সদ্য সংবাদ
Home / চিত্র-বিচিত্র / অসীম সাহার কবিতা

অসীম সাহার কবিতা


মানবজন্ম
আপডেট সময়: ০৬৫৪ ঘন্টা: ১৩ মে, ২০২১

জন্মান্তরে আমার কোনো বিশ্বাস নেই;
তবু যদি সত্যি-সত্যিই কোনো মাতৃগর্ভে পুনরায়
আমার ভ্রূণ একটু-একটু করে বেড়ে উঠতে থাকে
আমি যেন পরজন্মে মানুষ হয়ে জন্মাই।
এই বিশ্বে আমি তো হিন্দুর ঘরে জন্ম নিয়ে দেখলাম
এই বিশ্বে আমি তো বৌদ্ধর ঘরে জন্ম নিয়ে দেখলাম
এই বিশ্বে আমি তো খ্রীস্টানের ঘরে জন্ম নিয়ে দেখলাম
এই বিশ্বে আমি তো মুসলমানের ঘরে জন্ম নিয়ে দেখলাম!
শুধু বিশ্বাস থেকে বিশ্বাসের বদল হলো—
সাপ যে-রকমভাবে তার দেহের খোলস বদলায়
তেমনি করে খোলস বদল হলো বিশ্বাসের;
মানুষ কখনো প্রকৃত মানুষ হয়ে উঠতে পারলো না।
আমি ‘হিন্দু’ বলে মাতৃমূর্তির সামনে বলী হলো নিরীহ শাবক
আমি ‘বৌদ্ধ’ বলে আমার প্রার্থনা লুপ্ত হলো লৌহ-কারাগারে
আমি ‘খ্রীস্টান’ বলে ক্রসেডের রক্তে ভরে উঠলো সিক্ত পৃথিবী
আমি ‘মুসলমান’ বলে বিধর্মীর নামে ধর্ষিত হলো পূর্ণিমারা।
ধর্ম তো রক্তের উত্তরাধিকার নয়—অন্ধের বিশ্বাস;
অন্ধকে পথ দেখাতে পারে—পৃথিবীতে এমন মানুষ কই?
টু-ইন-টাওয়ারে, গোধরায়, গুজরাটে, আফগানিস্তান ও বাংলায়
ধর্মোন্মাদনার যে অগ্নি-উপাখ্যানসমূহ রচিত হলো,
তার রচয়িতারা কেউ অধার্মিক ছিলেন না।
মানুষের জীবনের চেয়ে, ফুলের সৌন্দর্যের চেয়ে,
পাখির কুহুতানের চেয়ে, ভোরের সূর্যোদয়ের চেয়ে,
শিশুর অনাবিল হাসির চেয়ে, আকাশের মেঘমল্লারের চেয়ে
সঙ্গীতের মূর্ছনার চেয়ে, নদীর কল্লোলের চেয়ে
মানুষের স্বপ্নের চেয়ে, জীবনের অন্তহীন তৃষ্ণার চেয়ে
চিত্তের বৈভবের চেয়ে, কামনার মধুর উন্মাদনার চেয়ে
রক্তের উত্তরাধিকারের চেয়ে, মাতৃভ‚মির স্বাধীনতার চেয়ে
অন্ধকারই যাদের একমাত্র আরাধ্য
কিংবা অন্ধ বিশ্বাসই যাদের একমাত্র অবলম্বন
তারা মানুষকে ভালোবাসতে পারে না
তারা শিশুকে ভালোবাসতে পারে না
তারা নারীকে ভালোবাসতে পারে না
তারা প্রকৃতিকে ভালোবাসতে পারে না।
আমি তা হলে তাদের উত্তরাধিকারের জন্যে
আবার কোনো মাতৃগর্ভকে কলুষিত করবো কেন?
যদি পরজন্ম বলে সত্যিই কিছু থাকে
তা হলে আমি যেন সে-জন্মে শুধুমাত্র মানুষ হয়েই জন্মাই।

About jamuna

আবার চেষ্টা করুন

তাড়াশে ৪৩টি মন্ডপে শারদীয় দুর্গাপুজা

মহসীন আলী, তাড়াশ প্রতিনিধি যমুনাপ্রবাহ.কম: সিরাজগঞ্জের তাড়াশে এবার ৪৩টি মন্ডপে শারদীয় দূর্গা পুজা।করোনা সংক্রমনের কারনে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *