বৃহস্পতিবার , জুন 24 2021
সদ্য সংবাদ
Home / সারাদেশ / রাজশাহী বিভাগ / চলনবিলে প্রতিপক্ষের হামলায় বাবা-ছেলে নিহত: এলাকায় চরম উত্তেজনা

চলনবিলে প্রতিপক্ষের হামলায় বাবা-ছেলে নিহত: এলাকায় চরম উত্তেজনা

মহসীন আলী তাড়াশ প্রতিনিধি

যমুনাপ্রবাহ.কম: চলনবিল অধ্যুষিত পাবনার ভাঙুড়া উপজেলার থান মরিচ ইউনিয়নের দাসবেলাই গ্রামে একটি পুকুর নিয়ে প্রতিপক্ষের হামলায় একই পরিবারের বাবা ও ছেলে নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ১১জন। এদিকে এই জোড়া খুনের আসামীদের ফাঁসির দাবিতে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

জানা যায়, ওই গ্রামের বেল্লাল ও গফুর গ্রুপের মধ্যে পুকুরে মাছচাষ নিয়ে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। পরবর্তীতে মিলেমিশে পুকুরে চাষ করার জন্য দু গ্রুপের মধ্যে ১জনকে সভাপতি ও ১জনকে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি করা হয়। কিন্তু এ পুকুরে চাষ করাকে কেন্দ্র করে গোলমাল চলতে চলতে এটা পারিবারিক দ্বন্দে পরিনত হয়। এ ঘটনার জের ধরে বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকালে বেল্লাল গ্রুপের লোকজন অতর্কিত ভাবে গফুর গ্রুপের উপর হামলা করলে সংঘর্ষ হয়। এই সংঘর্ষে বেল্লাল বাহিনীর লোকজন গফুর বাহিনীর লোক জনকে মেরে আহত করে। আহতরা হলেন, তোরাব আলী,ফজলুর,আব্দুল গফুর,জহির উদ্দিন,নজরুল ইসলাম,মমিন,আলা উদ্দিন,আশরাফুল,হাফিজুর,বাছিয়া খাতুন,মমেন ও হালিমা খাতুন। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে ভাঙ্গুড়া হাসপাতালে নিয়ে গেলে প্রাথমিক চিকিতসার পর কর্তব্যরত চিকিতসক আহতদের অবস্থার অবনতি দেখে রাজশাহী মেডিক্যাল হাসপাতালে পাঠান। রাজশাহী হাসপাতালে চিকিতসাধীন অবস্থায় বুধবার বিকাল ৫টায গফুর গ্রুপের তোরাব আলী (৭৫) মারা যান। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকাল ১১টার দিকে তার ছেলে ফজলুর রহমান (৩৫) মারা যান। বাবা ও ছেলের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমেছে। তোরাব আলীর ৩ ছেলে ও ৫ মেয়ের মধ্যে ছোট ছেলে ফজলুর রহমান তার স্ত্রীসহ ১ ছেলে ও ১ মেয়ে রেখে গেছেন। উভয়কে শুক্রবার সকালে জানাযা নামাজ পর সুলতানপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

মেয়ে আফিয়া খাতুন’র (১০) কান্নায় এলাকার মানুষ চোখের পানি ধরে রাখতে পারছে না। মেয়ে বলে আমি আমার আব্বার মুখ দেখতে পারি নাই। আমার আব্বাকে যারা মারছে ,আমাদের যারা এতিম করছে তাদের আমি ফাঁসি চাই। এ ব্যাপারে নিহত ফজলুর স্ত্রী আলেফা খাতুন বলেন, আমার স্বামী ও শ্বশুরকে যারা মেরে ফেলেছে এবং যাদের উস্কানীতে এই কাজ করেছে,যারা সহযোগীতা দিয়েছে তাদের প্রত্যেকেরই শাস্তি চাই। আমার ছেলে মেয়েকে যারা এতিম বানিয়েছে যারা আমার স্বামীকে হত্যা করেছে ,সেই সকল হত্যাকরীদের ফাঁসি চাই। এ বিষয়ে খানমরিচ ইউপি চেয়ারম্যান আসাদুর রহমান বলেন, এটা একটা ন্যাক্কারজনক ঘটনা। যারা এই ঘটনার সাথে জড়িত তাদের উপযুক্ত শাস্তি হোক । শান্তি বজায় রাখার জন্য ঘটনাস্থলে গ্রাম পুলিশ রাখা হয়েছে। ভাঙ্গুড়া থানা অফিসার ইনচার্জ আনোয়ার হোসেন বলেন, এই ঘটনায় থানায় ১৮ জনের নামে মামলা হয়েছে।তার মধ্য থেকে ৫জনকে আটক করা হয়েছে। বাদবাকী আসামীদের ধরার জন্য অভিযান অব্যাহত রাখা হয়েছে। এছাড়াও শান্তি শৃংখলা বজায় রাখার জন্য ঘটনাস্থলে পুলিশ রাখা হয়েছে।

About jamuna

আবার চেষ্টা করুন

পাঁচ শতাধিক মানুষের দেড়কোটি টাকা নিয়ে চম্পট দিলেন এক নারী

নিজস্ব প্রতিবেদক || যমুনাপ্রবাহ.কম প্রকাশ কাল: ২৩৫০ ঘন্টা, জুন ২৩, ২০২১ সিরাজগঞ্জ: করোনা মহামারীতে কর্মহীন …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।