সদ্য সংবাদ
Home / গুরুত্বপূর্ণ / করোনায় কর্মহীন দিনাজপুর ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠির মানুষ : স্বাস্থ্যসেবা না পাওয়ার অভিযোগ

করোনায় কর্মহীন দিনাজপুর ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠির মানুষ : স্বাস্থ্যসেবা না পাওয়ার অভিযোগ

নূর ইসলাম নয়ন, দিনাজপুর প্রতিনিধি || যমুনাপ্রবাহ.কম
তখন সকাল ১১টা। দিনাজপুর শহরোস্থ উত্তর শেখপুরা আদিবাসী ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠির ফুলমতি মুরমুর্ তাঁর বাড়িতে প্রবেশ করতেই দেখা যায় তিনি এইমাত্র চুলো ধরাচ্ছেন! গতকাল ফুলমতির বাড়িতে রান্না হয়নি। অনেক কষ্টে আজ ভাতের হাড়ি চরিয়েছে চুলোয়! তার সাথে কথা বলতেই তিনি হাউমাউ করে কেঁদে বলেন, করোনার কারণে তাদের আয়ের পথ একেবারে বন্ধ হয়ে গেছে। একবেলা খাই তো দুবেলা না খেয়েই থাকি! কেউ কাজ দেয় না। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করে বলেন, আদিবাসী ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠির নেতারা মুখে তাদের বড় বড় কথা থাকলেও বাস্তবে তারা আমাদের কোনো সাহায্য-সহযোগিতা এনে দিতে পারেননি।
কথা হলো পলাশী তিকগা’র সাথে। সে জানায়, এই গ্রামে রয়েছে ৮টি নৃ-গোষ্ঠি পরিবার। করোনা পরিস্থিতির কারণে তাদের হাতে কোনো কাজ নেই। স্থবির হয়ে পড়েছে তাদের জনজীবন।
এদিকে ভালো নেই দিনাজপুরের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠির মানুষেরা। করোনায় কাজ না থাকায় পাল্টে গেছে জীবনের চিত্র। স্বাস্থ্যগত সমস্যায় ভুগছেন অনেকেই কিন্তু তাদের চিকিতসা সেবা মিলছে না বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। হাসপাতালে গেলে তাদের সাথে খারাপ আচরণ করা হয়। ডাক্তার হাসপাতালে থাকেন না। হাসপাতাল চালায় ইন্টার্ন ডাক্তাররা। তারাও তাদের চিকিতসা সেবা দেন না। অনেক দূর থেকে শুনে চিকিতসা নিতে হয় তাদের। ডাক্তারদের পার্সোনাল চেম্বারে যাবে এমন সামর্থ নেই তাদের।
ভুক্তভোগী নৃ-গোষ্ঠীরা প্রশ্ন তুলেছেন আমরা এ দেশের নাগরিক। আমাদের স্বাস্থ্যসেবা, চিকিতকসা, এবং লেখাপড়ার সুযোগ পাওয়ার অধিকার রয়েছে। কিন্তু আমরা যেন অবহেলার পাত্র হয়ে গেছি অথচ মুক্তিযুদ্ধকালীন সময় থেকে বিভিন্ন সময়ে দেশের হয়ে অকাতরে জীবন দিয়েছেন তারা। আদিবাসী নেতারা যথাক্রমে রবিন সরেন, বিশ্বনাথ সিং, ফাবিয়ান মন্ডল দাবি করেছেন তাদের নৃ-গোষ্ঠিী আদিবাসীরা চিকিতসা সেবা পাচ্ছেন না এবং শিক্ষা কার্যক্রম থেকেও তারা বঞ্চিত হয়ে পড়েছে। কিন্তু কেন? তিনি বলেন, দিনাজপুরের ১৩টি থানায় সব মিলিয়ে প্রায় ২ লক্ষাধিক নৃ-গোষ্ঠি বসবাস করেন। করোনার পর থেকে এ সমস্ত নৃ-গোষ্ঠী সম্প্রদায়ের কোন কাজ নেই, সরকারের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত পরিমান সরকারি অনুদান প্রয়োজন। তাহলে আদিবাসী ছেলেমেয়েরা লেখাপড়ার সুযোগ পাবে। আদিবাসী গোষ্ঠীরা দিনাজপুর জেলায় সর্বত্র ঠিকমত চিকিতসা সেবা বা চিকিতসা পাচ্ছেন না এ বিষয়ে দিনাজপুর সিভিল ডা. আব্দুস কুদ্দুছ জানালেন ভিন্ন কথা। তিনি বলেন, আদিবাসীরাই ভাল চিকিতসা পাচ্ছেন! অপরদিকে দিনাজপুরের প্রায় ১৩টি উপজেলায় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠি সম্প্রদায়ের মানুষেরা বসবাস করেন। অভাব-অনাটনে জর্জড়িত তারা । তারমধ্যে দীর্ঘদিন যাবত করোনা মহামারীর মধ্যে অবস্থা আরো কঠিন হয়ে পড়েছে তাদের পারিবারিক জীবন। কাজ না থাকায় আতঙ্কে দিনাতিপাত করছে তারা। 
দিনাজপুরে ইতিহাসের পাতায় দেখা যায়, দিনাজপুর অঞ্চলে ১৫ থেকে ১৮টি আদিবাসী জনগোষ্ঠী আছে। দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনসহ সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনে আদিবাসীদের সক্রিয় ভূমিকা আছে। কিন্তু আদিবাসীদের অস্তিত্ব আজ বিপন্ন। ১৯৪৭, ১৯৬২, ১৯৬৫, ১৯৭১, ১৯৭৫সহ বিভিন্ন সময়ের আদিবাসীরা তাদের ভিটেমাটি ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। সরকার এখন আদিবাসী বলতে চায় না। সরকার আদিবাসী বলতে না চাইলে জাতি হিসেবে স্বীকৃতি দিক। আদিবাসীদের জমিজমা থেকে উচ্ছেদ করা হচ্ছে। এসিল্যান্ড, সরকারি কর্মকর্তা, সমাজপতি, প্রভাবশালী সমাজের অনেক গণ্যমান্য ব্যক্তি এসবের সঙ্গে জড়িত। এলাকায় উন্নয়নের কথা শুনলে আদিবাসীদের মনে আতঙ্ক জাগে। আদিবাসীদের জমি দখল ছাড়া সরকারের উন্নয়ন কাজ হয় না। দিনাজপুরের নশিপুর পাটবীজ খামার, তুলা উন্নয়ন বোর্ড, পল্লী বিদ্যুত সমিতি এলাকায় আদিবাসীদের জমি দখল করা হয়েছে। ভূমি রক্ষা করতে গিয়ে এ অঞ্চলে ৪০ জন আদিবাসী খুন হয়েছে। একটিরও সুবিচার পাওয়া যায়নি।
ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠি আদিবাসীরা অনেকেই ভিটেমাটি ছাড়া। অনেকে দখল করেছেন তাদের জমি। তারা পাচ্ছেন সু-বিচার। মেয়েরা অন্যান্য ধর্মালম্বীর মত জমির ভাগ পায় না।
ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠি আদিবাসীরা সরাসরি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। যাতে করে তাদের সন্তানদের পড়ালেখা, সু-চিকিতসা এবং কর্মের ব্যবস্থা করে দেন। এছাড়াও বিত্তবান এবং বে-সসরকারি সংস্থার প্রতি তারা আকুল আবেদন জানিয়েছেন যেন তাদের ছেলেমেয়েরা প্রযুক্তিগত সহায়তা পেয়ে অনলাইনে ক্লাশ করতে পারে।

আবার চেষ্টা করুন

দেড়যুগ পর উল্লাপাড়া উপজেলা আ.লীগের সম্মেলন শনিবার

নিজস্ব প্রতিবেদক যমুনাপ্রবাহ.কম সিরাজগঞ্জ: দীর্ঘ প্রায় দেড়যুগ পরে শনিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সিরাজগঞ্জে উল্লাপাড়া উপজেলা আওয়ামীলীগের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *