সদ্য সংবাদ
Home / গুরুত্বপূর্ণ / প্রকৃতির কোলজুড়ে হাসছে অপরূপ কৃষ্ণচূড়া আর সোনালু

প্রকৃতির কোলজুড়ে হাসছে অপরূপ কৃষ্ণচূড়া আর সোনালু

টি এম কামাল, উপজেলা প্রতিনিধি || যমুনাপ্রবাহ.কম

আপডেট সময়: ০৮ঃ২২ ঘন্টা: ১৬ মে, ২০২১

কাজিপুর: অধিক মানুষের হৈচৈ নৈই। থেমে গেছে অসহ্য যত শোরগোল-কোলাহল। নেই গাড়ির শব্দ, নেই ময়লা আবর্জনা। কমে গেছে রিক্ততা। করোনার আতঙ্ক আর অবিরাম লকডাউন, শাটডাউন বা ভয়-আতঙ্কে যখন গোটা বিশ্ব হয়ে পড়েছে স্থবির। তখন বেড়েছে কেবল প্রকৃতির অন্তরঙ্গতা। জেগে উঠেছে প্রকৃতি, খেলছে অবিরত অপরূপ মহিমাভরা পরিবেশ-প্রকৃতি। ডালে ডালে সবুজের সমারোহ। সবুজ ডালির মাঝে লাল কৃষ্ণচূড়া আর চোখধাঁধানো হলুদ সোনালুর বৈচিত্র্যময় সৌন্দর্য প্রকৃতিকে করে তুলেছে আরো নান্দনিক। সেই সাথে অন্যান্য বৃক্ষ তরুলতার সজীবতাও যেন লাফিয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। হৃষ্টপুষ্ট হচ্ছে। মহামারীর কোনো আতঙ্ক স্পর্শ করতে পারেনি ওদের। প্রকৃতির এই যৌবনাবতী রূপ রসের সৌন্দর্য শুধু প্রকৃতিপ্রেমীর কাছে নয়, পরিবেশ সচেতন ব্যক্তিদেরও করেছে বিমোহিত।

বৈশাখের আকাশে কাঠফাটা রোদ্দুরে তপ্ত বাতাস। প্রকৃতি যখন প্রখর রৌদ্রে পুড়ছে, কৃষ্ণচূড়া ফুল তখন জানান দেয় তার সৌন্দর্যের বার্তা। গ্রীষ্মের এই নিস্প্রাণ রুক্ষতা ছাপিয়ে প্রকৃতিতে কৃষ্ণচূড়া নিজেকে মেলে ধরে আপন মহিমায়। যেন লাল রঙে কৃষ্ণচূড়ার পসরা সাজিয়ে বসে আছে প্রকৃতি। যে কারো চোখে এনে দেয় শিল্পের দ্যোতনা। কৃষ্ণচূড়াকে সাধারণত আমরা লাল রঙেই দেখতে অভ্যন্ত। তবে উদ্ভিদ বিজ্ঞানীরা বলছেন, কৃষ্ণচূড়া তিনটি রঙের হয়। লাল, হলুদ ও সাদা। কম হলেও চোখে পড়ে হলদে রঙের কৃষ্ণচূড়া আর সাদা রঙের কৃষ্ণচূড়ার দেখা মেলে কালেভদ্রে। তিন রঙের কৃষ্ণচূড়ার গাছ উঁচু। অনেকটা জায়গাজুড়ে শাখা-প্রশাখার বিস্তার ঘটায়। তিন রঙেরই ফুল ফোটে প্রায় একই সময়ে।
এর নাম নিয়ে স্থানীয় অনেকেরই ধারণা, রাধা ও কৃষ্ণের সঙ্গে নাম মিলিয়ে এ বৃক্ষের নাম হয়েছে কৃষ্ণচূড়া। এর বড় খ্যাতি হলো গ্রীষ্মের প্রচন্ড তাপদাহে যখন এই ফুল ফোটে তখন এর রূপে মুগ্ধ হয়ে পথচারীরাও থমকে তাকাতে বাধ্য হয়। বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কৃষ্ণচূড়ার আদি নিবাস পূর্ব আফ্রিকার মাদাগাস্কার। সৌন্দর্যবর্ধক গুণ ছাড়াও, এই গাছ উষ্ণ আবহাওয়ায় ছায়া দিতে বিশেষভাবে উপযুক্ত। কৃষ্ণচূড়া উদ্ভিদ উচ্চতায় সর্বোচ্চ ১২ মিটার হলেও শাখা-পল্লাবে এটির ব্যাপ্তি বেশ প্রশস্ত। ফুলগুলো বড় ৭-৮টি পাপড়িযুক্ত গাঢ় লাল। ফুলের ভেতরের অংশ হালকা হলুদ ও রক্তিম হয়ে থাকে। পাপড়িগুলো প্রায় ৮ সেন্টিমিটারের মতো লম্বা হতে পারে।বাংলাদেশে কৃষ্ণচূড়া ফুল ফোটে এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত। তবে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে কৃষ্ণচূড়ার ফুল ফোটার সময় ভিন্ন ভিন্ন। যেমন, দক্ষিণ ফ্লোরিডায় জুনে, আরব আমিরাতে সেপ্টেম্বরে, ক্যারাবিয়ানে মে থেকে সেপ্টেম্বর, ভারতে এপ্রিল থেকে জুন, অস্ট্রেলিয়ায় ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি। তবে দিন দিন কৃষ্ণচূড়া গাছের সংখ্যা কমে যাচ্ছে সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কারণে কৃষ্ণচূড়া চাষাবাদ করা প্রয়োজন। কৃষ্ণচূড়ার আদিনিবাস পূর্ব আফ্রিকার মাদাগাস্কার। এই বৃক্ষ শুষ্ক ও লবণাক্ত অবস্থা সহ্য করতে পারে। ক্যারাবিয়ান অঞ্চল, আফ্রিকা, হংকং, তাইওয়ান, দক্ষিণ চীন, বাংলাদেশ, ভারতসহ বিশ্বের অনেক দেশে এটি জন্মে থাকে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কৃষ্ণচূড়া শুধুমাত্র দক্ষিণ ফ্লোরিডা, দক্ষিণ পশ্চিম ফ্লোরিডা, টেক্সাসের রিও গ্রান্ড উপত্যকায় পাওয়া যায়। সোনাঝরা চোখ ধাঁধানো হলুদ ফুলের নাম সোনালু। কিশোরীর কানের দুলের মতো বৈশাখী হাওয়ায় দুলতে থাকে হলুদ-সোনালি রঙের থোকা থোকা ফুল। আবার ফুলের ফাঁকে দেখা যায় লম্বা ফল। হলুদ বরণ সৌন্দর্য মাতোয়ারা করে রাখে চারপাশ। খরতাপে চলতি পথে পথিকের নজর কাড়বেই। গ্রীষ্মের প্রকৃতিতে প্রাণের সজীবতা নিয়ে যেসব ফুল ফোটে তার মধ্যে সোনালু উল্লেখযোগ্য। গ্রীষ্ম রাঙানো এ ফুল দেখতে যেমন আকর্ষণীয় তেমনি তার নামের বাহার- সোনালু, সোনাইল, সোঁদাল, বান্দরলাঠি ইত্যাদি।
হাজার বছর আগেও এ গাছ আমাদের উপমহাদেশে ছিল। মহাকবি ব্যাস এর ভগবত কিংবা কালিদাস এর মেঘদূত এ ফুলের গুণ-কীর্তন করা হয়েছে। উদ্ভিদ বিষয়ক একাধিক জার্নাল মারফত জানা যায়, সোনালু গাছ আকারে ছোট। ডালপালা ছড়ানো-ছিটানো। দীর্ঘ মঞ্জুরিদ ঝুলে থাকা ফুলগুলোর পাপড়ির সংখ্যা পাঁচটি। সবুজ রঙের একমাত্র গর্ভকেশরটি কাস্তের মতো বাঁকানো। এ গাছের ফল বেশ লম্বা, লাঠির মতো গোল। তাছাড়া ফল, ফুল ও পাতা বানরের প্রিয় খাবার। এজন্য এ ফুলের আরেক নাম বান্দরলাঠি। গাঢ় সবুজ রঙের পাতাগুলো যৌগিক, মসৃণ ও ডিম্বাকৃতির। ফুল এক থেকে দেড় ইঞ্চি পর্যন্ত চওড়া হয়।এ গাছের কাঠ জ্বালানি ছাড়াও অন্যান্য কাজে লাগে। ফলের শাঁস বিভিন্ন রোগের ওষুধ হিসেবে কাজে লাগে। বাত, বমি ও রক্তস্রাব প্রতিরোধে উপকারী। বীজ সহজেই অঙ্কুরিত হয়, যদিও বৃদ্ধি মন্থর। এছাড়াও এ গাছের বাকল, রঙ ও ট্যানিংয়ের কাজে ব্যবহৃত হয়। পরিবেশ ও প্রকৃতি বিষয়ক সমন্বয়কারী জানান, বাংলা সাহিত্য, সংস্কৃতি আর অনেক বহু আন্দোলনের পটভূমির সাথে কৃষ্ণচুড়া গাছের সম্পর্ক খুব নিবিড়। ছড়া-কবিতা-গানে উপমা হিসাবে নানা ভঙ্গিমায় এসেছে এই ফুলের সৌন্দর্য বর্ণনা। এছাড়া শোভা বর্ধনকারী সোনালু ফুল দেশের গ্রামীণ জনপদের পাশাপাশি শহরের মানুষের কাছেও সমান গুরুত্ব বহন করে। শখের বশে এ গাছের কদর থাকলেও, এর কাঠ তুলনা মূলক দামি না হওয়া এবং ভালো কোন ব্যবহারে না আসায় বাণিজ্যিকভাবে এ গাছ বপনে আগ্রহ অনেক কম।

About jamuna

আবার চেষ্টা করুন

শেরপুরে সড়ক পাকাকরণ কাজের উদ্বোধন করলেন- হুইপ আতিক

মিজানুর রহমান মিলন, শেরপুর প্রতিনিধি যমুনাপ্রবাহ.কম: মরহুম আমির আলী সরকারের স্বপ্ন বাস্তবায়নে সোনাবরকান্দা- বালিয়া ১ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *