সদ্য সংবাদ
Home / গুরুত্বপূর্ণ / চাটমোহরে ঐতিহ্য কুমড়ো বড়ির গ্রামে ব্যস্ত নারীরা

চাটমোহরে ঐতিহ্য কুমড়ো বড়ির গ্রামে ব্যস্ত নারীরা

চাটমোহর প্রতিনিধি, যমুনাপ্রবাহ.কম

রাতের আঁধার সরতে শুরু করেছে, পূর্বাকাশে আলোর রেখা ফুঁটছে। কুমড়ো বড়ির গ্রামের নারী শ্রমীকদের ঘুম ভেঙ্গেছে অনেক আগেই। সবাই ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন, কুমড়ো বড়ি শুকোতে দিতে। রোদ ওঠার সাথে সাথে সবাই টিনের পাতে দেয়া কুমড়ো বড়ি নিয়ে ছুটছেন বাগানে, উঠোনের ফাঁকা জায়গায়। চাটমোহরের আঁধার পাড়া বর্তমানে কুমড়ো বড়ির গ্রাম নামে পরিচিত, কুমড়ো বড়ির গ্রামের নারী-পুরুষ এখন মহাব্যস্ত কুমড়ো বড়ি বানাতে। শীতের শুরুতেই বেশী দামে বড়ি বেচা চাই এটাই কুমড়ো বড়ি গ্রামের নারী পুরুষের লক্ষ। শীতের শুরুতেই চাটমোহরের ঐতিহ্যবাহী এই সুস্বাদু তরকারীটি গৃহকোনে বানানো শুরু হয়ে যায়।
পৌরসভার দোলং সরকার পাড়াও এলাকবাসীর কাছে এখন কুমড়ো বড়ির গ্রাম হিসাবে পরিচিত। দোলং সরকার পাড়া গ্রামেই শান্তি রানীর বসবাস, তার মতোই এ গ্রামের প্রায় ৫০ টি পরিবার কুমড়ো বড়ির ব্যবসা করে সংসারে স্বচ্ছলতা এনেছেন। বছরের সাত মাসের এ ব্যবসায় এখন পরিবার গুলোর চালচিত্র বদলে গেছে।
প্রতিটি পরিবারের ছেলেমেয়ে স্কুল-কলেজে পড়ছে। এক সময়ে ভুমিহীন অনেক পরিবার জমি কিনে নতুন টিনের আধাপাকা ঘর তুলে বাড়ি করেছেন। এক সময় অভাবী বিদ্যুতহীন মহল্লাটির নাম আধারপাড়া ছিল, এখন বিদ্যুতের আলোর সাথে নারী শ্রমী মানুষ গুলো স্বচ্ছলতার আলো এনেছেন সংসারে।
চাটমোহর-ছাইকোলা সড়কের পাশে পৌরসভার ভেতরে গ্রামটিতে শরতের এক সকালে গিয়ে কথা হয় এ পেশার সাথে জড়িত কয়েকজন নারী – পুরুষের সাথে। কুমড়ো বড়ির গ্রামে দেখা যায়, সবাই কুমড়ো বড়ি বানিয়ে টিনের পাতে বাড়ির আঙ্গিনায়, টিনের চালে, বাগানের ফাঁকা জায়গায় রোদে শুকাতে দিয়েছেন।
এ ব্যাপারে কুমড়ো বড়ি গ্রামের প্রদীপ কুমার ভৌমিকের সঙ্গে কথা হয়। সে প্রতিদিনের সংবাদ কে বলেন, এক কেজি এ্যাংকর বড়ি বানাতে সব মিলিয়ে খরচ হয় প্রায় ৫৫-৬৫ টাকা, পাইকারী বিক্রি হয় ৮০-৯০ টাকা কেজি দরে। তবে বড়ির মানভেদে খুচরা বিক্রি হয় হাটে-বাজারে ৮০/১০০/১২০ টাকা কেজি।
ওই গ্রামের স্বরস্বতী রানী পাল ও বিজলী রানী নামের নারীর সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, এই কুমড়ো বড়ি বানানোর জন্য ডাউল (ডাল) পাটায় বেটে বেসন বানানো, কুমড়ো বড়ি তৈরি ও শুকানোসহ সব কাজ আমরা মেয়েরা করি।
তারা বলেন, এ পেশা ছোট হোলেও পরিশ্রম বেশী, তবে আমরা মেয়েরা ঘরে বসে কাজ করতে পারি তুলনা মূলক লাভ অনেক।
তার আরো বলেন, আগে সব রকম ডালের বড়ি বানানো হতো। ডালের দাম বেশী হওয়ায় এখন শুধু এ্যাংকর ডাউলের বড়ি বানাই। এ পেশা বাংলা ভাদ্র থেকে শুরু হয়ে ফালগুন মাসে গিয়ে শেষ হয়। বাকি সময় গ্রামের নারীরা অন্য কাজ করেন।
এ গ্রামের বাসিন্দা তরুন পাল বলেন, আমি ছোটবেলা থেকে এ পাড়ায় বড়ি বানানো দেখছি, এই ব্যবসা করে সবাই সংসারে স্বচ্ছলতা এনেছেন। পাশের চৌধুরীপাড়ার বাসিন্দা পরিতোষ সরকার বলেন, সরকার পাড়ার নারীরাই কুমড়ো বড়ির ব্যবসা করে অভাবী সংসারে স্বচ্ছলতা নিয়ে এসেছে। মেয়েরাই তো সব করে, পুরুষরা শুধু বিক্রি করে।

About jamuna

আবার চেষ্টা করুন

সিরাজগঞ্জে অস্ত্র-গুলিসহ শীর্ষ ছিনতাইকারি গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিরাজগঞ্জ যমুনাপ্রবাহ.কম: সিরাজগঞ্জে ছিনতাই, বিস্ফোরক আইনসহ বিভিন্ন অভিযোগে দায়ের করা একাধিক মামলার আসামী …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *