সদ্য সংবাদ
Home / অপরাধ / এখনো খোঁজ মেলেনি হতদরিদ্রদের কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়া তাছলিমার

এখনো খোঁজ মেলেনি হতদরিদ্রদের কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়া তাছলিমার

নিজস্ব প্রতিবেদক || যমুনাপ্রবাহ.কম

প্রকাশ কাল: ১৫৫৭ ঘন্টা, জুলাই ৪, ২০২১

সিরাজগঞ্জ: সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার কালিয়া হরিপুর ইউনিয়নের চর বনবাড়িয়া গ্রামে ৫ শতাধিক হতদরিদ্র মানুষকে প্রতারণার মাধ্যমে প্রায় কোটি টাকা নিয়ে পালিয়ে যাওয়া তাছলিমার খাতুনের এখনো কোন সন্ধান মেলেনি। এক মাস ধরে নিখোঁজ থাকলেও প্রতারক ওই নারীর কোন খোঁজ পায়নি না পুলিশ। প্রতারণার ঘটনার প্রকৃত রহস্যও উদঘাটন হয়নি।
শনিবার (৩ জুলাই) সরেজমিনে চর বনবাড়িয়া এলাকায় গিয়ে ভুক্তভোগী আব্দুল আলীম, নূরজাহান, জিয়াসমিন, ফাতেমা, মনিরুল, নারগিস খাতুনসহ অনেকেই অভিযোগ করে বলেন, আমরা এজেন্ট হিসেবে শত শত হতদরিদ্র মানুষের কাছ থেকে ১৫ হাজার ৫শ করে টাকা নিয়ে তাছলিমার হাতে দিয়েছিলাম। শর্ত ছিল করোনা মহামারীতে কর্মহীন হয়ে পড়া হতদরিদ্র মানুষগুলোকে প্রতিমাসে খাদ্যপণ্য সরবরাহ করবে। আমাদের নিজেদেরও বেতন ধার্য্য করা হয়। কিন্তু আমাদের সদস্যদের মধ্যে কাউকে এক মাস আবার কাউকে দুই মাসের খাদ্যপণ্য দেয়ার পর হঠা করেই তাছলিমা বলে নগদ ২০ হাজার করে টাকা দিলে একবারেই ৮/১০ মাসের মালামাল দেবেন। এভাবে এজেন্টদের কারও কাছে এক লাখ আবার কারও কাছে ২ লাখ টাকা করে নেন তিনি। এরপর হঠা করেই পরিবারসহ পালিয়ে যান তাছলিমা।
ভুক্তভোগীরা বলেন, আমরা এখন চরম বিপাকে পড়েছি। আমাদের হতদরিদ্র সদস্যদের কাছ থেকে নেয়া টাকা ফেরত দিতে পারছি না।
খোঁজ নিয়ে জানা যা, করোনা মহামারীতে কর্মহীন হয়ে পড়া অসহায় দরিদ্র মানুষদের বছরব্যাপী খাদ্যশস্য বিতরণের প্রলোভন দেখিয়ে সদর উপজেলার কালিয়া হরিপুর ইউনিয়নের চর বনবাড়িয়া, পৌর এলাকার চর রায়পুর, মিরপুরসহ আশপাশের দরিদ্র মানুষগুলোর কাছ থেকে এজেন্টদের মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তাছলিমা।
এ ব্যাপারে চর বনবাড়িয়া গ্রামের আব্দুল আলিম নামে এক ভুক্তভোগী এজেন্ট বাদী হয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। মামলায় তাছলিমা খাতুন ছাড়াও, তার ভাই উজ্জল হোসেন (৪২), মা উলুফা বেগম (৬০) ও বাবা আক্তার হোসেনসহ (৬৫) ৫ জনকে আসামী করা হয়েছে।
মামলায় তিনি উল্লেখ করেন, গত বছর করোনা ভাইরাসের প্রকোপের সময় এ অঞ্চলের শ্রমজীবি মানুষগুলো কর্মহীন হয়ে পড়েছিল। ঠিক তখনই চর বনবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা তাছলিমা খাতুন প্রতি মাসে মাসে এক বছরব্যাপী খাদ্যশস্য সহায়তার দেয়ার কথা বলেন। তিনি চর বনবাড়িয়াসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামে এজেন্ট নিয়োগ করেন এবং প্রতি এজেন্টের কাছ থেকে ৩০ হাজার করে টাকা জামানত হিসেবে নেন। একই সাথে খাদ্যশস্য দেয়ার কথা বলে প্রতি এজেন্টের কাছ থেকে আরও ১ লাখ টাকা করে নেন। এছাড়াও প্রতি এজেন্টকে দিয়ে ১০ জন করে সদস্য ভর্তির করান। সেসব সদস্যদের কাছ থেকে ১৫ হাজার ৫শ করে টাকা নেন। এভাবে প্রায় ৭০০ জন লোকের কাছ থেকে ১৫ হাজার ৫০০ টাকা, ১৮ জন এজেন্টের কাছ থেকে আরও ৪১ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি। এসব টাকা নিয়ে আমাদের খাদ্যশস্য দেয়ার কথা থাকলেও তাছলিমাসহ অন্যান্যরা টাকা হাতিয়ে নিয়ে পালিয়ে গেছেন।
থানায় অভিযোগকারী আব্দুল আলীম বলেন, আমাদের প্রতি মাসে এক একবস্তা চালসহ প্রায় ৭/৮ হাজার টাকার খাদ্যপন্য প্রতি মাসে দেয়ার কথা বলে টাকা নিয়েছে। অনেকেই সরল বিশ্বাসে এসব টাকা দিয়েছেন। প্রথম দিকে দু-একজনকে এসব খাদ্যশস্য দিলেও এখন আর কাউকে দিচ্ছে না। এ কারণে আমি নিজে বাদী হয়ে থানায় অভিযোগ করেছি।
কালিয়া হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান আব্দুস সবুর জানান, ক্ষতিগ্রস্থরা আমার কাছে অভিযোগ দেয়ার পর তাছলিমার সাথে ফোনে কথা বলেছিলাম। সে একমাসের মধ্যে টাকা পরিশোধের কথা বলেছিল। কিন্তু সে কথা রাখেনি। এখন পর্যন্তও টাকা পরিশোধের বিষয়ে কোন কথা বলছে না। এমনকি আমার ফোনও ধরছেন না তাছলিমা।
এদিকে এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত তাছলিমার ফোনে বার বার কল দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেন নি। সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মেহেদী হাসান বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলেছি। তবে অভিযুক্ত মহিলার সন্ধান এখন পর্যন্তও পাওয়া যায়নি।

About jamuna

আবার চেষ্টা করুন

বঙ্গমাতা সাংস্কৃতিক জোটের উদ্যোগে শহীদ শেখ রাসেল দিবস উদযাপন

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিরাজগঞ্জ যমুনাপ্রবাহ.কম: নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *