সদ্য সংবাদ
Home / অপরাধ / পাঁচ শতাধিক মানুষের দেড়কোটি টাকা নিয়ে চম্পট দিলেন এক নারী

পাঁচ শতাধিক মানুষের দেড়কোটি টাকা নিয়ে চম্পট দিলেন এক নারী

নিজস্ব প্রতিবেদক || যমুনাপ্রবাহ.কম

প্রকাশ কাল: ২৩৫০ ঘন্টা, জুন ২৩, ২০২১

সিরাজগঞ্জ: করোনা মহামারীতে কর্মহীন হয়ে পড়া অসহায় দরিদ্র মানুষদের বছরব্যাপী খাদ্যশস্য বিতরণের প্রলোভন দেখিয়ে দেড় কোটি টাকা নিয়ে চম্পট দিলো তাছলিমা খাতুন (৩২) নামে এক নারী। সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার কালিয়া হরিপুর ইউনিয়নের চর বনবাড়িয়া, পৌর এলাকার চর রায়পুর, মিরপুরসহ আশপাশের দরিদ্র মানুষগুলো এমন প্রতারণার শিকার হয়েছেন।

এদিকে এ ব্যাপারে চর বনবাড়িয়া গ্রামের আব্দুল আলিম নামে এক ভুক্তভোগী বাদী হয়ে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ এনে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। মামলায় তাছলিমা খাতুন ছাড়াও, তার ভাই উজ্জল হোসেন (৪২), মা উলুফা বেগম (৬০) ও বাবা আক্তার হোসেনসহ (৬৫) ৫ জনকে আসামী করা হয়েছে।

অভিযোগে জানা যায়, গত বছর করোনা ভাইরাসের প্রকোপের সময় এ অঞ্চলের শ্রমজীবি মানুষগুলো কর্মহীন হয়ে পড়েছিল। ঠিক তখনই চর বনবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা তাছলিমা খাতুন প্রতি মাসে মাসে এক বছরব্যাপী খাদ্যশস্য সহায়তার দেয়ার কথা বলেন। তিনি চর বনবাড়িয়াসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামে এজেন্ট নিয়োগ করেন এবং প্রতি এজেন্টের কাছ থেকে ৩০ হাজার করে টাকা জামানত হিসেবে নেন। একই সাথে খাদ্যশস্য দেয়ার কথা বলে প্রতি এজেন্টের কাছ থেকে আরও ১ লাখ টাকা করে নেন। এছাড়াও প্রতি এজেন্টকে দিয়ে ১০ জন করে সদস্য ভর্তির করান। সেসব সদস্যদের কাছ থেকে ১৫ হাজার ৫শ করে টাকা নেন। এভাবে প্রায় ৭০০ জন লোকের কাছ থেকে ১৫ হাজার ৫০০ টাকা, ১৮ জন এজেন্টের কাছ থেকে আরও ৪১ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি। এসব টাকা নিয়ে আমাদের খাদ্যশস্য দেয়ার কথা থাকলেও তাছলিমাসহ অন্যান্যরা টাকা হাতিয়ে নিয়ে পালিয়ে গেছেন।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী এজেন্ট ও থানায় অভিযোগকারী আব্দুল আলীম বলেন, আমাদের প্রতি মাসে এক একবস্তা চালসহ প্রায় ৭/৮ হাজার টাকার খাদ্যপন্য প্রতি মাসে দেয়ার কথা বলে টাকা নিয়েছে। অনেকেই সরল বিশ্বাসে এসব টাকা দিয়েছেন। প্রথম দিকে দু-একজনকে এসব খাদ্যশস্য দিলেও এখন আর কাউকে দিচ্ছে না। এ কারণে আমি নিজে বাদী হয়ে থানায় অভিযোগ করেছি।
কালিয়া হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান আব্দুস সবুর জানান, ক্ষতিগ্রস্থ মহিলারা সম্প্রতি আমার পরিষদে এসে এ বিষয়ে অভিযোগ করে গেছেন। একজন মহিলা নিজেই এসব টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে তাছলিমা খাতুন বলেন, এজেন্টরা ১৫/১৬ হাজার টাকা করে নিয়ে আমাকে ১২ হাজার করে টাকা জমা দিয়েছেন। এসব টাকা আমি স্টেডিয়াম রোডস্থ জয়নাল নামে এক ব্যক্তিকে দিয়েছি। আমি কোন টাকা আত্মসাত করি নাই। তারপরও কিছু কিছু মানুষ আমার ঘরে ঢুকে লুটপাট করে সব নিয়ে গেছে। একটি চামচ পর্যন্ত ঘরে রাখে নাই। তিনি বলেন, যেসব সদস্যের কাছে টাকা নেয়া হয়েছে তার মধ্যে কাউকে এক মাস আবার কাউকে ২ বা ৩ মাস ধরে ৫-৭ হাজার টাকার করে মালামাল দেয়া হয়েছে। এখন জয়নাল নামে ওই ব্যক্তিটি আমাকে পাত্তা দিচ্ছেন না। যে কারণে বিপদে পড়েছি। তিনি আমাকে ফাঁসিয়েছেন।

সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মেহেদী হাসান বলেন, এ বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। সরেজমিনে তদন্ত করে বিষয়টি দেখতে হবে।

About jamuna

আবার চেষ্টা করুন

নির্বাচনী কন্ট্রোল রুমে পাল্টে গেল ভোটের ফল: আদালতে স্বতন্ত্র প্রার্থী

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিরাজগঞ্জ যমুনাপ্রবাহ.কম: সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার বাঙালা ইউনিয়নের পশ্চিম সাতবাড়ীয় এবতেদায়ী মাদ্রাসা ভোট কেন্দ্রে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *