বৃহস্পতিবার , জুন 17 2021
সদ্য সংবাদ
Home / গুরুত্বপূর্ণ / বৃদ্ধ শ্বশুর-শাশুড়ির সাথেও প্রতারণা করলেন ফুলজোড় কলেজের অধ্যক্ষ

বৃদ্ধ শ্বশুর-শাশুড়ির সাথেও প্রতারণা করলেন ফুলজোড় কলেজের অধ্যক্ষ

নিজস্ব প্রতিবেদক || যমুনাপ্রবাহ.কম

প্রকাশ কাল: ০৫ঃ১৪ ঘন্টা, ৩১ মে, ২০২১

সিরাজগঞ্জ: প্রতারণা মাধ্যমে বৃদ্ধ শ্বশুর ও শাশুড়ীর টাকা আত্মসাত করার অভিযোগে উঠেছে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার নলকা ফুলজোড় ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মো. শাহেদ আলী শেখের বিরুদ্ধে। তিনি কৌশলে শশুর, শাশুড়ীসহ ওয়ারিশদের স্বাক্ষর নিয়ে মৃত স্ত্রীর অবসরকালিন ও কল্যাণ ভাতার টাকা উত্তোলন এবং তা সম্পূর্ণ আত্মসাত করেছেন।
গতকাল সোমবার (৩১ মে) বিকেলে সিরাজগঞ্জ শহরের নিজ বাসভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী শ্বশুড় সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজের সাবেক ইংরেজী বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মো. আব্দুস ছামাদ মিয়া।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, আমার একমাত্র মেয়ে নাছরীন ফুলজোড় ডিগ্রি কলেজের ভাইস প্রিন্সিপল হিসেবে সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এ অবস্থায় ২০১৮ সালের ১০ সেপ্টেম্বর অসুস্থ্যতাজনিত কারণে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। নাছরীনের মৃত্যুর পর তার স্বামী ওই কলেজের অধ্যক্ষ মো. শাহেদ আলী শেখ আমার বাড়িতে এসে মৃত্যুকালিন অবসর ও কল্যাণ ভাতা উত্তোলনের জন্য আমার ও আমার স্ত্রীর স্বাক্ষর গ্রহণ করেন। এ সময় তিনি বলেন, নাছরীনের মৃত্যুকালিন অবসর ও কল্যাণ ভাতার চেক পাবার সাথে সাথে মুসলিম ফারায়েজ মোতাবেক শ্বশুড়-শ্বাশুড়ীর পাওনা বুঝিয়ে দেবে। এভাবে কৌশলে স্বাক্ষর নেয়ার পর শাহেদ আলী শেখ একাই টাকা উত্তোলন করেন এবং আমাদের কাউকে এ বিসয়ে কিছুই বলেন না।
পরবর্তীতে টাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি নানা টালবাহানা করেন এবং বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করেন। পরবর্তীতে আমরা ওই টাকার বিষয়ে খোঁজ-খবর করে জানতে পারি শাহেদ আলী টাকা তুলে তা আত্মসাত করেছেন। এ টাকার বিষয়ে আমার পরিবারের লোকজন তাগাদা দিলে শাহেদ আলী বিভিন্ন মাধ্যমে হত্যার হুমকি দেন। এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ সদর থানায় একটি জিডিও করা হয়।
লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন সময় মো. শাহেদ আলী শেখ আমাদের কাছ থেকে কৌশলে স্বাক্ষর গ্রহণ করে আমার মেয়ের মৃত্যুকালিন অবসর ভাতার ৩৬ লাখ টাকা একাই আত্মসাত করেছেন। ইসলামিক ফারায়েজ অনুযায়ী ওই টাকার ৬ ভাগের এক ভাগ শ্বশুড় এবং এক ভাগ শাশুড়ী পাবে, ৪ ভাগের এক ভাগ স্বামী এবং ১২ ভাগের ৫ ভাগ পাবে সন্তান। সেই হিসেবে ৩৬ লাখ টাকার ৬ লাখ শ্বশুড় ও ৬ লাখ শাশুড়ী দুজনে মোট ১২ লাখ টাকা পাওয়ার কথা। অপরদিকে একমাত্র মেয়ে ১২ ভাগের ৫ ভাগ হিসেবে ১৫ লাখ এবং স্বামী ৪ ভাগের একভাগ হিসেবে ৯ লাখ টাকা পাবে।
আমাদের পাওনা টাকার জন্য মো. শাহেদ আলীকে বার বার বলা হলে তিনি বলেন, এখন টাকা দেবো না, যা পারিস তাই করিস ইত্যাদি বলেন এবং বিভিন্ন সময়ে হত্যার হুমকি দেন। এ অবস্থায় বাধ্য হয়ে রায়গঞ্জ আমলী আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছি। মামলাটি আমলে নিয়ে বিচার পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
মো. আব্দুস সামাদ মিয়া আরও বলেন, আমরা খোঁজ নিয়ে জানতে পারি শাহেদ আলী জামায়াত ইসলামী বাংলাদেশর অর্থ যোগানদাতা হিসেবে পরিচিত। ছাত্রাবস্থায় তিনি জামায়াত শিবিরের নেতা ছিলেন। আওয়ামীলীগ সরকার বিরোধী আন্দোলনে তার কলেজের সামনে বেশ কয়েকবার অগ্নিসংযোগ ও গাড়ী ভাংচুরও করা হয়েছে। এছাড়াও অধ্যক্ষ শাহেদের বিরুদ্ধে কলেজের টাকা, উপবৃত্তি আত্মসাতসহ নানা অভিযোগও রয়েছে।
কান্নাজড়িত কন্ঠে আশির্ধো বৃদ্ধ অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক আব্দুস সামাদ মিয়া বলেন, অনেক আগেই মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। কিছুদিন স্ত্রী ও একটি ছেলেও মারা গেছেন। এখন আমরা অসহায়। এ অবস্থায় ওই প্রতারকের কাছ থেকে পাওনা টাকা উদ্ধার করে দেয়ার জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবী জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে সিরাজগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি হেলাল আহমেদ, সহ-সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদ সরকারসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

 

About jamuna

আবার চেষ্টা করুন

বেলকুচিতে বাল্যবিয়ে বন্ধ করলেন ইউএনও, কনের বাবার জরিমানা 

নিজস্ব প্রতিবেদক || যমুনাপ্রবাহ.কম প্রকাশ কাল: ২২৫৩ ঘন্টা, জুন  ১৬, ২০২১ সিরাজগঞ্জ : সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।