সদ্য সংবাদ
Home / গুরুত্বপূর্ণ / চার গ্রামের একমাত্র প্রাথমিক বিদ্যালয়, স্থানান্তরের চেষ্টায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী

চার গ্রামের একমাত্র প্রাথমিক বিদ্যালয়, স্থানান্তরের চেষ্টায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী

নিজস্ব প্রতিবেদক || যমুনাপ্রবাহ.কম

সিরাজগঞ্জ: “চর সাপড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়”- সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার কালিয়া হরিপুর ইউনিয়নের যমুনা বিধৌত চারটি গ্রামে একমাত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এটি। চর সাপড়ি, ছোট পিয়ারী, বড় পিয়ারী ও বিয়াড়াঘাট গ্রামের একমাত্র প্রাথমিক বিদ্যালয়টি স্থানান্তরের প্রক্রিয়া চলায় হতাশ এলাকাবাসী। অবিলম্বে এ বিদ্যালয়টি স্থানান্তর প্রক্রিয়া রহিত করার দাবি তাদের।

বুধবার (৪ আগষ্ট) দুপুরের দিকে সরেজমিনে গেলে এগিয়ে আসেন স্থানীয় গৃহবধু আমিনা খাতুন। তিনি বলেন, এ স্কুলটি সরাইলে আমাগোরে ছেলেমেয়ে কোনে যাইবো। মনির নামের অপর এক ব্যক্তি বলেন, আমরা যমুনাপারের মানুষ। নদীভাঙন আমাগোরে চিরসাথী। তাই বইল্যা আমাগোরে ছেলেপুলে কি পড়াশোনা কইরবো না? এমন প্রশ্ন রাখেন অনেকেই।

এদিকে এ বিদ্যালটি স্থানান্তর প্রক্রিয়া রহতি করার দাবী জানিয়ে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা চেয়ারম্যান বরাবর একটি লিখিত আবেদন জানিয়েছে এলাকাবাসী। ইমাম আলী, রেজাউল করিম মেহেদী হাসান, রাজু আহামেদ, জাহিদ হাসানসহ একাধিক গ্রামবাসী স্বাক্ষরিত লিখিত আবেদনে উল্লেখ করেছেন, চর সাপড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি স্থানান্তর করে পার্শ্ববর্তী শিয়ালকোল ইউনিয়নে নেয়া হচ্ছে। ভাঙন কবলিত কালিয়া হরিপুর ইউনিয়নের এ এলাকাটি বন্যা কবলিত। এখানে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা খুব কম। বিয়াড়াঘাটের পার্শবর্তী ছোট পিয়ারী, বড় পিয়ারী, চর সাপড়ি ও দুটি গুচ্ছগ্রামের কোথাও কোন প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই। এ অবস্থায় এই বিদ্যালয়টি স্থানান্তর করা হলে এ অঞ্চলের ছেলেমেয়েদের শিক্ষাগ্রহণে অন্তরায় হবে।

স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য সবজেল হোসেন, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ নেতা আব্দুল মালেক মন্ডল ও পল্লী চিকিসক হাসমত আলী বলেন, আশপাশের দুই কিলোমিটারের মধ্যে কোন স্কুল নেই। চর সাপড়ি গ্রামটি যমুনার ভাঙনে বিলিন হওয়ার পর একই ওয়ার্ডের বিয়ারা ঘাট এলাকায় স্কুল ঘরটি স্থানান্তর করা হয়েছে। শুনছি এখান থেকে স্কুলটা শিয়ালকোল ইউনয়িনে নেয়া হবে। এতে আমরা এলাকাবাসীরা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হবো। আমাদের ছেলেমেয়ে পড়াশোনা করানো মুশকিল হয়ে পড়বে।

চর সাপড়ি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শেখর চন্দ্র চানান, উপজেলা শিক্ষা কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক স্কুলটি স্থানান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। আমি একজন শিক্ষক। স্কুল ভবন যেখানে দেবে আমাকে সেখানেই যেতে হবে।

সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বলেন, চর সাপড়ি প্রাথমিক বিদ্যালয়টিতে ছাত্রসংখ্যা ছিল একেবারেই কম। সর্বশেষ সমাপনী পরীক্ষায় ৪ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। যার সবাই ফেল করে। এছাড়াও ওই প্রতিষ্ঠানটির ক্যাচমেন্ট এরিয়া সম্পূর্ণ নদীতে ভেসে গেছে। এখন বিয়ারা ঘাট একটি পরিত্যক্ত স্থানে ভবনটি রাখা হয়েছে।

এ স্কুলটির বিষয়ে গত ফেব্রুয়ারি মাসে উপজেলা সমন্বয় মিটিংয়ে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি করে দেয়া হয়। ওই কমিটির সুপারিশ অনুযায়ীই স্কুলটা স্থানান্তরে প্রক্রিয়া চলছে। স্কুলটির বিভিন্ন দিকে এক-দেড় কিলোমিটার দূরে প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এখানকার শিক্ষার্থী সেসব স্কুলেই পড়াশোনা করবে।

তিনি বলেন, শিয়ালকোল ইউনিয়নের বিলধলী মৌজায় কোন স্কুল নাই। তাই এটি সেখানে স্থানান্তর করা হচ্ছে। তবে স্থানীয়রা স্কুলটি স্থানান্তর না করার ব্যাপারে আবেদন করেছে। এ কারণে সকল প্রক্রিয়া বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। সঠিকভাবে তদন্ত করেই স্কুল স্থানান্তর করা হবে।

About jamuna

আবার চেষ্টা করুন

নির্বাচনী কন্ট্রোল রুমে পাল্টে গেল ভোটের ফল: আদালতে স্বতন্ত্র প্রার্থী

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিরাজগঞ্জ যমুনাপ্রবাহ.কম: সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার বাঙালা ইউনিয়নের পশ্চিম সাতবাড়ীয় এবতেদায়ী মাদ্রাসা ভোট কেন্দ্রে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *