ হলেও রাস্তাঘাট, পুকুর, কালভার্ট, বাগান, ফায়ার ও পাওয়ার স্টেশনের কাজ এখনও বাকি। বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান গণপূর্ত বিভাগকে বারবার সতর্ক করা হলেও কোনো কাজ হচ্ছে না। ২০১৪ সালে শুরু হওয়া প্রকল্প পাঁচ বছরের মধ্যে শেষ করার কথা থাকলেও ধাপে ধাপে সময় বাড়ানো হয়।
এদিকে, প্রকল্প সঠিক সময়ে বাস্তবায়ন না হওয়ায় রোগীদের আউটডোর চালুও সম্ভব হয়নি। কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে কেনা হাসপাতালের যন্ত্রপাতি-সরঞ্জাম ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। পরিচালকের কার্যালয়সহ প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনায় নির্ধারিত কক্ষগুলো ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। চার মাস আগে হাসপাতালটির নির্মাণকাজ পরিদর্শন করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম। করোনায় রোগীদের নমুনা পরীক্ষা, টিকা ও চিকিসা নিশ্চিত করতে গত ডিসেম্বরের মধ্যে আউটডোর চালুর তড়িঘড়ি নির্দেশ দেন তিনি। তবে এখনও চালু হয়নি আউটডোর। পাঁচ কিলোমিটার দূরে শহরের ২৫০ শয্যার বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে ট্যাগ হয়ে কলেজের বিশেষজ্ঞ চিকিসকরা দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের সময় ও বিড়ম্বনা দুটোই বাড়ছে। নির্মাণকাজের ধীরগতির পাশাপাশি দায়িত্ব পালনে সমন্বয়হীনতার অভিযোগ রয়েছে কলেজের পরিচালক, অধ্যক্ষ ও প্রকল্প পরিচালকের মধ্যেও। সাত মাস আগে যোগদান করলেও নানা অজুহাতেই পরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কাশেম সিরাজগঞ্জে দায়িত্ব পালনে অনিয়মিত। দু’বছর আগে হাসপাতালের ২৪১ কোটি টাকার সরঞ্জাম-যন্ত্রপাতি কেনাকাটায় দুর্নীতির অনুসন্ধানে নামে দুদক। বিষয়টি নিয়ে এরই মধ্যে ফৌজদারি মামলাও করা হয়েছে। মামলায় অভিযুক্ত হওয়ার পর দায়মুক্তি পেতে প্রকল্প পরিচালক প্রায়ই ঢাকা-পাবনা দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। যে কারণে নির্মাণকাজের তদারকিতেও তার অনুপস্থিতি লক্ষণীয়। এ ছাড়া কমকর্তাদের সমন্বয়হীনতার জন্য ১৮২ জন নিম্ন কর্মচারী আউটসোর্সিং জনবল নিয়োগ প্রক্রিয়া ঝুলে আছে। নিরাপত্তা প্রহরীসহ আউটসোর্সিং পদের জনবল না থাকায় এরই মধ্যে হাসপাতালের কোটি কোটি টাকার সরকারি সম্পদও অরক্ষিত।
প্রকল্প কাজে গড়িমসির বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক কৃষ্ণ কুমার পাল বলেন, সাড়ে সাত মাস আগে পরিচালক যোগদান করলেও নানা কারণেই সিরাজগঞ্জে অনিয়মিত। সঠিক সিদ্ধান্ত ও পরামর্শের অভাবে উন্নয়ন ব্যাহত হলেও অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয় থেকে আমাকেই এককভাবে দায়ী করা হচ্ছে। তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক অনুমোদন না থাকায় পরিচালক ১৮২ জন আউটসোর্সিং জনবল নিয়োগ কার্যক্রম শুরু করেননি।
কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক আমিরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, আউটডোর চালুর জন্য বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান থেকে যে ধরনের প্রস্তুতি দরকার, তার ঘাটতি রয়েছে। তবে চিকিসকদের আন্তরিকতার কোনো ঘাটতি নেই। পরিচালক ডা. আবুল কাশেম মোবাইল ফোনে বলেন, মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক অনুমোদন না থাকায় আউটসোর্সিং জনবল নিয়োগে জটিলতা রয়েছে।
সিরাজগঞ্জে গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী এবিএম হুমায়ন কবীর বলেন, বড় ধরনের প্রকল্পে প্রয়োজন হলে সময় বাড়ানোর বিধান রয়েছে। আউটডোর চালুর জন্য হাসপাতালের নিচতলায় প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। বিদ্যু সংযোগ পেলেই সেটি চালু সম্ভব।

বাংলাদেশ সময়: ১০-১২ ঘন্টা ২৩ এপ্রিল: ২০২১

About jamuna

আবার চেষ্টা করুন

মা ইলিশ ধরার দায়ে ১৬ জেলের কারাদন্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিরাজগঞ্জ যমুনাপ্রবাহ.কম : সিরাজগঞ্জের তিনটি উপজেলায় যমুনা নদীতে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানে ১৬ জেলেকে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *