সদ্য সংবাদ
Home / সারাদেশ / রাজশাহী বিভাগ / ভিক্ষার টাকা ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে খুন হয় ভিক্ষুক চাপা

ভিক্ষার টাকা ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে খুন হয় ভিক্ষুক চাপা

শেখ সাখাওয়াত হোসেন || যমুনাপ্রবাহ.কম
প্রকাশ কাল: ১৫৪৪ ঘন্টা, জুন ২৯, ২০২১
ভাঙ্গুড়া (পাবনা) থেকে: পাবনার ঈশ্বরদীতে প্রতিবন্ধী ভিক্ষুক হত্যার চারদিন পর মূল রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। খুনের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জড়িতরা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানান পাবনার পুলিশ সুপার মোঃ মহিবুল ইসলাম।
সোমবার (২৮ জুন) দুপুরে পাবনার ঈশ্বরদী থানায় আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার মহিবুল ইসলাম এসব তথ্য জানান। গত,(২৪ জুন) গভীর রাতে ঈশ্বরদী উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের সলিমপুর রহিমপুর গ্রামে মোঃ জাহিদুল ইসলাম প্রামানিকের বাড়ীর শয়ন কক্ষ থেকে প্রতিবন্ধী ভিক্ষুক মিলন হোসেন ওরফে চাপার (৩২) রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে ঈশ্বরদী থানা পুলিশ। খুনের ঘটনার সন্দেহে পুলিশ সে সময় আওতাপাড়া থেকে মোঃ জাহিদুল ইসলামের স্ত্রী ছামেলা খাতুনকে গ্রেপ্তার করে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়। প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার জানান,নিহত যুবকের প্রকৃত নাম মিলন হোসেন। তিনি ফরিদপুর জেলার নগরকান্দা গ্রামের আবু বক্কার মাতব্বরের ছেলে। তিনি শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারতেন না। চুয়াডাঙ্গা দামুড়হুদা থানার দর্শনায় ভূমিহীন পাড়ায় তার শ্বশুরবাড়ীতে থেকে ভিক্ষা করতেন প্রতিবন্ধী ভিক্ষুক মিলন হোসেন। পুলিশ এই হত্যার রহস্য তদন্তের জন্য ঈশ্বরদীর শাকিল হোসেন ও সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া গ্রাম থেকে জাহিদুল প্রামানিক ও নিরন্জন দাসকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসে। জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায়, প্রায় ছয় বছর পূর্বে মিলনের সঙ্গে জাহিদুলের পরিচয় হয়। পরিচয়ের সুবাদে মোঃ জাহিদুল ইসলাম ও মিলন হোসেন একসঙ্গে চুয়াডাঙ্গা এলাকায় ভিক্ষা করত। পরবর্তীতে তারা পাবনার চাটমোহর উপজেলার রেলবাজার এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে ভিক্ষা শুরু করে। দুই মাস ভিক্ষা করার পর মিলন হোসেন ও জাহিদুলের মধ্যে ভিক্ষার টাকা ভাগাভাগি নিয়ে চরম বিরোধ বাধে। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে ঝগড়াও হয়।এই ঘটনার পর জাহিদুল,তার স্ত্রী ছামেলা খাতুন,ছেলে শাকিল ও সহযোগী নিরন্জন দাস মিলে প্রতিবন্ধী মিলনকে হত্যার পরিকল্পনা করে। হত্যার পরিকল্পনা অনুযায়ী গত, (২৪ জুন) দিবাগত রাত একটায় প্রতিবন্ধী মিলনকে তারা বালিশ চাপায় শ্বাসরোধ ও ব্লেড দিয়ে শরীর কেটে তাকে হত্যা করে বাড়ীর পাশের একটি শয়ন কক্ষে লাশ লুকিয়ে রাখে। পুলিশ লাশ উদ্ধারের পর খুনের ঘটনা সম্পর্কে নিশ্চিত হোন। পুলিশ সুপার আরো জানান, গ্রেফতার চারজনকে হত্যা মামলায় গ্রেফতারের পর গত,রোববার (২৭ জুন) পাবনা আদালতে হাজির করা হলে তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। উক্ত প্রেস ব্রিফিংয়ে আরো উপস্থিত ছিলেন ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফিরোজ কবির ও থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ হাদিউল ইসলাম প্রমুখ।

About jamuna

আবার চেষ্টা করুন

নির্বাচনী কন্ট্রোল রুমে পাল্টে গেল ভোটের ফল: আদালতে স্বতন্ত্র প্রার্থী

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিরাজগঞ্জ যমুনাপ্রবাহ.কম: সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার বাঙালা ইউনিয়নের পশ্চিম সাতবাড়ীয় এবতেদায়ী মাদ্রাসা ভোট কেন্দ্রে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *