সদ্য সংবাদ
Home / গুরুত্বপূর্ণ / তাড়াশে ২২ বছর ধরে বিদ্যালয়ের সভাপতি মির্জা বকুল: দূর্নীতির মাধ্যমে হাতিয়ে নিলেন লাখ টাকা

তাড়াশে ২২ বছর ধরে বিদ্যালয়ের সভাপতি মির্জা বকুল: দূর্নীতির মাধ্যমে হাতিয়ে নিলেন লাখ টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিরাজগঞ্জ

দিঘী সগুনা এম,এ,আর নিম্ন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় (বামে), ডানে ওই বিদ্যালয়ের সভাপতি মির্জা আব্দুর রশিদ বকুল।

যমুনাপ্রবাহ.কম: ব্যক্তি নামীয় প্রতিষ্ঠানের বিধি-বিধান না মেনে বাবার নামে বিদ্যালয় স্থাপন এবং ২২ বছর ধরে নিজে সভাপতির দায়িত্বে থেকে নানা অনিয়ম-দূর্নীতির মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার দিঘী সগুনা এম.আর.এ নিম্ন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মির্জা আব্দুর রশিদ বকুলের বিরুদ্ধে।

এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (রাজশাহী অঞ্চল) বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ওই বিদ্যালয়ের অভিভাবক সদস্যরা। সুনির্দিষ্ট ১২টি অভিযোগ উল্লেখ করে দায়ের করা অভিযোগের অনুলিপি জেলা শিক্ষা অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং উপজেলা শিক্ষা অফিসার বরাবরও প্রেরণ করা হয়েছে।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ২০০০ সালে দিঘীসগুণা গ্রামের কতিপয় বিদ্যোৎসাহী ব্যক্তির প্রচেষ্টায় এম.এ.আর নি¤œ মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে মির্জা আব্দুর রশিদ বকুল তার আস্থাভাজনদের সদস্য করে নিজে ২২ বছর ধরে সভাপতির পদ আকড়ে রয়েছেন। নানা অনিয়মের মাধ্যমে হাতিয়ে নিচ্ছেন লাখ লাখ টাকা। প্রতিষ্ঠাকালে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক করা হয় সভাপতি মির্জা আব্দুর রশিদ বকুলের ছেলে মির্জা ফারুক আহমেদকে। তিনি তখন পাশ^বর্তী জে.আই.বিএম স্কুল এন্ড কলেজের সহকারি শিক্ষক পদে কর্মরত ছিলেন। ওই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থেকেও নিয়ম বর্হিভূতভাবে ২০০৫ সাল পর্যন্ত এ বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষকের হাজিরা স্বাক্ষর করে গেছেন।

বাবা সভাপতি ও ছেলে প্রধান শিক্ষক। পিতা-পূত্র যোগসাজসে মোটা অংকের ঘুষের বিনিময়ে আব্দুল হাকিম নামে একজনকে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ করেন। যার নিয়োগের সময় দেখানো হয় ১৪ই জানুয়ারী ২০০৩ সাল। অথচ প্রতিষ্ঠাকাল থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত প্রধান শিক্ষকের পদে স্বাক্ষর করে গেছেন মির্জা ফারুক আহমেদ। এছাড়াও উল্লেখিত সময়ের মধ্যে সভাপতি ও তার ছেলে মিলে টাকার বিনিময়ে একাধিক প্রধান শিক্ষক নিয়োগ এবং অব্যাহতি দেন। এরা হলেন মাসুম বিল্লাহ, কল্পনা খাতুন, আব্দুল মামুন ও মোখলেসুর রহমান।

অভিযোগে আরও বলা হয় সভাপতির আপন ছোট ভাই মির্জা আব্দুর রউফকে অফিস সহকারি পদে নিয়োগ দেন এবং অজ্ঞাত কারণে তাকে শো-কজ ও অব্যাহতি দেন। পরবর্তীতে টাকার বিনিময়ে রতনা খাতুন নামে একজনকে নিয়োগ দিলেও অফিসিয়াল কাজকর্ম অব্যাহতিপ্রাপ্ত ভাই রউফকে দিয়েই করানো হচ্ছে।

সিরাজুল ইসলাম নামে একজন বিদ্যালয়ের নামে দেড় বিঘা সম্পতি দিয়ে দপ্তরী পদে নিয়োগ পান। অথচ জোড়ালো কোন অভিযোগ ছাড়াই ২০০৭ সাল তাকে চাকরী থেকে অব্যাহতি দেন। পরবর্তীতে সভাপতির নিকট আত্মীয়কে টাকার বিনিময়ে দপ্তরীর চাকরী দেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে,  স্থানীয় আজিজুল ইসলাম, মোহাম্মদ আলী, আশরাফ আলী, আব্দুল জলিল, শরিফুল ইসলাম, আরিফুল ইসলাম, খাদেমুল ইসলাম, ছকির উদ্দিন, খবির উদ্দিন ও ফজলার রহমান বিভিন্ন পরিমাণে মোট ৯০ শতাংশ জমি বিদ্যালয়ের নামে দান করেন। গত ২০১৯ সালের ২১ এপ্রিল বিদ্যালয়ের নামীয় জমির মধ্য থেকে ৪০ শতাংশ জমি অবৈধভাবে মির্জা ফারুক আহমেদের কাছে বিক্রি করা হয়। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সেক্রেটারী আব্দুল হাকিম দাতা সেজে এ জমি বিক্রি করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

এদিকে ক্যাটাগরি অনুযায়ী বিদ্যালয়ে ৫ জন শিক্ষক থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে ১০ জন শিক্ষক দিয়ে চালানো হচ্ছে এ প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠার পর থেকে একাধিক ব্যক্তিকে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ ও অব্যাহতি দেয়া হয়। এসব ব্যক্তির কাছ থেকে মোটা অংকের টাকাও হাতিয়ে নেন সভাপতি মির্জা আব্দুর রশিদ বকুল ও তার ছেলে মির্জা ফারুক আহমেদ।

আব্দুল মামুন নামে এক ব্যক্তি জানান, প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ দেয়ার কথা বলে আমার কাছ থেকে টাকা নেয়া হয়েছিল। ২০১৬ সাল থেকে প্রায় বছরখানেক স্কুলে আমি যাতায়াতও করেছি। আমাকে কাগজে কলমে নিয়োগ না দিয়ে পরবর্তীতে ম্যানেজিং কমিটি টাকা ফেরত দেন। 

সেলিম প্রধান নামে এক ব্যক্তি বলেন, তার ছোট বোন কল্পনা খাতুনকে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেয়ার কথা বলে টাকা নিয়েছিলেন মির্জা আব্দুর রশিদ বকুল। ২০১৫-১৬ সালে বেশ কিছুদিন প্রধান শিক্ষক পদে চাকরীও করেছেন তার ছোট বোন। পরবর্তীতে কিছু টাকা ফেরত দিয়ে চাকরী থেকে অব্যাহত দেয় ম্যানেজিং কমিটি। সাবেক প্রধান শিক্ষক গোলাম মোস্তফা বলেন, ওই বিদ্যালয়ে ২০১৮ সাল থেকে প্রায় দেড় বছর আমি প্রধান শিক্ষক পদে চাকরী করেছি। পরবর্তীতে আমাকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

সাবেক দপ্তরী সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমার শ^শুর ও চাচা শ^শুড়ের দেড় বিঘা সম্পত্তি রয়েছে ওই বিদ্যালয়ের নামে। বিনিময়ে আমাকে দপ্তরির চাকরী দেয়া হয়েছিল। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে আমাকে চাকরী থেকে অব্যাহতি দিয়ে টাকার বিনিময়ে সভাপতির আত্মীয় ইউনুস আলীকে চাকরি দিয়েছেন।

স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ইদ্রিস আলী বলেন, আজিজল ইসলাম, মোহাম্মদ আলী ও আশরাফ আলীর কাছ থেকে ৪০ শতাংশ জমি কিনেছিলাম। স্কুল প্রতিষ্ঠার সময় গ্রামবাসীর অনুরোধে ওই জমি স্কুলের নামে দিয়ে দেই। অথচ স্কুলের সেই জমি বেআইনীভাবে বিক্রি করা হয়েছে সভাপর্তি ছেলের কাছে।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে ওই বিদ্যালয়ের বর্তমান প্রধান শিক্ষক আব্দুল হাকিম বলেন, আমাকে সাসপেন্ড করা হয়েছে, তাই দুই বছর ধরে বিদ্যালয়ে যাই না। ২০০৩ সালে আমাকে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ করা হলেও মাঝখানে অনেককেই এ পদে নিয়োগ এবং অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। বিদ্যালয়ের ৪০ শতাংশ জমি আমাকে দিয়ে লিখিয়ে নিয়েছে সভাপতি ও তার ছেলে।

তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মেজবাউল করিম জানান, দিঘীসগুনা এম.এ.আর নি¤œ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ আমাদের কাছে এসেছে। এখনও অভিযোগটি পুরোপুরি দেখা হয় নাই। এটি দেখে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।

জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. শহীদুল্লাহ বলেন, অভিযোগের চিঠি এখনও আমাদের হাতে আসেনি। অভিযোগ হাতে পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

About jamuna

আবার চেষ্টা করুন

নির্বাচনী কন্ট্রোল রুমে পাল্টে গেল ভোটের ফল: আদালতে স্বতন্ত্র প্রার্থী

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিরাজগঞ্জ যমুনাপ্রবাহ.কম: সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার বাঙালা ইউনিয়নের পশ্চিম সাতবাড়ীয় এবতেদায়ী মাদ্রাসা ভোট কেন্দ্রে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *