সদ্য সংবাদ
Home / সারাদেশ / রাজশাহী বিভাগ / ভাঙ্গুড়ায় সাড়ে ১০ লাখ টাকা যৌতুকে বাল্যবিয়ের আড়াই বছর পর লাশ

ভাঙ্গুড়ায় সাড়ে ১০ লাখ টাকা যৌতুকে বাল্যবিয়ের আড়াই বছর পর লাশ

শেখ সাখাওয়াত হোসেন, উপজেলা প্রতিনিধি || যমুনাপ্রবাহ.কম
প্রকাশ কাল: ১৫৫৭ ঘন্টা, জুন ৩০, ২০২১
ভাঙ্গুড়া (পাবনা) : পাবনার ভাঙ্গুড়ায় সাড়ে ১০ লাখ পঞ্চাশ টাকা যৌতুকে রাখী খাতুন (১৬) নামের এক স্কুল ছাত্রীর বাল্য-বিবাহের প্রায় আড়াই বছরের মাথায় পারিবারিক কলহের যেরে ওই গৃহবধূর আত্নহত্যার ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার পাঁরভাঙ্গুড়া ইউনিয়নের সাত নং ওয়ার্ডের ভেড়ামারা পূর্বপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। রাখি ঐ এলাকার সেনা সদস্য সুজন আহম্মেদের স্ত্রী ও মোকছেদ আলীর পুত্রবধূ এবং ভেড়ামারা দিয়ার পাড়া এলাকার হারুণ অর রশিদের কন্যা। নিহতের পিতার দাবী তার মেয়েকে শ্বশুরবাড়ীর লোকজন মেয়েকে নির্যাতন করে হত্যা করেছেন। তবে শ্বশুর বাড়ীর লোকজন দাবী করছেন তাদের পুত্রবধূ আত্মহত্যা করেছেন। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে সুরাত হাল প্রতিবেদন শেষে ময়না তদন্তের জন্য পাবনা সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেছেন। সরজমিনে উপজেলার পাঁরভাঙ্গুড়া ইউনিয়নের ভেড়ামারা এলাকা ঘুরে খোঁজ-খবর নিয়ে জানা গেছে, ২০১৯ সালের দিকে ভেড়ামারা পূর্বপাড়া এলাকার মোকছেদ আলীর ছেলে সুজন আহম্মেদ এর সাথে নগদ ১০ লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা যৌতুকে ভেড়ামারা দিয়ারপাড়া গ্রামের হারুণ অর রশিদ এর মেয়ে ৮ম শ্রেণিতে পড়ুয়া রাখী খাতুনের বিবাহ সম্পন্ন হয়। মূলত শ্বশুর বাড়ীর যৌতুকের টাকা নিয়ে মোটা অঙ্কের উৎকোচ দিয়েই সুজন আহম্মেদ সেনা সদস্যের চাকুরী নিয়েছে বলে এমন অভিযোগ করছেন সুজন আহম্মেদ এর শ্বশুর হারুণ অর রশিদ। কিন্তুু সেনাবাহিনীতে প্রশিক্ষণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত উভয় পক্ষই এই বিবাহের ঘটনা গোপন রাখেন। এভাবেই সুজন আহম্মেদ দুই বছর প্রশিক্ষণ শেষে বাড়ীতে আসলে বিবাহিত বধূ রাখী খাতুনকে তার ঘরে তুলে নেন। বর্তমানে রাখী খাতুন শ্বশুরবাড়ীতে থেকেই ভেড়ামারা উদয়ন একাডেমীর ১০ম শ্রেণিতে পড়ালেখা করত। কিন্তু সম্প্রতি সেনা সদস্য সুজন আহম্মেদ তার জনৈক খালাতো বোনের সঙ্গে পরকীয়ার সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং তাদের সংসারে অশান্তির তৈরি হয়। এ নিয়ে মাঝে মধ্যেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বনিবনা হত না। এমন অবস্থার মধ্যে গত কয়েকদিন আগে সুজন আহম্মেদ ছুটিতে বাড়ীতে এসেছিলেন। ছুটি শেষে সুজন আহম্মেদ বাড়ী থেকে আবার কর্মস্থলে চলে গেলে সোমবার (২৮জুন) দিবাগত রাঁতে তার শয়ন কক্ষে রাখী খাতুনকে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় ঘরের ডাবের সাথে ঝুলতে দেখতে পেয়ে শ্বশুরবাড়ীর লোকজন রাখিকে উদ্ধার করেন। ততক্ষণে রাখি মুত্যুবরণ করেছেন বলে দাবী করেন শ্বশুরবাড়ীর লোকজন। অপর দিকে,রাখী খাতুনের পিতা হারুন অর রশিদ কান্নাজড়িত কণ্ঠে সাংবাদিকদের বলেন,মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে মহিষ বিক্রি করে জামাই সুজন আহম্মেদের চাকুরীবাবদ ১০ লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকার যৌতুক দিয়ে বিবাহ দিয়েছিলাম। কিন্তু চাকুরী পেয়ে প্রশিক্ষণ শেষে সেই জামাই তার মেয়ের সাথে ভালো আচরণ করে নাই। সেই কারণে তার মেয়ে আজ লাশ হলো। সুজন আহম্মেদ ও রাখী খাতুন এর বিবাহ নিবন্ধক ভেড়ামারা এলাকার কাজী মোক্তার হেসেন বলেন ,ছয় (০৬) লক্ষ টাকা দেনমোহরে প্রায় ২ বছর পূর্বে তাদের বিবাহ পড়ানো হয়েছে মর্মে স্বীকার করেছেন। ঝুলন্ত গৃহবধুর লাশ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন ভাঙ্গুড়া থানার ডিউটি অফিসার এসআই হেমায়েত উদ্দিন।ঘটনার বিষয়ে ভাঙ্গুড়া থানার ওসি মুঃ ফয়সাল বিন আহসান জানান, ভেড়ামারা এলাকায় রাখী খাতুন নামের এক গৃহবধূর আত্মহত্যার খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে সুরৎহাল প্রতিবেদন শেষে ময়না তদন্তের জন্য লাশ পাবনা সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। ময়না তদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ পাওয়া যাবে।

About jamuna

আবার চেষ্টা করুন

মা ইলিশ ধরার দায়ে ১৬ জেলের কারাদন্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিরাজগঞ্জ যমুনাপ্রবাহ.কম : সিরাজগঞ্জের তিনটি উপজেলায় যমুনা নদীতে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানে ১৬ জেলেকে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *