Home / কৃষি ও শিল্প / গোখাদ্য সংকট, কচুরিপানায় নির্ভরশীল রায়গঞ্জে গরুর খামারিরা

গোখাদ্য সংকট, কচুরিপানায় নির্ভরশীল রায়গঞ্জে গরুর খামারিরা

বিশেষ প্রতিনিধি, যমুনাপ্রবাহ.কম

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলায় গত কয়েকমাস যাবত গবাদী পশুর খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। গত কয়েক দিনের অবিরাম বর্ষণে এ সংকট আরও তীব্র হয়েছে। একদিকে খড়ের ম‚ল্য বৃদ্ধি অন্য দিকে নিম্নাঞ্চলের চাষকৃত উন্নত জাতের ঘাস ক্ষেতগুলো পানিতে নিমজ্জিত হওয়ায় গরু মহিষ ছাগল ভেড়া নিয়ে বিপাকে পড়েছেন পশু মালিকেরা। গরু মহিষের খাদ্য চাহিদা মেটাতে বিকল্প হিসেবে পশু মালিকেরা পানিতে ভাসমান কচুরি পানার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। অর্থ সাশ্রয়ের জন্য অন্যান্য খাবারের পাশাপাশি গরু-মহিষকে এখন কচুরিপানা খাওয়াচ্ছেন তারা। জানা গেছে, আষাঢ়-শ্রাবণ মাসে চান্দাইকোনা, গঙ্গারমপুর, ভ‚ইয়াগাতী, নলছিয়া, বেংনাই, নাড়–য়া গ্রামসহ উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম গুলোতে বর্ষার পানি প্রবেশ করে। বছরের অন্য সময় গুলোতে দিনের বেলা গরু মহিষকে মাঠে নিয়ে পতিত গোচারণ ভ‚মিতে খাওয়ানো সম্ভব হলেও বর্ষা ও শরতের প্রায় চার মাস মাঠে পানি থাকায় গরু মহিষকে মাঠে নিয়ে খাওয়ানো সম্ভব হয় না। এ সময় পুরোপুরি খড়, খইল, ভুসিসহ অন্যান্য দানাদার খাবারের উপর নির্ভর করতে হয় পশু মালিকদের। বৈশাখ-জৈষ্ঠ্য মাসে কৃষক বোরো ধান কাটলে বোরো ধানের কিছু খড় পাওয়া গেলেও তা চাহিদার তুলনায় যথেষ্ট নয়। ভাটি এলাকায় খড়ের দাম আরো বেশি হওয়ায় সেসব এলাকার খড় ব্যবসায়ীরা চলনবিল এলাকায় এসে চড়া দামে বোরো ধানের খড় কিনে নিয়ে যান। কুষ্টিয়া যশোর ঝিনাইদহসহ দেশের উত্তর পশ্চিমাঞ্চলের উঁচু অঞ্চল থেকে খড় ব্যবসায়ীরা কিছু খড় কিনে অতিরিক্ত ট্রাক ভাড়া দিয়ে উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম গুলোতে এনে বেশি দামে বিক্রি করছেন। বর্তমান এ এলাকায় প্রতি মন খড় প্রায় ৬’শ থেকে ৭’শ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কিছু পশু মালিকের মাঠাল জমি না থাকায় সারা বছর চড়া দামে পশুখাদ্য কিনে খাওয়াতে হিম শিম খেতে হচ্ছে। এমন অনেক পশু মালিক ছেড়ে দিচ্ছেন পশু পালন। স¤প্রতি উপজেলার পাঙ্গাসী ইউনিয়নের গ্রামপাঙ্গাসী গ্রামের মো. নুরুল ইসলাম বলেন, ছয়টি গরুর মধ্যে দুটি গাভি ছয় থেকে সাত লিটার দুধ দেয়। খড়, খইল ভ‚সিসহ গোখাদ্য বাবদ তাকে প্রতিদিন প্রায় ৫’শ থেকে ৬’শ টাকা ব্যয় করতে হয়। গো খাদ্যের দাম বেশি হওয়ায় গবাদি পশু পালন করে লাভবান হতে পারছেন না তিনি। বাধ্য হয়ে গরুর খাদ্য ব্যয় কমাতে প্রতিদিন কচুরি পানা কেটে খাওয়াচ্ছেন। উপজেলার গ্রামপাঙ্গাসী ডা. আয়নাল হক এর বাড়ীর আঙ্গিনায় পুকুরে কচুরিপানা কাটারত অবস্থায় গ্রামপাঙ্গাসী চাঁনপাড়া গ্রামের মো. নুরুল ইসলাম জানান, গরুকে কচুরিপানা খাওয়ালে অন্য খাদ্য অপেক্ষাকৃত কম প্রয়োজন হয়। তাদের মত উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষ গবাদি পশুর খাদ্য চাহিদা মেটাতে প্রতিদিন বিভিন্ন জলাশয় থেকে কচুরিপানা কেটে নিয়ে যাচ্ছেন।

About jamuna

আবার চেষ্টা করুন

সিরাজগঞ্জে নির্মাণ শ্রমিককে কুপিয়ে হত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক যমুনাপ্রবাহ.কম সিরাজগঞ্জ: সিরাজগঞ্জে নজরুল ইসলাম (২২) নামে এক  নির্মাণ শ্রমিককে কুপিয়ে হত্যা করেছে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *