সদ্য সংবাদ
Home / গুরুত্বপূর্ণ / কিংবদন্তী সৌমিত্র চট্টোপধ্যায় আর নেই

কিংবদন্তী সৌমিত্র চট্টোপধ্যায় আর নেই

চিত্রবিচিত্র বার্তাকক্ষ ||যমুনাপ্রবাহ.কম

অবশেষে পৃথিবী ছেড়ে বিদায় নিলেন বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তী অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। শেষ হলো তাঁর ৮৬ বছরের কর্মময় পথচলা, শেষ হলো বাংলা চলচ্চিত্র জগতের এক অধ্যায়ের।  হাসপাতালে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর চলে গেলেন বাংলা ছবির প্রবীণ মহাতারকা, অভিনেতা-নাট্যকার-বাচিকশিল্পী-কবি-চিত্রকর। রোববার (১৫ নভেম্বর) দুপুর শোয়া ১২টার দিকে কলকাতার বেলভিউ নার্সিংহোমে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। এর আগে সেপ্টেম্বরে নোভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ওই হাসপাতালে ভর্তি হন সৌমিত্র। তিনি একটা সময়ে ক্যানসারেও আক্রান্ত হয়েছিলেন। সেই অসুস্থতা স্বভাবতই তাঁকে পুরোপুরি ছেড়ে যায়নি। ফলে কখনও উন্নতি কখনও অবনতি, এই দোলাচলেই চলছিল হাসপাতাল-বন্দি সৌমিত্রর জীবন। এ ছাড়াও একাধিক কোমর্বিডিটি ছিল তাঁর। তার জেরে সময়ের সঙ্গে পরিস্থিতির অবনতি হতে শুরু করে তাঁর। তবুও প্লাজমা থেরাপি, শ্বাসনালিতে অস্ত্রপচার-সহ নানা ভাবে অভিনেতাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন চিকিতসকেরা।

কিন্তু শুক্রবার সৌমিত্রর শারীরিক অবস্থার আশঙ্কাজনক অবনতি ঘটে। হৃদযন্ত্র আর কিডনির জটিলতা অনেকটা বেড়ে যায়। বেড়ে যায় ‘হার্ট রেট’। সমস্ত অঙ্গপ্রত্যঙ্গ কার্যক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। চিকিতসকরা জানিয়ে দেন, অলৌকিক কিছু না ঘটলে সৌমিত্রের সুস্থ হয়ে ওঠা অসম্ভব। তার পরই দুশ্চিন্তার ছায়া নেমে আসে অনুরাগীদের মধ্যে।

রাতভর সেই নিয়ে টানাপড়েনের পর এ দিন সকাল হতেই হাসপাতালে পৌঁছে যান সৌমিত্রর পরিবারের লোকজন। কিছু ক্ষণ পর হাসপাতাল থেকে বেরিয়েও যান তাঁরা। কিন্তু পর ক্ষণেই হাসপাতালের তরফে ফের ডেকে পাঠানো হয় তাঁদের। তবে সেইসময় বাবার পরিস্থিতি নিয়ে মুখ খুলতে রাজি হননি সৌমিত্র-কন্যা পৌলমী। ফোনে যোগাযোগ করা হলে বলেন, ‘‘বাবার স্বাস্থ্য নিয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হবে। তার পর এ নিয়ে কোনও মন্তব্য করব আমরা। এর কিছু ক্ষণ পরেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দেন, অশীতিপর অভিনেতার মৃত্যু হয়েছে। ১৯৩৫-এর ১৯ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলায় জন্ম সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের। বাবা ছিলেন কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী। জীবনের প্রথম ১০টা বছর সৌমিত্র কাটিয়েছিলেন কৃষ্ণনগরে। তাঁর দাদার নাটকের দল ছিল। বাড়িতে নাট্যচর্চার পরিবেশ ছিল। ছোটবেলা থেকেই নাটকে অভিনয় শুরু করেন তিনি। কলকাতার সিটি কলেজ থেকে বাংলা সাহিত্য নিয়ে পড়াশোনা শেষ করে সৌমিত্র ভর্তি হন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখান থেকে বাংলা সাহিত্যে স্নাতকোত্তর করেন। কলেজের ফাইনাল ইয়ারে একদিন মঞ্চে শিশির ভাদুড়ীর নাটক দেখার সুযোগ হয় তাঁর। সেদিনই জীবনের মোড় ঘুরে যায় তাঁর। তিনি পুরোদস্তুর নাটকে মনোনিবেশ করেন।

১৯৫৯ খ্রিষ্টাব্দে তিনি প্রথম সত্যজিত রায়ের পরিচালনায় অপুর সংসার ছবিতে অভিনয় করেন। পরবর্তীকালে তিনি মৃণাল সেন, তপন সিংহ, অজয় করের মত পরিচালকদের সঙ্গেও কাজ করেছেন। সিনেমা ছাড়াও তিনি বহু নাটক, যাত্রা, এবং টিভি ধারাবাহিকে অভিনয় করেছেন। অভিনয় ছাড়া তিনি নাটক ও কবিতা লিখেছেন, নাটক পরিচালনা করেছেন। তিনি একজন খুব উচ্চমানের আবৃত্তিকারও বটে। সত্যজিত রায়ের প্রায় ১৪টি ছবিতে অভিনয় করেন তিনি।  তার অভিনীত চরিত্রগুলোর ভিতরে সবথেকে জনপ্রিয় হল ফেলুদা। তিনি সত্যজিত রায়ের পরিচালনায় সোনার কেল্লা এবং জয় বাবা ফেলুনাথ ছবিতে ফেলুদার ভূমিকায় অভিনয় করেছেন। প্রথমে ফেলুদা চরিত্রে তার চেয়েও ভালো কাউকে নেওয়ার ইচ্ছে থাকলেও তার অভিনীত ফেলুদার প্রথম ছবি সোনার কেল্লা বের হওয়ার পর সত্যজিত রায় স্বীকার করেন যে, তার চেয়ে ভালো আর কেউ ছবিটি করতে পারতনা।

প্রথমত তিনি ছিলেন অভিনেতা। কবিতাচর্চা, রবীন্দ্রপাঠ, সম্পাদনা, নাট্যসংগঠন তাঁর বিপুল বৈচিত্র্যের একেকটি দিক। সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় সবকিছু নিয়েই অনন্য। তিনি এমনই এক শিল্পী, যাঁর মূল্যায়ন নিয়ে কোনো পণ্ডিতি-তর্ক তোলার অবকাশ রাখে না। বলা হতো সময়ের ধুলা তাঁর আভিজাত্যের সৌন্দর্য স্পর্শ করতে পারে না। সৌমিত্র চট্টোপধ্যায় অপুর সংসার, ক্ষুধিত পাষাণ, দেবদাস, দেবী, স্মরলিপি, সমাপ্তি তিন কন্যা, বসন্ত বিলাপ, স্বয়ম্বরা, পুনশ্চ, চাঁদের বাড়ি, দ্য বঙ কানেকশণ, ১৫ পার্ক এভিনিউ, উত্তরণ, মহা পৃথিবী, ঘরে বাইরে শাস্তি, অতল জলের আহবান, শেষ প্রহর, সাত পাকে বাঁধা, কাপুরুষ, বর্ণালীসহ অসংখ্য চলচ্চিত্র ও নাটকে অভিনয় করেছেন। সৌমিত্র চট্টপধ্যায় তাঁর কর্মময় জীবনের স্বীকৃতি স্বরূপ ভারত সরকারের দেয়া পদ্মভূষণ ও দাদা সাহেব ফালকে পুরস্কার, ফ্রান্স সরকারের দেয়া লিজিওন অফ অনার এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের দেয়া বঙ্গবিভূষণ পুরস্কার লাভ করেছেন।

আবার চেষ্টা করুন

সিরাজগঞ্জে ইটভাটার চুলার দেয়াল ধসে শ্রমিক নিহত

নিজস্ব প্রতিবেদক || যমুনাপ্রবাহ.কম আপডেট সময়: ০২ঃ০৮ ঘন্টা: ১১ মে : ২০২১ সিরাজগঞ্জ: সিরাজগঞ্জে ইটভাটার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *