সদ্য সংবাদ
Home / কৃষি ও শিল্প / বিনাচাষে রসূণের বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি

বিনাচাষে রসূণের বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি

নিজস্ব প্রতিবেদক || যমুনাপ্রবাহ.কম

চলনবিল অঞ্চলের তাড়াশ উপজেলা বিস্তৃর্ণ মাঠ জুড়ে এখন রসূনের গন্ধ। বিনাচাষে লাগানো রসূন ঘরে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছে চাষীরা। এ বছর রসূনের বাম্পার ফলন হওয়ায় কৃষকের মুখে ফুটেছে হাসি।

চলনবিলের বিস্তৃর্ণ অঞ্চলে সরেজমিনে ঘুরে চোখে পড়ে কর্মব্যস্ত সময় পার করছেন রসূনচাষীরা। পুরুষদের পাশাপাশি নারীরাও রসুন তোলা কাজে সহযোগীতা করছেন। রসূন তুলতে তুলতে কথা বলছিলেন হামকুড়িয়া গ্রামের কৃষক আতাব আলী। তিনি সম্পূর্ণ বিনাচাষে প্রায় চার বিঘা জমিতে রসূন আবাদ করেছেন। তারপরও বিঘাপ্রতি প্রায় ২৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে তার। তিনি বলেন, এ বছর যে ফলন হয়েছে তাতে প্রায় লাখ টাকা আয় হবে।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার চর হামকুড়িয়া, চরকুশাবাড়ী, নাদো সৈয়দপুর, ধামাইচ, সবুজপাড়া, বিন্নাবাড়ী, দিঘী সগুনা, কুন্দইল, ধামাইচ এলাকায় শত শত হেক্টর জমিতে রসূন চাষ হয়েছে। রসূনের সবুজ পাতা সোনালী হতে শুরু করেছে। মাঠে মাঠে দেখা যায় রসূন তোলার ধুম।

নাদো সৈয়দপুর গ্রামের ইমান আলী নামের এক কৃষক বলেন, লাভের আশায় আমরা বিনাচাষে রসূন আবাদ করি। তারপরও সার-কীটনাশক, শ্রমিক মজুরী দিয়ে বিঘা প্রতি ৩০-৩৫ হাজার টাকা করে খরচ হয়। এ বছর ৫ বিঘা জমিতে রসূন বুনেছেন তিনি। ফলনও বাম্পার হয়েছে। ন্যায্য দাম পেলে বেশ লাভ বলে আশা করছেন তিনি।

নওগাঁ ইউনিয়নের মহিষলুটি গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, গত বছর কৃষকেরা প্রতিমণ রসূন বিক্রি করেছে ৩ থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকায়। এ বছর সেই দাম থাকলে কৃষকদের হাসি থাকবে। লোকসান গুনতে হবে। কথা হয় দিঘীসগুনা গ্রামের কৃষক আলম, শহীদুল ও মাগুরা বিনোদ গ্রামের ওসমান আলী, নবি উদ্দিন, রিয়াজ মিস্ত্রি, শাহজামাল খান, দবির আলীসহ অনেকের সঙ্গে।

তারা বলেন, এ অঞ্চলের চাষীরা প্রতিবছরই বিনাচাষে রসূন বোনে। ধানের আবাদের লাভ খুব কম হওয়ায় রসূন চাষের উপর ঝুকেছে এ অঞ্চলের চাষীরা। বিনাচাষে বোনা হলেও সার-কীটনাশক ও শ্রমিক মজুরীসহ আনুষাঙ্গিক খরচ এবার বেড়েছে। বাজার মূল্য কম হলে লোকসান গুনতে হবে তাদের। তবে ফলন ভাল হওয়ায় আশাবাদী তারা।

তাড়াশ উপজেলা কৃষি অফিসের দেওয়া তথ্যে জানা যায়, শীতের শুরুতে নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসের ভেজা মাটি রসূন চাষের জন্য উপযোগী। দিনে দিনে চলনবিলাঞ্চলে বিনাচাষে রসূণের আবাদ  কৃষকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। খরচ কম, ফলন বেশী ও লাভের পরিমান ও বেশী তাই তারা রসুন চাষে ঝুকে পড়েছেন। শুধুমাত্র চলনবিলের তাড়াশ উপজেলাতেই প্রতি বছর সাড়ে ৫১৭ হেক্টর জমিতে রসুনের আবাদ হয়। বিনাচাষে রসূন বুনলেও সার-বীজ-কীটনাশক দিয়ে বিঘা প্রতি ৩০-৩৫ হাজার টাকার মতো খরচ হয়। হেক্টর প্রতি প্রায় ৭.২/৭.৫ টন রসূন উৎপাদন হয়।

তাড়াশ উপজেলা কৃষি অফিসার লুৎফুন্নাহার লুনা বলেন, গত বছর তাড়াশে ৪৪০ হেক্টর জমিতে রসূনের আবাদ হয়েছে। এ বছর আমরা ৪৪০ হেক্টর লক্ষ্যমাত্র ধরেছিলাম। লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করে উপজেলায় ৫১৭ হেক্টর জমিতে রসূনের চাষ হয়েছে। ফলনও বেশ ভাল হয়েছে। বাজার মুল্যে  বেশি। আশার করছি আরো দাম বাড়বে। এসব রসূন দেশের মানুষের অনেকটাই চাহিদা পুরন করবে।

জেলা কৃষিক সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আবু হানিফ বাংলানিউজকে বলেন, শীতের মৌসুমে মাটিতে জোঁ থাকে। আদ্র মাটিতে কোন প্রকার চাষ না দিয়ে সার ছিটানোর পর রসূন বোনে চাষীরা। এরপর খড় বা নাড়া দিয়ে ঢেকে দেয়া হয়। এতে রসূনের ফলন ভাল হয়। চাষের বাড়তি খরচও লাগে না। জেলায় এ বছর ১ হাজার ৪ হেক্টর জমিতে রসূনের আবাদ হয়েছে। যার অধিকাংশই চলনবিলাঞ্চলে। এর মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি রসূনের চাষ করা হয়েছে তাড়াশে। ইতিমধ্যে ৩৫১ হেক্টর জমির রসূন কেটে ঘরে তুলেছে কৃষক। যার উৎপাদন হয়েছে হেক্টর প্রতি গড়ে ৭.২ টন।

About jamuna

আবার চেষ্টা করুন

সিরাজগঞ্জে পৃথক সড়ক দূর্ঘটনায় মহিলাসহ নিহত ২ (ভিডিওসহ)

আপডেট সময় : ০৬:২০ ঘন্টা: ১৩ মে, ২০২১ নিজস্ব প্রতিবেদক || যমুনাপ্রবাহ.কম সিরাজগঞ্জ : সিরাজগঞ্জ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *