সদ্য সংবাদ
Home / গুরুত্বপূর্ণ / কমছে যমুনার পানি, ভাঙছে নদী তীরবর্তী অঞ্চল

কমছে যমুনার পানি, ভাঙছে নদী তীরবর্তী অঞ্চল

নিজস্ব প্রতিবেদক, যমুনাপ্রবাহ.কম

সিরাজগঞ্জ: দীর্ঘদিন হ্রাস-বৃদ্ধির পর বেশ দ্রুতগতিতেই কমতে শুরু করেছে যমুনা নদীর পানি। আর পানি কমার সাথে সাথে তীরবর্তী অঞ্চলে দেখা দিয়েছে তীব্র ভাঙন। ব্যাপক ভাঙনে বিলিন হতে চলেছে সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের বিস্তির্ণ অঞ্চল। ভাঙন অব্যাহত রয়েছে সদর উপজেলার পাঁচ ঠাকুরী এলাকাতেও। বালু ভর্তি জিওব্যাগ ডাম্পিংয়ের মাধ্যমে পানি উন্নয়ন বোর্ড ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হচ্ছে।

শুক্রবার চৌহালী উপজেলার খাষ পুখুরিয়া, বাগুটিয়া স্থলচর ও সদর উপজেলার পাঁচ ঠাকুরী এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বন্যার পানি কমার সাথে সাথে যমুনা নদী তার চিরচেনা রূপে আবির্ভূত হয়েছে। রাক্ষসী থাবায় গিলে নিচ্ছে চৌহালী উপজেলার উত্তর ও দক্ষিনের প্রায় সাড়ে ৭ কিলোমিটার এলাকার ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি।

চৌহালী উপজেলার জনপ্রতিনিধি ও শিক্ষকসহ স্থানীয় একাধিক ব্যক্তির সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রায় ১৮/২০ বছর ধরে উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে যমুনার ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। ভাঙনের কারণে সিরাজগঞ্জ জেলা থেকে বিচ্ছিন্ন এক দ্বীপে পরিণত হয়েছে এ উপজেলাটি। দীর্ঘকাল ধরে ভাঙ্গনে হাজার হাজার বাড়িঘর ও কৃষিজমি নিশ্চিহ্ন হওয়ার পাশাপাশি উপজেলা পরিষদ, হাসপাতাল, থানা ভবনসহ   সকল সরকারী-বেসরকারী অফিস, অসংখ্য শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান বিলিন হয়ে গেছে। দীর্ঘদিন ধরেই অস্থায়ী ভবনে চলছে সরকারি কর্মকর্তাদের অফিস।

চলতি বছরও বর্ষা মৌসুমের শুরু থেকেই ভাঙন শুরু হয়েছে। চৌহালী উপজেলা সদরের দক্ষিনে খাষপুখুরিয়া থেকে পাথরাইল পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৪ কিলোমিটার ও উত্তরে বারবয়লা থেকে বোয়ালকান্দি-স্থলচর পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ভাঙ্গন অব্যাহত রয়েছে। ইতিমধ্যে শত শত বাড়িঘর, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং ফসলী জমি নদীগর্ভে চলে গেছে। গত তিনদিন ধরে যমুনার পানি যমুনার পানি কমতে থাকার সাথে সাথে এর তীব্রতা আরও বেড়ে গেছে। হুমকির মুখে পড়েছে অন্তত ৭টি শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও শত শত ঘরবাড়ি।

খাসপুখুরিয়া ইউনিয়নের মেটুয়ানি বিসিএস আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম মোস্তফা  বলেন, চৌহালি সদর থেকে পাথরাইল পর্যন্ত পাকা সড়কটির মধ্যে অধিকাংশই নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। খাস পুখুরিয়া ও বাঘুটিয়া ইউনিয়নের অসংখ্য বাড়িঘর যমুনার পেটে চলে গেছে। শত শত বিঘা ফসলী জমিও নদীগর্ভে বিলিন হয়েছে।

বাঘুটিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবদুল কাহহার সিদ্দিকী জানান, বন্যার আগে থেকেই মেটুয়ানি, বিনানুই, চর নাকালিয়া গ্রামে ভাঙন দেখা দেয়। পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে ভাঙনের তীব্রতা আরও বাড়ছে। এ পর্যন্ত তিনটি গ্রামের প্রায় তিন শতাধিক বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। হুমকির মুখে রয়েছে পাঁচ শতাধিক বাড়িঘর। কয়েক সপ্তাহ আগে বন্যার পর ভাঙন শুরু হওয়ায় এ অঞ্চলের মানুষ চরম বিপাকে পড়েছেন। ভাঙ্গন কবলিত মানুষ স্বর্বস্ব হারিয়ে আশ্রয়হীন পড়েছে। অপর দিকে ভাঙ্গন আতংকে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে আরও হাজারো পরিবার।

সদিয়া চাঁদপুর ইউপি চেয়ারম্যান রাশেদুল ইসলাম সিরাজ বলেন, নদী ভাঙনে চাঁদপুর সহ বারবয়লা, বোয়ালকান্দি-স্থলচর পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার এলাকার দেড় শতাধিক বসতভিটা, প্রায় দেড় হাজার একর ফসলি জমি ও বাজার বিলীন হয়ে গেছে।

টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী (চৌহালী উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত) সিরাজুল ইসলাম বলেন,স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ ছাড়া এ অঞ্চলের ভাঙন ঠেকানো সম্ভব নয়। স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের জন্য সাড়ে ৬শ  কোটি টাকার একটি প্রকল্প জমা দেওয়া আছে।  প্রকল্পটি অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এ প্রকল্পের অনুমোদনের মাধ্যমেই এ অঞ্চলে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ শুরু হবে। আর স্থায়ী বাঁধ ছাড়া ভাঙন ঠেকানো যাবে না।

এদিকে গত দুদিন ধরে সিরাজগেঞ্জ সদর উপজেলার ছোনগাছা ইউনিয়নে পাঁচ ঠাকুরী এলাকাতেও দেখা দিয়েছে তীব্র ভাঙন। পানি উন্নয়ন বোর্ড ভাঙন ঠেকাতে জরুরী ভিত্তিতে বালি ভর্তি জিওব্যাগ ডাম্পিং শুরু করেছে। সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম জানান, গত ৫ দিন ধরে দ্রুতগতিতে যমুনার পানি কমতে শুরু করেছে। যমুনার পানি ক্রমাগত কমার সাথে সাথে প্রবল বর্ষণের কারণে পাঁচ ঠাকুরী অঞ্চলে তীব্র ভাঙন শুরু হয়েছে। আমরা ভাঙন ঠেকাতে থেকে জিও ব্যাগ নিক্ষেপ শুরু করেছি। তিনি বলেন, এ এলাকার ভাঙন ঠেকাতে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের জন্য একটি প্রকল্প প্রস্তুত করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

About jamuna

আবার চেষ্টা করুন

বেলকুচিতে আইন শৃঙ্খলা ও সমন্বয় কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

জহুরুল ইসলাম, উপজেলা প্রতিনিধি || যমুনাপ্রবাহ.কম প্রকাশ কাল: ২২০৭ ঘন্টা, জুন ২২, ২০২১ বেলকুচি (সিরাজগঞ্জ): …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।