সদ্য সংবাদ
Home / গুরুত্বপূর্ণ / গ্রামবাসির অভিযোগ উপেক্ষিত: রঘুনাথপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সেই শিক্ষক জুটি বহাল তবিয়তে

গ্রামবাসির অভিযোগ উপেক্ষিত: রঘুনাথপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সেই শিক্ষক জুটি বহাল তবিয়তে

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিরাজগঞ্জ

যমুনাপ্রবাহ.কম: অনৈতিক সম্পর্কের দায়ে ১০০৭ জন গ্রামবাসী স্বাক্ষরিত অভিযোগকে উপেক্ষা করে এখনও বহাল তবিয়তে রয়েছেন সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার রঘুনাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সেই দুই শিক্ষক। এদিকে ওই শিক্ষক-শিক্ষিকার বিরুদ্ধে অভিযোগ করার কারণে পাল্টা অভিযোগে ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসারের যোগসাজসেই এসব কর্মকান্ড হচ্ছে বলে স্থানীয়রা দাবী করেছেন। ওই দুই শিক্ষককে বদলী না করলে মানববন্ধনসহ কঠোর কর্মসূচি দেয়া হতে পারে বলে গ্রামবাসী জানিয়েছেন।
রোববার (১২ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার রঘুনাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে স্থানীয়দের সাথে কথা বললে তারা এসব কথা বলেন।
জানা যায়, রঘুনাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক আব্দুল ওয়াহেদ ও রুমিনা সুলতানা নামে দুই শিক্ষক নিজেদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক সম্পর্ক চালিয়ে আসছেন-ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকগণ প্রধান শিক্ষক হাসান উল করিমের কাছে এমন অভিযোগ করে। প্রধান শিক্ষক এসব অভিযোগের সত্যতাও পান। প্রধান শিক্ষক তাদের এ বিষয়ে সতর্ক করতে গেলে উল্টো হুমকি-ধামকি দেয় তারা। বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও সহকারি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকেও অবগত করানো হয়। এসব বিষয়ে নিয়ে মাঝে মাঝে স্কুলে বিশৃংখল পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
এ অবস্থায় সহকারি শিক্ষক আব্দুল ওয়াহেদ ও রুমিনা সুলতানাকে বদলীর জন্য স্থানীয় ১০০৬ জন গ্রামবাসী স্বাক্ষরিত একটি অভিযোগ উপজেলা শিক্ষা অফিসার বরাবর করা হয়। অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা শিক্ষা অফিসার আপেল মাহমুদ সরেজমিনে গিয়ে প্রধান শিক্ষক, সহকারি শিক্ষক বা গ্রামবাসীদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন নি। শুধুমাত্র স্কুলের সভাপতিকে ফোন দিয়েই তদন্ত শেষ করেন। তদন্ত শেষ হলেও এখন পর্যন্ত ওই দুই শিক্ষককে স্কুল থেকে বদলী করার নির্দেশ দেয়া হয়নি। এ নিয়ে এলাকাবাসীর মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।
এলাকাবাসী অভিযোগ করে বলেন, আব্দুল ওয়াহেদ ও রুমিনা সুলতানার বিরুদ্ধে অভিযোগ দেয়ার কারণে প্রধান শিক্ষক হাসান উল করিমকে ফাঁসাতে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছে ওই দুই শিক্ষক। উপবৃত্তির অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে প্রধান শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হলেও অনৈতিক কাজের লিপ্ত থাকার বিষয়ে গ্রামবাসী, প্রধান শিক্ষক, ম্যানেজিং কমিটি এবং রুমিনা সুলতানার স্বামী জুয়েল তালুকদারের অভিযোগকে আমলে নেয়নি শিক্ষা অফিস।
এদিকে সরকারি নির্দেশ মোতাবেক গত ২৩ আগষ্ট থেকে বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক থাকলেও আব্দুল ওয়াহেদ ও রুমিনা সুলতানা অনুপস্থিত ছিলেন। এমনকি কোন রাষ্ট্রীয় দিবসেও উপস্থিত ছিলেন না তারা।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষক আব্দুল ওয়াহেদ বলেন, ২৩ আগষ্ট থেকে স্কুলে উপস্থিত থাকার জন্য সরকারি কোন পরিপত্র নেই। মৌখিকভাবে ঘোষণা দেয়া হয়েছিল মাত্র।
ওই বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুফিয়া পারভীন জানান, আমাকে গত ৩ আগষ্ট ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। ২৩ আগষ্ট সকল শিক্ষক উপস্থিত থাকলেও আব্দুল ওয়াহেদ ও রুমিনা সুলতানা অনুপস্থিত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেন তিনি।
বরখাস্ত হওয়া প্রধান শিক্ষক হাসান উল করিম বলেন, আমার বিরুদ্ধে উপবৃত্তির টাকা আত্মসাতসহ যেসব অভিযোগ করা হয়েছে সম্পূর্ণ বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে আমার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ করা হয়েছে।
স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আবু কায়েস সরকার বলেন, শিক্ষক আব্দুল ওয়াহেদ ও রুমিনা সুলতানার অনৈতিক কর্মকান্ডের বিরুরেদ্ধ এক হাজার ৬ জন গ্রামবাসী স্বাক্ষরিত অভিযোগ দিলেও তাদের বদলী করা হয়নি। প্রধান শিক্ষক হাসান উল করিমকে সাময়িক বরখাস্তের বিষয়টি অফিসায়িল আমাকে জানানো হয়নি।
সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসার আপেল মাহমুদ বলেন, আব্দুল ওয়াহেদ ও রুমিনা সুলতানাকে বদলীর জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। তবে দুই বছর ধরে বদলী বন্ধ রয়ছে। এ কারণে আপাতত একজনকে ওই স্কুলেই রাখা হয়েছে অপরজনকে ডেপুটেশনে অন্য কোন স্কুলে দেয়া হবে। তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, পুরো রাজশাহী বিভাগে ভাল শিক্ষা অফিসার হিসেবে আমার সুনাম রয়েছে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. আমিনুল ইসলাম মন্ডল জানান, অভিযুক্ত ওই দুই শিক্ষককে বদলীর বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

About jamuna

আবার চেষ্টা করুন

বঙ্গমাতা সাংস্কৃতিক জোটের উদ্যোগে শহীদ শেখ রাসেল দিবস উদযাপন

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিরাজগঞ্জ যমুনাপ্রবাহ.কম: নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *