Home / গুরুত্বপূর্ণ / পারিবারিক চাপ সামলাতে শিশু চুরি করেন নি:সন্তান আল্পনা

পারিবারিক চাপ সামলাতে শিশু চুরি করেন নি:সন্তান আল্পনা

 

নিজস্ব প্রতিবেদক যমুনাপ্রবাহ.কম

সিরাজগঞ্জে পৃথক দুটি হাসপাতাল থেকে দুই শিশু চুরি যাওয়ার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। সংঘবদ্ধ কোন চক্র নয়, মা হওয়ার জন্যই শিশু দুটিকে চুরি করা হয়েছে-তদন্তে এমন তথ্যই বের হয়ে এসেছে বলে জানায় পুলিশ।

রোববার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সিরাজগঞ্জ সদর থানায় সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান, পুলিশ সুপার মো. হাসিবুল আলম বিপিএম। তিনি বলেন, শনিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) হাটিকুমরুল গোলচত্বর এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতাল থেকে দ্বিতীয় শিশুটি চুরির পর রাতেই সলঙ্গা থানার আলোকদিয়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে একটি শিশুকে জীবিত ও অপরটিকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এ সময় আল্পনা খাতুন (২৪), তার মা ছায়ারন (৫৫), ভাই রবিউল ইসলাম (৩০), ভাইয়ের স্ত্রী মায়া খাতুন (২০), চাচী মিনা খাতুন (৫২) কে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

পুলিশ সুপার আরও বলেন, আটকদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে এ চুরির সাথে সংঘবদ্ধ কোন চক্র জড়িত নয়। নি:সন্তান হওয়ায় পারিবারিক চাপ সামলাতে আল্পনা খাতুন শিশু চুরির পরিকল্পনা করেন।

ঘটনার বিবরণ দিয়ে এসপি বলেন, বিয়ের ৭ বছরেও মা হতে পারেননি আল্পনা খাতুন। এ নিয়ে পরিবারে অশান্তি বিরাজ করছিল। পারিবারিক চাপ সামলাতে নিজেকে গর্ভবতী প্রচার করে আল্পনা। এক পর্যায়ে সন্তান প্রসবের কথা বলে বাবার বাড়ি আলোকদিয়া গ্রামে আসেন তিনি। সেখান থেকেই নিজে মা হওয়ার জন্য সন্তান চুরির পরিকল্পনা করেন আল্পনা।

প্রথম পরিকল্পনায় সে সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতাল থেকে শিশু চুরির সিদ্ধান্ত নেয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী সে হাসপাতালে যাতায়াত করে একজন কর্মচারীর সাথে সখ্যতা গড়ে তোলে। ওই কর্মচারির সাথে যোগাযোগ করেই মঙ্গলবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) হাসপাতালে আসেন আল্পনা। দুপুরের দিকে শিশু ওয়ার্ডে মাহিম নামে ২৯ দিন বয়সী শিশুটির মা মঞ্জুয়ারার সাথে সম্পর্ক সৃষ্টি করে। এক পর্যায়ে মঞ্জুয়ারা তাকে ভরসা করে ছেলেকে রেখে বিভিন্ন কাজে বাইরে যায়। সুযোগ বুঝে শিশু মাহিমকে ইনকিউবিটর থেকে নিয়ে পালিয়ে যায়। এরপর বাবার বাড়ি অবস্থান করতে থাকে আল্পনা। পরদিন শিশুটি অসুস্থ্য হয়ে পড়লে স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে ব্যবস্থাপত্র নিয়ে পল্লী চিকিৎসক শরিফুলের মাধ্যমে ইনজেকশন দিতে থাকে।

শনিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) শিশুটি মারা গেলে আল্পনা তার মৃতদেহ ধানের গোলায় লুকিয়ে ফেলে। এরপর আবারও বোরখা পরে হাটিকুমরুল গোলচত্বর এলাকায় সাখাওয়াত এইচ মেমোরিয়াল হাসপাতালে গিয়ে শিশু চুরির পরিকল্পনা করতে থাকে। ওখানে গিয়ে সামিউল নামে নবজতাক শিশুর নানি জয়নবের সাথে সম্পর্ক সৃষ্টি করে। আবেগে আপ্লুত হয়ে শিশুটিকে কোলে নিতে চাইলে জয়নব সরল মনে তার কোলে দেন। কিছুক্ষণ পর আল্পনা জয়নবকে বলে নার্স ডাকছে। তার কথায় সরল মনে জয়নব ভেতরে যায়। এ সুযোগে আল্পনা শিশুটিকে নিয়ে পালিয়ে যায়।

২৩ ফেব্রুয়ারি প্রথম শিশুটি চুরির পর থেকে সদর থানা পুলিশ, ডিবি, পিবিআই ও র‌্যাব সদস্যরা সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালাতে থাকে। এ অবস্থায় ২৭ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় শিশু চুরির পর সলঙ্গা থানা পুলিশ, ডিবি ও র‌্যাবসহ অন্যান্য সংষ্থার লোকজনের সহায়তায় অভিযান চালিয়ে শিশু দুটিকে উদ্ধার এবং মূল হোতা আল্পনা খাতুনকে গ্রেফতার করে। দুটি শিশু চুরির ঘটনায় মোট ৮ জন আটক রয়েছে। তাদের অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদ চলছে বলে জানান পুলিশ সুপার হাসিবুল আলম।

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসা নিতে আসা মাহিম নামের ২৯ দিন বয়সী একটি শিশু চুরি ঘটনা ঘটে। এর ঠিক ৪ দিন পর শনিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) হাটিকুমরুল গোলচত্বরের শাখাওয়াত এইচ মেমোরিয়াল হাসপাতাল থেকে সামিউল নামে একদিন বয়সী নবজাতক শিশুটি চুরি হয়। ওইদিন রাতেই আলোকদিয়া গ্রাম থেকে একটি শিশুকে জীবিত ও অপরটি মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় ।

About jamuna

আবার চেষ্টা করুন

মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পেয়েও ভর্তি নিয়ে শঙ্কা উল্লাপাড়ার শাহীনূরের

উপজেলা প্রতিনিধি || যমুনাপ্রবাহ.কম উল্লাপাড়া: সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার পাটধারী গ্রামের কৃষি দিনমজুর খলিলুর রহমান ও …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *