সদ্য সংবাদ
Home / লিড নিউজ / দশ বছর পর মৃত বাবাকে দেখতে এলেন দুই ছেলে ও নাতি

দশ বছর পর মৃত বাবাকে দেখতে এলেন দুই ছেলে ও নাতি

নিজস্ব প্রতিবেদক || যমুনাপ্রবাহ.কম

সিরাজগঞ্জ: ১০ বছরেও নিজের বাড়ি যাননি বৃদ্ধ গোলজার মিয়া (৭০)। দেখা হয়নি স্বজনদের সাথে। স্বজনেরা রাখেননি তাঁর কোন খোজ খবর। মৃত্যুর পর জানাযা শেষে বাবাকে দেখতে এলেন তার দুই ছেলে। গতকাল বৃহস্পতিবার (১ এপ্রিল) দুপুরে সিরাজগঞ্জে শাহজাদপুর উপজেলার দরগাহপাড়ায় মখদুমিয়া জামে মসজিদের সামনে বটতলায় মৃত্যু হয় বৃদ্ধ গোলজার মিয়ার। বিকেলে তাকে দেখতে আসেন দুই ছেলে মনিরুল (৩৫) ও আমিরুল (৩৩)।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দীর্ঘ ১০ বছরেরও অধিক সময় পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন গোলজার মিয়া এক সময় শাহজাদপুরে রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। সময় যাবার সাথে সাথে বয়সের ভারে নূব্জ হয়ে পড়েন তিনি। একসময় নিজের কাছেই নিজেকে বোঝা মনে হতে থাকে। অসুস্থতা ও জীর্ণ শারীর নিয়ে বেশ কয়েক বছর যাবত মসজিদের দর্শনার্থীদের কাছ থেকে সহযোগীতা নিয়ে পেট চলতো। এভাবেই চলতে থাকে কয়েক বছর। কিছুদিন পূর্বে গোলজার মিয়ার অসুস্থতা বেশি হলে চোখের দৃষ্টি শক্তি হারিয়ে ফেলেন তিনি।
বুধবার (৩১ মার্চ) রাতে শাহজাদপুর উপজেলার সাংবাদিক রাজিব আহমেদ অসুস্থ্য গোলজার মিয়ার সাথে কথা বলেন। দৃষ্টিশক্তিহীন গোলজার এ সময় বলেন, পাবনা জেলার জালালপুর এলাকায় তার বাড়ি। তার দুটি ছেলে রয়েছে। তিনি বাড়িতে যান না দীর্ঘদিন ধরে। এখন তিনি বাড়িতে ফিরতে চান কিনা জিজ্ঞাসা করলে তিনি অস্বীকার করেন। তবে কি কারণে তিনি পরিবার-পরিজন থেকে বিচ্ছিন্ন রয়েছেন সে বিষয়টি বলতে অস্বীকৃতি জানান।
এ অবস্থায় বৃহস্পতিবার (১ এপ্রিল) সকালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোষ্ট দেন সাংবাদিক রাজিব আহমেদ। মুহুর্তেই পোষ্টটি ভাইরাল হয়ে যায়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলতে থাকে তার পরিবারের খোঁজ। এ অবস্থায় সকাল ১১টার দিকে মারা যান গোলজার মিয়া।
সাংবাদিক রাজিব আহমেদ জানান, গোলজার মিয়ার জানাযা শুরু হয় জোহরের নামাজের পর। এর মধ্যে তার বড় ছেলে মনিরুল আমার সাথে যোগাযোগ করেন। জানাযা শেষে সন্তানদের জন্য গোলজার মিয়ার লাশ রেখে দেওয়া হয় মসজিদ প্রাঙ্গনেই। বেলা তিনটায় উপস্থিত হন গোলজার মিয়ার ছেলে আমিরুল ও মনিরুল। তাদের সাথে এসেছিল গোলজার মিয়ার বংশের প্রদীপ দুই নাতি। পরে খাটিয়াতে রাখা গোলজার মিয়ার মুখ দেখেই দুই ছেলে কান্নায় ভেঙে পড়েন, কান্নারত অবস্থায়ই গোলজার মিয়ার দেহ দেখিয়ে তার ছেলেরা নাতিদের উদ্দেশ্যে বলেন যে এই হলো তোমাদের দাদা। সে সময় এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়।
গোলজার মিয়ার ছোট ছেলে আমিরুল বলেন, তার বাবার সাথে মা ফাতেমা খাতুনের বিবাহ বিচ্ছেদ হয় ১০ বছর আগে। সেই থেকেই বাবা বাড়িতে যান নি এবং পরিবারের কারও সাথে যোগাযোগও করেননি। এমনকি দেড় বছর আগে আমাদের মা মারা গেলেও বাবা দেখতে যাননি। তবে আমরা জানতাম বাবা শাহজাদপুরে রয়েছেন। তবে মাঝে মাঝে তার বাবার সাথে ফোনে কথা বলার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন বলে দাবী করেন আমিরুল।

About jamuna

আবার চেষ্টা করুন

সিরাজগঞ্জে পৃথক সড়ক দূর্ঘটনায় মহিলাসহ নিহত ২ (ভিডিওসহ)

আপডেট সময় : ০৬:২০ ঘন্টা: ১৩ মে, ২০২১ নিজস্ব প্রতিবেদক || যমুনাপ্রবাহ.কম সিরাজগঞ্জ : সিরাজগঞ্জ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *