বৃহস্পতিবার , জুন 17 2021
সদ্য সংবাদ
Home / সিরাজগঞ্জ / উল্লাপাড়া / উল্লাপাড়ায় লিজ দেয়ার ৭ মাসেই উচ্ছেদ করলো রেলওয়ে বিভাগ (ভিডিওসহ)

উল্লাপাড়ায় লিজ দেয়ার ৭ মাসেই উচ্ছেদ করলো রেলওয়ে বিভাগ (ভিডিওসহ)

নিজস্ব প্রতিবেদক || যমুনাপ্রবাহ.কম

প্রকাশকাল: ১৫১০ ঘন্টা : ৫ জুন, ২০২১

সিরাজগঞ্জ: সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় লিজ দেয়ার ৭ মাসের ব্যবধানে লিজ গ্রহীতার স্থাপনা উচ্ছেদ করে দিয়েছে রেলওয়ে বিভাগ। এতে বিপাকে পড়েছে অন্তত ১২ জন লিজ গ্রহীতা। গত ১ জুন সিরাজগঞ্জ-ঈশ্বরদী রেলওয়ে সড়কে উল্লাপাড়া উপজেলার লাহিড়ী মোহনপুর স্টেশনের পাশে এ ঘটনাটি ঘটে। ভুক্তভোগী মাছের আড়তদার বাবু মিয়া, জাহাঙ্গীর আলম, আল-আমিন নাঈম, রহমত আলী আব্দুর রহিম ও নাঈম তালুকদারসহ ১২ জন লিজ গ্রহীতা চরম ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।

ক্ষতিগ্রস্থরা জানান, লাহিড়ী মোহনপুর রেলওয়ে স্টেশনের পশ্চিম প্রান্তে রেলওয়ের পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকা .০৬০০ একর জমি গত বছরের অক্টোবর মাসে বাবু মিয়া নামে এক ব্যক্তিকে লিজ দেয় বাংলাদেশ রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চল এষ্টেট ডিপার্টমেন্ট পাকশী। এর কিছুদিন পর বাবু মিয়াসহ আরও ১১ জন বানিজ্যিকভাবে ওই জমি লিজ গ্রহণ করেন। ২০২০ সালের অক্টোবর মাসে রেলওয়ের ট্রেড অফিসারসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এসে তাদের লিজের জায়গা বুঝিয়ে দেন। লিজ নেয়ার পর সেখানে মাছের আড়ত ব্যবসার জন্য স্থাপনা গড়ে তোলেন তারা।

এ অবস্থায় গত ১ জুন হঠা করে রেলওয়ে ইশ্বরদীর কানুনগো ও সহকারি আমিনসহ রেলওয়ে পুলিশ এসে ওইসব স্থাপনার কিছু অংশ ভেঙে দেন এবং লাল নিশান গেড়ে চিহ্নিত করে দিয়ে যান।

ক্ষতিগ্রস্থ বাবু মিয়া অভিযোগ করে বলেন, আমি ৭ মাস আগে রেলওয়ে বিভাগে আবেদন করলে আমাকে জায়গার লাইসেন্স দেন। আমি জায়গা পাওয়ার পর ভরাট করে স্থাপনা নির্মাণ করি। রেলওয়ের বড় বড় কর্মকর্তরা এসে আমাকে জায়গা বুঝিয়ে দেয়। তারপর ৭ মাস যেতে না যেতেই হঠা করেই উল্লাপাড়া অফিসের কানুনগো ও হারুন সাহেবের নেতৃত্বে লোকজন এসে জোরপূর্বক আমার স্থাপনা ভাংচুর করে এবং নিশান গেড়ে রেখে চলে যায়। আমার লিজ নেয়া ৭২ ফুট জায়গা থাকলেও ৬৫ ফুট বর্তমানে আছে। বাকি ১২ ফুট জায়গা আমার কাছ থেকে জোরপূর্বক কেড়ে নেয়া হয়েছে। আমার লিজ বাতিল না করেই ঘুষের বিনিময়ে পাশ্ববর্তী আড়তদারদের ওই জমি লিজ দেয়া হয়েছে বলে দাবী করেন তিনি।

স্থানীয় দোকানদার সাইফুল ইসলাম, আবু মুছা, আমিনা খাতুনসহ অনেকেই জানান, এখানে দুটি পক্ষ রয়েছে। রেলওয়ে বিভাগ প্রথমে বাবু মিয়াদেরকে জায়গা বুঝিয়ে দেন। পরে তারা আবার ওই জায়গার কিছু অংশ ভেঙে দিয়ে আবার আব্দুল মজিদ তালুকদারদের বুঝিয়ে দেন। তবে কেন এসব হয়েছে সে বিষয়ে কিছু জানেন না স্থানীয়রা।

এদিকে এ বিষয়ে রেলওয়ের সহকারি আমিন হারুনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা নিয়ে আপনি যা খুশি লিখতে পারেন। তবে তথ্য জানতে চাইলে আপনাদের পাকশী যেতে হবে। আমাদের তথ্য দেয়ার আইনগত কোন অধিকার নাই। আপনাদের পাকশী গিয়ে তথ্য অধিকার ফরমে আবেদন করতে হবে।

পার্শ্ববর্তী মস্য আড়ত সমবায় সমিতির সদস্য আব্দুল মজিদ তালুকদার বলেন, বাবু মিয়া গংরা তাদের লিজ নেয়া জমি ছাড়াও আমাদের লিজকৃত জমি দখলে নিয়েছিল। পরে রেলওয়ে বিভাগকে জানালে সেগুলো উদ্ধার করে দেন। তিনি বলেন, তারা বাইরের কেউ নয়, আমাদেরই ভাই-ভাতিজা।

 

About jamuna

আবার চেষ্টা করুন

বেলকুচিতে বাল্যবিয়ে বন্ধ করলেন ইউএনও, কনের বাবার জরিমানা 

নিজস্ব প্রতিবেদক || যমুনাপ্রবাহ.কম প্রকাশ কাল: ২২৫৩ ঘন্টা, জুন  ১৬, ২০২১ সিরাজগঞ্জ : সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।