সদ্য সংবাদ
Home / জাতীয় / নিজে বাদী হয়েও সেই শালিসী বৈঠক থেকে পালিয়ে এলেন ইউএনও অফিসের কর্মচারি আবুল হাশেম

নিজে বাদী হয়েও সেই শালিসী বৈঠক থেকে পালিয়ে এলেন ইউএনও অফিসের কর্মচারি আবুল হাশেম

নিজস্ব প্রতিবেদক || যমুনাপ্রবাহ.কম

প্রকাশ কাল: ১৫৫২ ঘন্টা, জুলাই ৬, ২০২১

সিরাজগঞ্জ: জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ ও ঘটে যাওয়া সংঘর্ষের ঘটনার মিমাংসার লক্ষ্যে ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে বাদী হয়েছিলেন আবুল হাশেম। সেই অনুযায়ী শালিসী বৈঠকেরও আয়োজন করা হয়েছিল। এতে উপস্থিত হয়েছিলেন জেলা পরিষদ সদস্য, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, মেম্বর, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক, পৌরসভার কাউন্সিলরসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। প্রায় ৫ ঘন্টাব্যাপী চলা শালিসে উভয়পক্ষের শুনানী শেষে যখন মাতব্বরগণ সিদ্ধান্ত দেবেন ঠিক সেই মুহুর্তেই পালিয়ে গেলেন বাদী আবুল হাসেম।
এমন ঘটনা ঘটেছে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা বহুলী ইউনিয়নের মাছুয়াকান্দি গ্রামে। ওই গ্রামের বাসিন্দা চৌহালী উপজেলা নির্বাহী অফিসের অফিস সহকারি আবুল হাসেমের বিরুদ্ধে অভিযোগ ইউনিয়নের শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে অবজ্ঞা করে শালিসী বৈঠক থেকে পালিয়ে এসে সাংবাদিকদের মিথ্যা তথ্য দিয়ে একটি পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ করিয়েছেন। এ নিয়ে গ্রামের মুরুব্বিয়ানগণ ও সাধারণ মানুষের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।
মঙ্গলবার (৬ জুলাই) সরেজমিনে মাছুয়াকান্দি গ্রামে গেলে ইউএনও অফিসের অফিস সহকারি আবুল হাশেম ও তার ছেলের বিভিন্ন কীর্তিকলাপ তুলে ধরেন স্থানীয়রা। স্থানীয়রা জানান, ভূমিদস্যু আবুল হাশেম ইউএনও অফিসে চাকরীর প্রভাব খাটিয়ে সাধারণ মানুষকে একের পর এক হয়রানি ও নির্যাতন চালিয়ে আসছে। তার শরীকদের সম্পত্তি দখল করেছেন। এগুলোর প্রতিবাদ করলে শহর থেকে বহিরাগত সন্ত্রাসী নিয়ে এসে হামলা চালায় এবং নিরীহ মানুষগুলোর নামে একের পর এক মিথ্যা মামলা করেন। গত ১০ জানুয়ারী আবুল হাশেমের নেতৃত্বে আজিজল হক ও তার পরিবারের লোকজনের উপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটে। হামলা প্রতিরোধ করতে গেলে উভয়পক্ষের সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় একাধিক মামলা দায়েরও করা হয়।
দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এসব মেটানোর লক্ষ্যে আবুল হাশেম নিজে বাদী হয়ে বহুলী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন। গত শনিবার (৩ জুলাই) মাছুয়াকান্দি গ্রামের ইউপি সদস্য আমজাদ হোসেনের বাড়িতে শালিসী বৈঠকের আয়োজন করা হয়। এতে জেলা পরিষদ সদস্য কামরুল ইসলাম আমিনুল, বহুলী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রুহুল আমিন, সিরাজগঞ্জ পৌরসভার কাউান্সিলর মামুনুর রশীদ মামুন, সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এনামুল হক, গাজী নূর আলম, শিয়ালকোল ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম, সাবেক মেম্বর ফেরদৌস আলম, সাবেক মেম্বর হাজী মনোয়ার হোসেন, সাবেক পৌর কাউন্সিলর হীরা, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি মঞ্জুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক সেলিম রেজা, ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন, সামছুল আলম ও রুহুল আমিনসহ মাছুয়াকান্দি গ্রাম ও বহুলী ইউনিয়ন শতাধিক গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত শালিসী বৈঠক চলাকালে উভয়পক্ষ ও স্বাক্ষীদের শুনানী করা হয়। শেষে শালিসকারীগণ একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছার জন্য সাব-কমিটিতে যান। এ অবস্থাতেই আবুল হাশেম পালিয়ে যায়।
এদিকে রোববার (৪ জুলাই) স্থানীয় যুগের কথা পত্রিকায় একটি প্রতিবেদন “বহুলীতে জোরপূর্বক বাড়ির রাস্তায় বেড়া” শীর্ষক সংবাদ প্রকাশ করানো হয়। তবে ওই সংবাদটি সম্পূর্ণ মিথ্যা আখ্যা দিয়ে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি বলেন, আবুল হাশেম শালিসী বৈঠক থেকে পালিয়ে গিয়ে সাংবাদিককে মিথ্যা তথ্য দিয়ে এমন সংবাদ প্রকাশ করিয়েছে। সংবাদে আব্দুস ছালাম নামে একজন বয়স্ক ব্যক্তির নামে অভিযোগ করা হয়েছে যার কোন সত্যতা নেই।
এসব বিষয়ে শামছুল আলম ও ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেনসহ মাছুয়াকান্দি গ্রামের একাধিক মাতব্বর বলেন, আবুল হাশেম এলাকার কাউকে মানেনা শালিসেই তা প্রমাণ হয়েছে। তিনি ইউএনও অফিসের কর্মচারি হওয়ায় সেই প্রভাবেই চলতে চান। এ জন্য জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপেক্ষা করে শালিস থেকে পালিয়ে গেছেন।
এসব বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য আমজাদ হোসেন বলেন, আমার বাড়িতেই শালিসী বেঠকের আয়োজন করা হয়। কাগজপত্র পর্যালোচনা ও শুনানী শেষে উভয়পক্ষের সমর্থিত মাতব্বরগণ নিয়ে রায় কমিটি গঠন করা হয়। কিন্তু রায় শোনানোর আগেই বাদী আবুল হাশেম শালিসী বৈঠক ত্যাগ করে।
বহুলী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রুহুল আমিন বলেন, কয়েক গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ নিয়ে শালিসী বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে আবুল হাশেমেরও মুরুব্বী ছিলেন। অলরেডি আমরা একটি সিদ্ধান্তে পৌছে গিয়েছিলাম। এ অবস্থায় সমস্ত শালিসকারীকে অবমাননা করে বাদী আবুল হাশেম পালিয়ে গেছে।
জেলা পরিষদ সদস্য কামরুল ইসলাম আমিনুল জানান, এমন ঘটনা আমরা কখনো দেখি নাই। শালিসী বৈঠকে উপস্থিত মুরুব্বিয়ানগণ তাক্ষণিক স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান রুহুল আমিনের কাছে বিচার দাবী করেন। চেয়ারম্যান সাহেব তিনদিনের সময় দেন। তিন দিনের মধ্যে যদি আবুল হাশেমকে এসে ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে। নইলে তার বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

About jamuna

আবার চেষ্টা করুন

বঙ্গমাতা সাংস্কৃতিক জোটের উদ্যোগে শহীদ শেখ রাসেল দিবস উদযাপন

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিরাজগঞ্জ যমুনাপ্রবাহ.কম: নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *