সদ্য সংবাদ
Home / গুরুত্বপূর্ণ / মুজিববর্ষে স্থায়ী ঠিকানা পাচ্ছেন সিরাজগঞ্জের ৭৯৬ গৃহহীন পরিবার

মুজিববর্ষে স্থায়ী ঠিকানা পাচ্ছেন সিরাজগঞ্জের ৭৯৬ গৃহহীন পরিবার

নিজস্ব প্রতিবেদক || যমুনাপ্রবাহ.কম

সিরাজগঞ্জ: রেলসড়কের ধারে কিংবা নদী তীর সংরক্ষণ বাঁধের ঢালে ঝুপড়ি ঘরে এতদিন যাদের ছিল আশ্রয়-মুজিব শতবর্ষে সেইসব গৃহহীন পরিবার পাচ্ছে স্থায়ী ঠিকানা। প্রথম দফায় সিরাজগঞ্জ জেলার ৭৯৬টি পরিবার পাচ্ছে তাদের  স্বপ্নের ঠিকানা। মাথাগোঁজার ঠাঁই হচ্ছে প্রায় আড়াই হাজার মানুষের।

বৃহস্পতিবার (২১ জানুয়ারি) জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়,  “আশ্রয়নের অধিকার শেখ হাসিনার উপহার” এ শ্লোগানকে সামনে রেখে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় নির্মিত হয়েছে ঘর। দীর্ঘদিন প্রভাবশালীর দখলে থাকা খাস জমি উদ্ধার করে সেখানে সেখানে এসব ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। এ প্রকল্প মনিটরিং করছেন সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা।

জেলার সদর উপজেলায় ২০৭, তাড়াশে ১৫২, শাহজাদপুরে ১৫০, রায়গঞ্জে ১০০, কামারখন্দে ৬০, উল্লাপাড়ায় ৪২, বেলকুচিতে ৪০, কাজিপুরে ৩৫ ও চৌহালীতে ১০টি ঘর নির্মানকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত দুই কক্ষ বিশিষ্ট সেমিপাকা  ঘরের সাথে ২ শতাংশ জমি প্রতিটি পরিবারকে দেয়া হবে। জমির দলিল তৈরির প্রক্রিয়াও শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ রহমত উল্লাহ জানান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে গৃহহীন পরিবারকে ঘর নির্মাণ করে দেয়া হচ্ছে। দুই শতাংশ জমিসহ ঘর প্রতিটি পরিবারকে পৃথকভাবে রেজিষ্ট্রি করে দেয়া হবে। এই রেজিষ্ট্রি খরচ ২৪৩ টাকা, স্ট্যাম ৫ টাকা এবং নামজারী খরচ ১১৫০ টাকা ব্যয় হচ্ছে। যে খরচ সম্পূর্ণ সরকারিভাবে বহন করা হচ্ছে। দরিদ্র গৃহহীন পরিবারকে একটি টাকা খরচ করতে হচ্ছে না।

তিনি বলেন, আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত দুই কক্ষবিশিষ্ট ঘর। এরই মধ্যে কাজের অগ্রগতি প্রায় শেষের দিকে। আগামী জানুয়ারি মাসের মধ্যে ঘরগুলো গৃহহীনদের মাঝে বরাদ্দ দেয়া হবে। ১ম পর্যায়ে জেলার গৃহহীনদের ৭৯৬ টি ঘর নির্মানে ব্যায় হচ্ছে ১৩ কোটি ৬১ লক্ষ ১৬ হাজার টাকা।অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ তোফাজ্জল হোসেন জানান, মুজিববর্ষ উপলক্ষে সরকার কর্তৃক প্রদেয় এই প্রকল্প অত্যন্ত সুন্দরভাবে সম্পন্ন হওয়ার পথে। কিছু অসম্পন্ন কাজ সমাপ্ত হওয়ার পর অল্প কয়েকদিনের মধ্যে এই ঘরগুলো ঘরহীন অসহায় পরিবারগুলোর মধ্যে বরাদ্দ দেয়া হবে। এই ঘর বরাদ্দে কোনো প্রকার তদবির ও অনৈতিক সুযোগ-সুবিধা যেন কেউ নিতে না পারে সেজন্য সঠিক তদারকি করা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।

বৃহস্পতিবার (২১ জানুয়ারি) দুপুরে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে জেলা প্রশাসক ড. ফারুক আহাম্মদ বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানই সর্বপ্রথম দেশের ভূমিহীন মানুসের পূণর্বাসনের উদ্যোগ নেন। ১৯৭২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি তৎকালিন নোয়াখালি জেলার লক্ষীপুর চরপোড়াগাছা গ্রামে পরিদর্শনে যান এবং ভূমিহীন-গৃহহীন অসহায়দের পূণর্বাসনের নির্দেশ দেন। ১৯৯৬ সালে নির্বাচিত হয়ে আওয়ামীলীগ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৭ সালে ‘আশ্রয়ণ’ নামে একটি প্রকল্প গ্রহণ করেন।

এরই ধারবাহিকতায় মুজিব বর্ষ উপলক্ষে গৃহহীনদের জমি ও ঘর দেয়ার প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সিরাজগঞ্জ জেলার ৭৯৬টি পরিবারের অন্তত আড়াই হাজার সদস্য পাচ্ছেন স্থায়ী আশ্রয়। ইতিমধ্যে রেজিষ্ট্রিশন সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ২৩ জানুয়ারী সারাদেশের সাথে একযোগে সিরাজগঞ্জেও এসব পরিবারকে দলিলসহ ঘর হস্তান্তর করা হবে।

আবার চেষ্টা করুন

সিরাজগঞ্জে ইটভাটার চুলার দেয়াল ধসে শ্রমিক নিহত

নিজস্ব প্রতিবেদক || যমুনাপ্রবাহ.কম আপডেট সময়: ০২ঃ০৮ ঘন্টা: ১১ মে : ২০২১ সিরাজগঞ্জ: সিরাজগঞ্জে ইটভাটার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *