সদ্য সংবাদ
Home / গুরুত্বপূর্ণ / বৃষ্টি হলেই অন্তহীন দুর্ভোগ শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কটিতে

বৃষ্টি হলেই অন্তহীন দুর্ভোগ শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কটিতে

জ্যৈষ্ঠ প্রতিবেদক || যমুনাপ্রবাহ.কম

আপডেট সময়: ১০১৬ ঘন্টা, ২০ মে, ২০২১

সিরাজগঞ্জ: সিরাজগঞ্জ পৌর শহরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক এটি! এ সড়কের পূর্ব-দক্ষিণে রয়েছে রেলওয়ে স্টেশন। স্টেশনের উভয় দিকে রয়েছে মাছ-মাংস ও সবজির বাজার। জেলা পুলিশ লাইন্স, আনসার ও ভিডিপি কার্যালয়, জেলা কারাগার, জাতীয় জুটমিল, সরকারি শিশু পরিবারসহ একাধিক সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে যাতায়াতের অন্যতম রাস্তাও এটি। অথচ সামান্য বৃষ্টি হলেই পানি-কাদা আর আবর্জনার স্তুপে সীমাহীন দুর্ভোগে রূপ নেয় এ রাস্তাটি।
সিরাজগঞ্জ শহরের বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল লতিফ মির্জা সড়কের বাজার স্টেশন কড়িতলা থেকে মাছুমপুর মোড় পর্যন্ত প্রায় আড়াইশো মিটার এলাকার চিত্র এটি। ড্রেনেজ ব্যবস্থা ছাড়া অপরিকল্পিত রাস্তা নির্মাণ এবং বাজারের বর্জ্য অপসারণের যথাযথ ব্যবস্থা না থাকায় প্রায় দু বছর ধরে সড়কটি নিয়ে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এ অঞ্চলের মানুষকে। এ দুর্ভোগ চরমে পৌঁছে যায় বৃষ্টির মৌসুমে।
বৃহস্পতিবার (২০ মে) খোঁজ নিয়ে দেখা যায় রাস্তাটির মাঝখানে ছোটবড় অসংখ্য খানাখন্দে জমে রয়েছে বৃষ্টির পানি ও কাঁদা। বড় কিংবা মাঝারি যানবাহন চলার সময় পথচারি ও সবজি বিক্রেতাদের শরীরে ছিঁটিয়ে পড়ছে কাদাযুক্ত পানি। অপসারণ না করায় জমে থাকা ময়লার স্তুপগুলো পঁচে জনদূর্ভোগ যেন আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এই স্তুপের কারণে সৃষ্ট দুর্গন্ধযুক্ত কাঁদায় পায়ে হাঁটাও দুস্কর হয়ে পড়েছে।


রফিকুল, রুবেল ও রমজান আলীসহ একাধিক রিকশাচালকের সাথে কথা বললে তারা বলেন, বৃষ্টি হলে এ রাস্তায় পানি আর কাদায় মনে হয় ধানক্ষেত। তাই ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়। মাঝে মাঝে মানুষের খুব ভীড় থাকে। তখন রিকশা নিয়ে যাতায়াত করা কষ্টকর হয়।
বেসরকারি চাকরীজীবি সালাউদ্দিন, ইলেকট্রিক ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম, দোকানদার লিটনসহ অনেকেই বলেন, বৃষ্টি হওয়ার পর এ সড়কটি দিয়ে হেঁটেই চলাচল করাই যায় না। এখান দিয়ে হাঁটলে পথচারির জামা-কাপড়ে কাদা লাগবেই। সড়কের পাশে সবজি বাজার। সেখানকার ময়লা আবর্জনাও ফেলে রাখা হয় সড়কে। সেগুলো অপসারণ না করার ফলে রাস্তার মাঝখানে ময়লার স্তুপ হয়ে দুর্গন্ধের সৃষ্টি করেছে।
বাজার স্টেশন এলাকার সবজি ও মাছ বিক্রেতারা বলেন, মাছ-মাংস ও সবজির জন্য শহরের সবচেয়ে জনপ্রিয় এলাকা এই বাজার স্টেশন। এখানে বিপুল সংখ্যক ক্রেতা-বিক্রেতা আসে। এ সড়কটিকে ঘিরেই চলে বেচাকেনা। বৃষ্টি হলে বিক্রেতাদের সাথে সাথে ক্রেতাদেরও দুর্ভোগে পড়তে হয়।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, সড়কটি দিয়ে শহরছাড়াও ও পাশ্ববর্তী কালিয়া হরিপুর, শিয়ালকোল ও কামারখন্দের ঝাঐল ইউনিয়নের লোকজন যাতায়াত করে। এছাড়াও শহরের অধিকাংশ মানুষ কাঁচা বাজার করে এ সড়কের পাশের রেলওয়ে স্টেশন বাজারে। এ সড়কটি নির্মাণে ড্রেনেজ ব্যবস্থা না রাখায় কারণে বৃষ্টির পানি অপসারিত না হয়ে রাস্তার উপরই জমে থাকে। তার উপর সংস্কারের অভাবে ছোট-বড় একাধিক খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির পানি খানা-খন্দে জমে থাকে পানি। ফলে ট্রাক, বাস, সিএনজি অটোরিকশাসহ বিভিন্ন পরিবহণকে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়। মাঝে মধ্যেই ছোটখাট দুর্ঘটনা ঘটে। অপরদিকে সবজি বিক্রেতাদের ফেলে দেওয়া আবর্জনা নিয়মিত অপসারণ না করাতেও সড়কটি ময়লার ভাগারে পরিণত হয়েছে।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুস সালাম মিয়া বলেন, রাস্তাটির টেন্ডার প্রক্রিয়া চলছে। ৩৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ফুটপাথ ও ড্রেনেজ ব্যবস্থাসহ প্রায় আড়াইশো মিটার রাস্তাটি টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষে কাজ শুরু করা হবে। খুব শীঘ্রই এ সড়কটির সংস্কার কাজ শুরু হবে বলে আশ্বস্ত করেন পৌর মেয়র সৈয়দ আব্দুর রউফ মুক্তা।

About jamuna

আবার চেষ্টা করুন

প্রেমিকা ও তার মাকে দায়ী করে ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে কলেজ ছাত্রের আত্মহত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক সিরাজগঞ্জ যমুনাপ্রবাহ.কম:  মৃত্যুর জন্য প্রেমিকা ও তার মাকে দায়ী করে প্রেমিকার ছবিসহ ফেসবুকে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *