সদ্য সংবাদ
Home / গুরুত্বপূর্ণ / পেটের দায়ে তারা এখন ফেরিওয়ালা

পেটের দায়ে তারা এখন ফেরিওয়ালা

নিজস্ব প্রতিবেদক || যমুনাপ্রবাহ.কম

বাংলাদেশ সময়: ২০১০ ঘন্টা মে ০১, ২০২১

সিরাজগঞ্জ: সিরাজগঞ্জ: ভ্যানগাড়ী করে বাঙ্গি ফেরি করে বিক্রি করছেন বাসের হেলপার মুনীর হোসেন। তার পাশেই সুপার ভাইজার বয়োবৃদ্ধ আব্দুর রহমান বিক্রি করছিলেন সবজি। একই এলাকায় কিছুটা দূরে পাকা বেলের পসরা সাজিয়ে বসেছেন পরিবহণ শ্রমিক ফরিদুল। গ্রাহকদের ডেকে ডেকে নিজেদের পণ্য বিক্রির চেষ্টা করছেন তারা। এভাবে ফেরি করে পণ্য বিক্রিতে তারা অভ্যস্ত নন। তাই গ্রাহকও তেমনটা ভেড়াতে পারছেন না।

শনিবার (০১ মে) সিরাজগঞ্জ শহরের বাজার স্টেশন এলাকায় বেশ কিছু নতুন ফল ও সবজি বিক্রেতার দেখা পাওয়া যায়। শহরের বড় বাজার, কালিবাড়ী বাজার, শহরতলীর শিয়ালকোল, কান্দাপাড়া, কড্ডার মোড় বাজারগুলোতেও নতুন ফেরিওয়ালাদের আর্বিভাব ঘটেছে। আনাড়ি এসব ফেরিওয়ালাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এরা সবাই লকডাউনে কর্মহীন হয়ে পরা গণপরিবহণ শ্রমিক। পেটের দায়ে বাধ্য হয়ে পেশা পরিবর্তণ করেছেন তারা।

সয়ধানগড়া মহল্লার বয়োবৃদ্ধ শ্রমিক আব্দুর রহমান জানান, তিনি দীর্ঘদিন গাড়ী ড্রাইভিং করেছেন। বয়স বেড়ে যাওয়ায় বর্তমানে তিনি দূরপাল্লার এসআই পরিবহণে সুপার ভাইজার হিসেবে চাকরী করছেন। লকডাউনে প্রায় চার সপ্তাহ ধরে বাস চলাচল বন্ধ থাকায় তিনি সম্পূর্ণ বেকার হয়ে পড়েছেন। সংসার চালাতে বাধ্য হয়ে নেমেছেন সবজি বিক্রির ব্যবসায়।দুটি খাচিতে করে বাঙ্গি নিয়ে বসে এক ঘন্টা ধরে গ্রাহকের অপেক্ষায় রয়েছেন রফিকুল ইসলাম। কোন গ্রাহকই ভীড়ছে না তার কাছে। অন্য ফেরিওয়ালাদের মতো ডাকতেও পারছেন না এই পরিবহণ শ্রমিক।

দীর্ঘদিন ধরে কাজ না থাকায় ভ্যানে করে খেঁজুর ও ইফতার সামগ্রী ফেরি করেই সংসার চালাচ্ছেন বাস সুপার ভাইজার আব্দুর রহিম। এসব কাজে অভ্যস্ত না হওয়ায় বিড়ম্বনাতেও পড়তে হচ্ছে তাকে।এমন শত শত গণপরিবহণ শ্রমিক-কেউ তরমুজ আবার কেউবা ঘোল, কেউবা ইফতারি সামগ্রী আবার কেউবা সবজি বিক্রির পেশায় জড়িয়ে গেছেন। অভ্যস্ত না হলেও সংসার চালাতে বাধ্য হয়ে অস্থায়ীভাবে ভিন্ন কর্ম বেছে নিতে হচ্ছে পরিবহণ শ্রমিকদের।

এসব পরিবহণ শ্রমিকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, দ্বিতীয় দফায় করোনা ভাইরাস সংক্রমণরোধে সরকার ঘোষিত লকডাউনে নাজুক অবস্থা হয়ে পড়েছে গণপরিবহণ শ্রমিকদের। টানা ২৮ দিন ধরে লকডাউন তাদের একেবারে নি:স্ব করে ফেলেছে। অনেকেই জমানো টাকা শেষ করে ফেলেছেন। কেউ বা ঋণ করে সংসার চালাচ্ছেন। আবার অনেকেই লাজ-লজ্জা ভেঙে বাধ্য হয়ে ফেরিওয়ালা সেজেছেন। স্ত্রী-সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দিতে তারা এমন পেশা বেছে নিয়েছেন বলে জানান।

সিরাজগঞ্জ জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সুলতান মাহমুদ বলেন, জেলায় ৪ হাজার ৫৫১ জন বাস-মিনিবাস শ্রমিক রয়েছেন। এর মধ্যে রানিং শ্রকি প্রায় আড়াই হাজারের মতো। ২৮ দিন ধরে বাস বন্ধ থাকায় পেটের দায়ে লজ্জা ভেঙ্গে অস্থায়ীভাবে ভিন্ন পেশা বেছে নিয়েছেন এসব শ্রমিকেরা। এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে ২৫০ ও বেসরকারিভাবে ৩শ শ্রমিককে আমরা সহায়তা দিতে পেরেছি। যা একেবারেই অপ্রতুল। আমি রানিং বাসচালককে ঘোল বিক্রি করতে দেখেছি। একজন সুপার ভাইজারকে বাঙ্গি বিক্রির করতে দেখেছি। আমি তাদের সভাপতি তারা আমায় দেখে লজ্জা পাবে ভেবে কাছেও যাই নি।

তিনি আরও বলেন, শ্রমিকরা কোন সাহায্য চায় না। সব কিছুই স্বাভাবিক চলছে। শুধুই গণপরিবহণ বন্ধ রাখা হয়েছে। আমরা সরকারের কাছে দাবী জানাই, স্বাস্থ্যবিধি মেনে গণপরিবহণ চলাচলের ব্যবস্থা করা হোক।

About jamuna

আবার চেষ্টা করুন

মা ইলিশ ধরার দায়ে ১৬ জেলের কারাদন্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিরাজগঞ্জ যমুনাপ্রবাহ.কম : সিরাজগঞ্জের তিনটি উপজেলায় যমুনা নদীতে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানে ১৬ জেলেকে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *