সদ্য সংবাদ
Home / রাজনীতি / আওয়ামীলীগ / দেড়যুগ পর উল্লাপাড়া উপজেলা আ.লীগের সম্মেলন শনিবার

দেড়যুগ পর উল্লাপাড়া উপজেলা আ.লীগের সম্মেলন শনিবার

নিজস্ব প্রতিবেদক যমুনাপ্রবাহ.কম

সিরাজগঞ্জ: দীর্ঘ প্রায় দেড়যুগ পরে শনিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সিরাজগঞ্জে উল্লাপাড়া উপজেলা আওয়ামীলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই সম্মেলনকে ঘিরে উপজেলার নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপণা বিরাজ করছে। তবে সম্মেলনে কাউন্সিলর নির্বাচন নিয়ে বিস্তর অভিযোগও রয়েছে। তৃণমূলের ত্যাগী ও বঞ্চিতদের পরিবর্তে জামায়াত-বিএনপি থেকে আসা নেতাদের কাউন্সিলর করা হয়েছে বলে দলের একটি অংশ দাবী করেছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ২০০৩ সালে সর্বশেষ উল্লাপাড়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সর্বশেষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে ২০১৪ সালে একটি সম্মেলন হয়। ওই সম্মেলনে চলতি দায়িত্বে থাকা সাধারণ সম্পাদক সাবেক এমপি শফিকুল ইসলাম শফির অনুপস্থিতিতে মীর শহিদুল ইসলাম পুন্নকে আহবায়ক ও সংসদ সদস্য তানভীর ইমামকে সাধারণ সম্পাদক করে একতরফা কমিটি ঘোষণা করা হয়। বিষয়টি অবগত হলে সম্মেলন বাতিল করে শহিদুল ইসলাম পুন্নর নেতৃত্বে আহবায়ক কমিটি ঘোষণা দেয় কেন্দ্রীয় কমিটি। সেই থেকে আহবায়ক কমিটি দ্বারাই চলছে উপজেলা আওয়ামীলীগ। শনিবার ১৮ বছর পর সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

সম্মেলনে সভাপতি পদে সাবেক এমপি, বর্তমান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা শফিকুল ইসলাম শফি, উপজেলা আওয়ামীলীগের আহবায়ক কমিটির সদস্য ও ফয়সাল কাদের রুমি প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন উপজেলা আওয়ামীলীগের আহবায়ক গোলাম মোস্তফা ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জাহেদুল হক। ২৭ ফেব্রুয়ারি উপজেলা মোট ৪৫৮ জন কাউন্সিলর গোপন ব্যালটে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।

এদিকে এই সম্মেলনের আগে উপজেলার বেশ কয়েকটি ইউনিয়ন শাখা কমিটি গঠন নিয়ে বিস্তর অভিযোগ তোলেন দলের একটি অংশ। তাদের অভিযোগ ইউনিয়নগুলোতে আওয়ামীলীগের কমিটি নয় ভাইলীগের কমিটি হয়েছে। বিএনপি-জামায়াত থেকে অনুপ্রবেশকারীদের দ্বারা কমিটিগুলো গঠন হয়েছে বলে দাবী অনেকের। এসব বিষয়ে জেলা ও কেন্দীয় আওয়ামীলীগ বরাবর লিখিত অভিযোগও করা হয়েছে।

পঞ্চক্রোশী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান তৌহিদুল ইসলাম ফিরোজ বলেন, গত ইউপি নির্বাচনে নৌকা প্রতিক নিয়ে নির্বাচন করেও আমি দলের কোন পদে থাকতে পারলাম না। ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে আমার ইউনিয়নে লোক দেখানো কাউন্সিল হয়েছে। সেই কাউন্সিলে স্থানীয় জামায়াত নেতার ছেলে আতিকুজ্জামান ডেভিটকে সভাপতি করে অন্তত একডাজন বিএনপি থেকে আসা নেতাকর্মীদের পদ দেয়া হয়েছে। আগা ২৭ তারিখে সম্মেলনে জামায়াত ও বিএনপির ৬ জন কাউন্সিলর রয়েছেন।

বড় পাঙ্গাসী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবু বক্কার সিদ্দিক বলেন, ২০২০ সালে আমাদের ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সম্মেলন হয়েছে, সেখানে অধিকাংশই বিএনপি-জামায়াতের লোকজনকে নেতা বানানো হয়েছে। তারা দলেও যোগ দেয়নি অথচ কমিটির পদে রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, চাকশার শওকত ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদে থেকেও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের যুগ্ন সম্পাদক পদ পেয়েছেন। চক পাঙ্গাসির আমিনুল ইসলাম জামায়াতের সক্রিয় সদস্য হয়েও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের কমিটিতে স্থান পেয়েছেন। এরা দুজন ২৭ ফেব্রুয়ারির সম্মেলনে কাউন্সিলর। হয়েছেন। এসব বিষয়ে সকল তথ্য উপাত্তসহ দলের জেলা ও কেন্দ্রে চিঠি দেয়া হলেও কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।

উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক আহবায়ক নবী নেওয়াজ খান বিনু বলেন, ২০১৪ সালে উপজেলা আহবায়ক কমিটির সদস্য ছিলাম আমি। ওই কমিটির আহবায়ক মীর শহিদুল ইসলাম পূন্ন’র মৃত্যুর ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আমাকে ও অপর নেতা মাসুমকে কমিটি থেকে বাদ দেয়া হয়। এখানে এমপি’র মতের বিরুদ্ধে গেলেই তাকে নানাভাবে কোনঠাসা করে রাখা হয়েছে। বিপুল সংখ্যক ত্যাগী নেতাদের বঞ্চিত করা হয়েছে। ২৭ তারিখের সম্মেলনে সবকিছুর জবাব কাউন্সিলররা দেবে আসা করা যাচ্ছে।

সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জাহেদুল হক বলেন, দলের প্রতিটি ইউনিয়ন কমিটি এমপি তানভীর ইমাম সাহেবের আজ্ঞাবহ ইউপি চেয়ারম্যানদের দিয়ে করেছেন। উদুনিয়া ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক শরীফের মৃত্যুর পর তারই স্বাক্ষরিত সাদা কাগজে এমপি সাহেব নিজের পছন্দের লোক দিয়ে কমিটি গঠন করেছেন। তারপরও জয় আমাদেরই হবে ইনশাল্লাহ।

সভাপতি প্রার্থী উপজেলা চেয়ারম্যান ও সাবেক সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম শফি বলেন, ইউনিয়নগুলোতে আওয়ামীলীগের কোন কমিটি হয়নি। সেখানে আত্মীয়লীগ গঠন হয়েছে। বিষয়গুলো জেলা ও কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগকে চিঠি দিয়ে অবগত করা হয়েছে। তবুও আমরা সম্মেলনে প্রার্থী হয়েছি।

সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী গোলাম মোস্তফা বলেন, এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ইউনিয়নগুলোর সম্মেলন হয়েছে। সকালের মতামতের ভিত্তিতে কমিটি করা হয়েছে।

সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ তালুকদার বাংলানিউজকে বলেন, উল্লাপাড়া উপজেলার ইউনিয়ন কমিটিগুলো নিয়ে জেলার আগের কমিটির দরখাস্ত করা হয়েছিল। কিন্তু তখন সেটা সমাধান হয়নি। এখন ওই অভিযোগ নিয়ে বসলে সম্মেলন হতে আরও এক বছর সময় লেগে যাবে। এই মুহুর্তে সেটা সমাধান করা সম্ভব নয়। তারপরও আমরা স্বচ্ছতার সাথে চেষ্টা করছি। আমাদের কাছে নতুন কিছু কাউন্সিলর হওয়ার জন্য আবেদন করেছিল। আমরা কিছু সমাধান করেছি।

About jamuna

আবার চেষ্টা করুন

মা ইলিশ ধরার দায়ে ১৬ জেলের কারাদন্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিরাজগঞ্জ যমুনাপ্রবাহ.কম : সিরাজগঞ্জের তিনটি উপজেলায় যমুনা নদীতে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানে ১৬ জেলেকে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *