সদ্য সংবাদ
Home / রাজনীতি / আওয়ামীলীগ / বারুহাসে নৌকার প্রার্থী ময়নুল হকের পক্ষে একাট্টা আওয়ামীলীগ

বারুহাসে নৌকার প্রার্থী ময়নুল হকের পক্ষে একাট্টা আওয়ামীলীগ

নিজস্ব প্রতিবেদক


যমুনাপ্রবাহ.কম:
শস্যভান্ডার খ্যাত চলনবিল অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী ইউনিয়ন বারুহাস। বেহুলার কূপ, বস্তুল শিব মন্দিরসহ অনেক ঐতিহ্যের নিদর্শন রয়েছে এ ইউনিয়নেই। সারা বছর জুড়ে কখনো শস্য আবার কখনো মৎস্য সম্পদে ভরপূর ইউনিয়নটি নানা কারণেই গুরুত্বপূর্ণ।
আসছে ৭ ফেব্রæয়ারি ঐতিহ্যবাহী এই ইউনিয়নটিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচনকে ঘিরে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা কল্পনা। ইতিমধ্যে প্রার্থীরা মনোনয়নপত্রও দাখিল করেছেন। তবে এ ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী মো. ময়নুল হক। আওয়ামীলীগের পরিক্ষীত সংগঠক ও ত্যাগী কর্মী হিসেবে তাকে নৌকা প্রতিক মনোনয়ন দেয়ায় দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে এলাকার বিভিন্ন শ্রেণীপেশার জনগন।
আর ময়নুল হককে বিপুল ভোটে বিজয়ী করার জন্য একাট্টা হয়ে মাঠে নেমেছে স্থানীয় আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা। তৃণমূল কর্মী থেকে শুরু করে সিনিয়র নেতৃবৃন্দও একবাক্যে স্বীকার করছেন ময়নুল হক যোগ্য প্রার্থী হিসেবেই মনোনয়ন পেয়েছেন। অপরদিকে দলের যারা মনোনয়ন চেয়েছিলেন তারাও একযোগে নৌকার প্রচারে মাঠে নামছেন বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।


সম্প্রতি সরেজমিনে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার বারুহাস ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতাকর্মী ও এলাকাবাসীর সাথ ইউপি নির্বাচন নিয়ে কথা বললে তারা ময়নুল হককে মনোনয়ন দেয়ায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তার বিজয় সুনিশ্চিত বলেই জানান।
জানা যায়, তাড়াশ উপজেলার বারুহাস ইউনিয়নটি নাটোর ও বগুড়া জেলার সীমান্তবর্তী ইউনিয়ন। এ ইউনিযনের ২৫টি গ্রামে ভোটার সংখ্যা ২০ হাজারেরও উপরে। কৃষি সম্পদে ভরপুর এ ইউনিয়টি এক সময় দূর্গম অঞ্চল হিসেবে খ্যাত হলেও বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণই ভিন্ন। উন্নয়নের ছোঁয়া এ ইউনিয়নটি পাল্টে গেছে।
ইতিমধ্যে এখানে নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। ২২ জানুয়ারি প্রত্যাহারের শেষ তারিখ এবং ২৩ জানুয়ারীতে প্রতিক বরাদ্দের পর থেকেই শুরু হবে প্রচারণা।
স্থানীয়রা জানান, ছাত্রজীবন থেকেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শের সৈনিক হিসেবে ছাত্রলীগের রাজনীতির মাধ্যমে হাতেখড়ি হয় মো. ময়নুল হকের। সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজে অধ্যয়নরত অবস্থায় তিনি শহীদ শামজ্জোহা ছাত্রাবাস সি-বøকের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে তিনি জেলা ছাত্রলীগের অর্থ বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেন। শিক্ষাজীবন শেষে ময়নুল হক শিক্ষকতাকে পেশা হিসেবে বেছে নেয়ার পাশাপাশি স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। তিনি গুল্টা শহীদ এম মনসুর আলী ডিগ্রি কলেজে শিক্ষক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। দক্ষ সংগঠক হিসেবে তিনি টানা দুবার বারুহাস ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়ে এখন পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও বস্তুল হাইস্কুলের সভাপতি পদে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন ময়নুল হক। তার সময়ে বারুহাস ইউনিয়নে প্রথম ডিজিটালাইজট হাইস্কুল হয় বস্তুল।

বারুহাস ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি নৌকার প্রার্থী মো. ময়নুল হক জানান, আমি জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর আদর্শের একজন সৈনিক হিসেবে ছাত্রাবস্থা থেকেই আওয়ামী রাজনীতির সাথে জড়িত। বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নত সমৃদ্ধ দেশ গড়ার সংগ্রাম চলছে তারই সৈনিক হিসেবে স্থানীয় আওয়ামীলীগকে সুসংগঠিত করতে কাজ করে যাচ্ছি। এরই অংশ হিসেবে জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে নৌকা প্রতিক উপহার দিয়েছেন। আমি আমার দলের নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে নৌকার সম্মান রক্ষা করবো ইনশাল্লাহ। আমার ইউনিয়নের সকল নেতাকর্মী আজ নৌকার পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন। ৮ জন যারা দলের মনোনয়ন চেয়েছিলেন তারাও আমার পক্ষে কাজ শুরু করেছেন। আশা করছি বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে বারুহাস ইউনিয়নে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখবো।
বারুহাস ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা বলেন, বারুহাস ইউনিয়নে নৌকার কোন বিকল্প নেই। আমিও দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলাম। কিন্তু দল আমাকে মনোনয়ন দেয় নাই। ময়নুল হককে দল মনোনয়ন দিয়েছে। তিনি অত্যন্ত ভাল ও যোগ্য নেতা। আমরা তার পক্ষে একাট্টা হয়ে কাজ শুরু করেছি।
বারুহাস ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান মোক্তার হোসেন বলেন, আমি গতবার নৌকা প্রতিক পেয়ে নির্বাচন করে বিজয়ী হয়েছি। এবারও দলের মনোনয়ন চেয়েছিলাম। দল আমাকে না দিয়ে ময়নুল হককে মনোনয়ন দিয়েছে। তিনি যোগ্য হিসেবেই মনোনয়ন পেয়েছেন। ইতিমধ্যে আমার সকল কর্মীকে নৌকার পক্ষে মাঠে নামার জন্য আমি বলেছি। বারুহাস ইউনিয়নে নৌকার কোন বিকল্প নেই।
তাড়াশ উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সনজিত কুমার কর্মকার বলেন, ময়নুল হক পরীক্ষিত একজন নেতা। সে নৌকা পাওয়ায় দলের সকল নেতাকর্মী ঐক্যবদ্ধ হয়ে নির্বাচনী মাঠে নেমেছে। আশা করছি বিপুল ভোটে বিজয়ী হবে ময়নুল হক।

About jamuna

আবার চেষ্টা করুন

কাজিপুরে আ.লীগ নেতা শহীদ সরোয়ারের উপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন-বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিরাজগঞ্জ যমুনাপ্রবাহ.কম: সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শহীদ সরোয়ারের উপর সন্ত্রাসী হামলার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *