শনিবার , জুলাই 31 2021
Home / করোনা সংবাদ / করোনা ভাইরাস: টিকা আসছে সামনের বছরেই

করোনা ভাইরাস: টিকা আসছে সামনের বছরেই

জীবনধারা || ডেস্ক যমুনাপ্রবাহ.কম

‘স্পুটনিক-ভি’ টিকা নিরাপদ কি না, প্রশ্ন ছিল গোড়া থেকেই। তা সত্ত্বেও ভারতে ওই রুশ টিকার তৃতীয় ধাপের পরীক্ষা শুরু হতে চলেছে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে। তাতপর্যপূর্ণ ভাবে, রাশিয়া আজ জানিয়ে দিল, করোনাভাইরাস রুখতে তাদের দ্বিতীয় টিকাটিও শীঘ্রই আসছে। নাম, ‘এপিভ্যাককরোনা’। রুশ উপ-প্রধানমন্ত্রী তাতিয়ানা গোলিকোভা জানান, নতুন টিকা তৈরি হচ্ছে সে দেশের ভেক্টর ভাইরোলজি ইনস্টিটিউটের তত্ত্বাবধানে। প্রথম পর্যায়ের পরীক্ষা সেপ্টেম্বরে হয়ে যেতে পারে। পার্লামেন্টে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও আজ জানিয়ে দিয়েছেন, নতুন টিকা শীঘ্রই নথিভুক্ত করা হবে। মোটামুটি ১৫ অক্টোবরের মধ্যেই সেই কাজটা সেরে ফেলতে চায় রাশিয়া। প্রায় ৬০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক নিয়ে জনসন অ্যান্ড জনসনের তৈরি সম্ভাব্য টিকার তৃতীয় পর্যায়ের পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শুরু হতে চলেছে। এই টিকার বিশেষত্ব হল, এর একটিই ডোজ় কার্যকরী হবে। আগামী বছরে টিকার ১০০ কোটি ডোজ় তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে জনসন অ্যান্ড জনসনের।

কমবেশি সকলেরই প্রশ্ন, ‘‘এত যে গবেষণা চলছে বিশ্ব জুড়ে, কবে আসবে ভ্যাকসিন?’’ বিশেষজ্ঞরা কিন্তু বলছেন, ‘‘এত দ্রুত গতিতে ইতিহাসে অন্য কোনও ভ্যাকসিন তৈরি হয়নি। কিন্তু আরও কিছুটা অপেক্ষা করতে হবে।’’ গবেষকরা জানাচ্ছেন, অতীতে বিজ্ঞান এতটা উন্নত ছিল না। কিন্তু তবু নির্দিষ্ট পরীক্ষা পদ্ধতি সম্পূর্ণ করতেই অনেকটা সময় লেগে যায়। যেমন—

স্মল পক্স:
কবে এর প্রথম সংক্রমণ জানা নেই। খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতকেও এর অস্তিত্বের খবর শোনা যায়। ১৭৯৬ সালে এডওয়ার্ড জেনার প্রথম স্মল পক্সের টিকা আবিষ্কার করেন। কিন্তু এর ব্যবহার শুরু হতে ১৯৫০ সাল হয়ে গিয়েছিল। ১৯৬৭ সালে সার্বিক ভাবে গোটা বিশ্বে ভ্যাকসিন তৈরি শুরু হয়। এখন স্মল পক্স সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন।
টাইফয়েড:

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার উন্নয়নশীল দেশগুলোতে বর্তমানে এর প্রকোপ বেশি। ১৮৮০ সালে প্রথম চিহ্নিত হয় ব্যাক্টিরিয়াটি। ’৮৬ থেকে প্রতিষেধক তৈরির গবেষণা শুরু। ১৯০৯ সালে মার্কিন সেনাবাহিনীর চিকিৎসক ফ্রেডেরিক এফ রাসেল প্রথম ভ্যাকসিন তৈরি করেন। বাজারে আসতে ১৯১৪।

ইনফ্লুয়েঞ্জা:

১৯১৮ সালে ইনফ্লুয়েঞ্জা অতিমারি দেখা দেয়। ১৯৩০ সাল থেকে গবেষণা শুরু হয়ে ১৯৪৫ সালে প্রথম ইনফ্লুয়েঞ্জা ভ্যাকসিন তৈরি হয়। কিন্তু দু’বছর বাদেই দেখা যায় ওই ভ্যাকসিন কাজ করছে না। ভাইরাসের মধ্যে বদল ঘটে গিয়েছে। প্রধানত দু’ধরনের স্ট্রেন রয়েছে— ইনফ্লুয়েঞ্জা এ এবং ইনফ্লুয়েঞ্জা বি। এখন এর ভ্যাকসিন সময়ে-সময়ে প্রয়োজন মতো ‘আপডেট’ করতে হয়। ইয়েলো ফিভার: এর ভ্যাকসিন তৈরি করে ১৯৫১ সালে নোবেল পুরস্কার পান ম্যাক্স টেলার। অন্তত ৫০০ বছর ধরে এই মহামারিতে ভুগেছে বিশ্ব। ১৯১৮ সালে রকফেলার ইনস্টিটিউট প্রথম ভ্যাকসিন তৈরি করে। কিন্তু ১৯২৬ সালে তা ভুল প্রমাণ করেন ম্যাক্স। আরও এক দশক পরে ১৯৩৭ সালে প্রথম কার্যকরী প্রতিষেধক তৈরি করেন তিনি।

পোলিয়ো: উনিশ শতকের শেষের দিকে প্রথম সংক্রমণ। ১৯৩৫ সালে ভ্যাকসিন তৈরির চেষ্টা শুরু। ১৯৫৩ সালে জোনাস সল্ক এবং ১৯৫৬ সালে অ্যালবার্ট সেবিন ভ্যাকসিন তৈরি করেন। ১৯৫৫ থেকে সল্কের প্রতিষেধক ব্যবহার শুরু করে মার্কিন সেনা। ১৯৮০তে আরও কার্যকরী প্রতিষেধক তৈরি। ১৯৯৪ সালে আমেরিকা থেকে নিশ্চিহ্ন। ২০১৮তে বিশ্বে ৩৩টি পোলিয়ো কেস রয়েছে।

অ্যানথ্রাক্স: ৭০০ খ্রিস্টপূর্ব থেকে এর অস্তিত্বের খোঁজ মেলে। উনিশ শতক থেকে গবেষণা শুরু। ১৯৩৭ সালে মাক্স স্টার্ন প্রথম সফল ভ্যাকসিন তৈরি করেন। ১৯৭০ সালে আরও আধুনিক প্রতিষেধক তৈরি হয়।

চিকেন পক্স:

উনিশ শতকের শেষ অবধি চিকেন পক্সকে ‘স্মল পক্স’ হিসেবেই ভুল করা হত। ১৯৫০ সালে একে আলাদা করে চিহ্নিত করা হয়। ১৯৭০ সালে জাপানে প্রথম চিকেন পক্সের প্রতিষেধক তৈরি। আমেরিকায় প্রথম লাইসেন্স মেলে ১৯৯৫।

হেপাটাইটিস বি:

১৯৬৫ সালে ভাইরাসটি চিহ্নিত করেন বারুচ ব্লুমবার্গ। এর চার বছর বাদে প্রতিষেধক তৈরি করেন তিনি। এফডিএ-র ছাড়পত্র মেলে ১২ বছর বাদে। ১৯৮৬ সালে আরও আধুনিক ভ্যাকসিন। আপাতত তাই ধৈর্যের বিকল্প নেই।

সূত্র: আনন্দবাজার

About jamuna

আবার চেষ্টা করুন

বেলকুচিতে বায়াতুস সালাত জামে  মসজিদের উদ্বোধন

জহুরুল ইসলাম, উপজেলা প্রতিনিধি || যমুনাপ্রবাহ.কম বেলকুচি : সিরাজগঞ্জের বেলকুচি পৌর এলাকার শেরনগর পশ্চিম পাড়া বায়াতুস …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।