সদ্য সংবাদ
Home / চিত্র-বিচিত্র / বঙ্গবন্ধু নাইট স্টোরে গেলেই বিনামূলে চা পাচ্ছেন মুজিবভক্তরা

বঙ্গবন্ধু নাইট স্টোরে গেলেই বিনামূলে চা পাচ্ছেন মুজিবভক্তরা

মিজানুর রহমান মিলন, জেলা প্রতিনিধি || যমুনাপ্রবাহ.কম

প্রকাশ কাল: ১৪১৫ ঘন্টা, জুন ১৮, ২০২১

শেরপুরঃ মুজিব ভক্তকে সামনে পেলেই বিানমূল্যে চা খাওয়াচ্ছেন শেরপুর জেলা সদরের মধ্যকুমরী গ্রামের হারুন অপর রশিদ নামে এক যুবক। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি অগাধ ভালবাসা আর শ্রদ্ধাবোধ থেকে নিজের দোকানের নাম দিয়েছেন ‘বঙ্গবন্ধু নাইট স্টোর’। এদিকে মানবতা বিরোধী অপরাধের দায়ে ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত শীর্ষ জামায়াত যুদ্ধাপরাধী কামারুজ্জামানের গ্রামের এই যুবকের এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগ এলাকায় সাড়া ফেলেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, হারুন অর রশিদ শেরপুর সদর উপজেলার ৩নং বাজিতখিলা ইউনিয়নের মধ্যকমুরী গ্রামের মৃত আব্দুল মালেকের ছেলে। বৃদ্ধ মাসহ বর্তমানে ৫ জনের সংসার হারুনের। জীবিকার তাগিদে ছোট বেলায় অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত পড়ুয়া হারুন ঢাকায় চলে যান। সেখানে দীঘর্দিন জুতার কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। কাজের ফাঁকে ফাঁকে কারখানার পাশে থাকা আওয়ামীলীগের অফিসে গিয়ে নেতাদের কাছ থেকে বঙ্গবন্ধুর সংগ্রামী জীবন সম্পর্কে জানতে গিয়ে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয় হারুন। গত ৫ বছর আগে তিনি কারখানার কাজ বাদ দিয়ে নিজ গ্রামে চলে আসেন। গ্রামে এসেই তার লালিত স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতেই মধ্যকুমরী গ্রামের বাজিতখিলা টু গাজীরখামার রোডে তার ওই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলেন। তার পরিবারের সদস্যদের বেঁচে থাকা ও জীবন জীবিকার একমাত্র অবলম্বন ওই দোকানটি। দোকানটি পরিচালনা করে যা আয় হয় তা দিয়ে কোন রকমে চলে তার সংসার। সেই সাথে ব্যবসার কিছু মুনাফা থেকে মুজিব ভক্তদের বিনামুল্যে চা খাওয়ান তিনি।

জানতে চাইলে হারুন অর রশিদ যমুনাপ্রবাহ.কমকে বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধের অনেক পরে আমার জন্ম-তাই বঙ্গবন্ধুকে দেখিনি। তবে বুঝেছি এই দেশে যদি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম না হতো, তাহলে কখনোই স্বাধীনতা লাভ করতো না, আমরা স্বাধীনতা পেতাম না।

তিনি বলেন,  যে গ্রামে আমার জন্মস্থান সেটি জামায়াত ইসলামের এলাকা। ফাঁসিতে মৃত্যদন্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা কামারুজ্জামানের জন্মস্থান এ গ্রামেই। ফলে এ গ্রামটির আরও একটি অলিখিত নাম রয়েছে দ্বিতীয় পাকিস্থান। সে কারণেই ‘বঙ্গবন্ধু নাইট স্টোর’ নাম দিয়ে দৈনিক আমার ব্যবসার আয় থেকে প্রতিদিন ৬০/৭০ জনকে বিনা টাকায় চা খাওয়াই । এছাড়াও করোনাকালীন সময়ের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত যারা মাস্ক ছাড়া আমার দোকানে আসে চা খেতে, তাদেরকে আমি বিনামূল্য মাস্ক দেই। আমি একদিনে হয়তো এ গ্রামটিকে জামায়াত-শিবির মুক্ত করতে পারবো না। তবে আমি চেষ্টা চালিয়ে যাবো আজীবন।

এলাকাটি জামায়াত অধ্যুষিত জেনেও সেখানে আপনি বঙ্গবন্ধুর সৈনিক বাড়ানোর যে সিদ্ধান্তটি নিয়েছেন, নিঃসন্দেহে তা প্রশংসার দাবিদার। কিন্তু এ সরকারের যদি প্রেক্ষাপট পরিবতর্ণ হয়, তখন আপনার অবস্থা কি হবে, তা কি একবার ভেবে দেখেছেন আপনি?এমন প্রশ্নের জবাবে হারুন বলেন, এলাকায় টিকতে না পারলে আবার না হয় দেশের জন্য, আমার প্রাণের নেতা, আমার স্বপ্ন জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর জন্য যুদ্ধ করে নিজের জীবনটাকে বিলীয়ে দিবো। তবুও দেশ বিরোধীদের কাছে মাথানত করবো না।

বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ শেরপুর সদর উপজেলা শাখার সভাপতি এবং ৩নং বাজিতখিলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জনাব মো আমির আলী সরকার জানান, যুবক হারুনের দোকানটির আমি উপস্থিত থেকে উদ্বোধন করেছিলাম। তার পর থেকে দোকানটি ভালভাবেই চলছে। এরপর থেকেই দোকানের প্রচার-প্রচারণা দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমি তার দোকানের সফলতা কামনা করছি।

About jamuna

আবার চেষ্টা করুন

নির্বাচনী কন্ট্রোল রুমে পাল্টে গেল ভোটের ফল: আদালতে স্বতন্ত্র প্রার্থী

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিরাজগঞ্জ যমুনাপ্রবাহ.কম: সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার বাঙালা ইউনিয়নের পশ্চিম সাতবাড়ীয় এবতেদায়ী মাদ্রাসা ভোট কেন্দ্রে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *