সদ্য সংবাদ
Home / গুরুত্বপূর্ণ / আমাগোরে জীবনডাই তো কষ্টের-পোশাক শ্রমিক সাহানা

আমাগোরে জীবনডাই তো কষ্টের-পোশাক শ্রমিক সাহানা

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক || যমুনাপ্রবাহ.কম

সিরাজগঞ্জ: ঈদে বাড়িতে যাইতে আর আইসতে ম্যালা কষ্ট অয়। কিন্তু এক বছর পর আত্মীয়-স্বজনগোরে সাথে দেহ্যা অইবো, এ কথা মনে অইলে কষ্ট মালুম অয় না। এই আসা যাওয়ার কষ্ট তো একদিনের। আসলে আমাগোরে পুরো জীবনডাই তো কষ্টের।

চাপা কন্ঠে কথাগুলো বলছিলেন পোশাক কর্মী সাহানা বেগম (৪৮)। তিনি বলেন, ২২ বছর ধরে গার্মেন্টেসে কাম কইরত্যাছি দুইডো পয়সার জন্য। ৮ ঘন্টা ডিউটির পরও প্রতিদিন ওভার টাইম, কোন কোনদিন নাইট ডিউটিও করা লাগে। ছওয়ালপাল মানুষ করার জন্য দিনরাত খাইটতে অয়।

সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার বাসিন্দা বিধবা সাহানা খাতুন বলেন, গার্মেন্টেসে কাম কইর‌্যা দুইটা মেয়ে বিয়্যা দিচি, ছওয়ালডারে পড়াইত্যাছি। সাহানার মতো একই এলাকার ফরিদা খাতুনও প্রায় ১৫ বছর ধরে পোশাক শ্রমিকের কাজ করেন। তার স্বামীও একই পেশায় রয়েছেন। দুজনে মিলে কাজ করেই সংসার চালান। তাদেরও দুটি সন্তানকে লেখাপড়া করাচ্ছেন।

রোববার (১ আগষ্ট) সকালে বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম মহাসড়কে কড্ডার মোড় এলাকায় গাড়ীর অপেক্ষায় ছিলেন সাহানা-ফরিদার মতো অনেক পোশাক শ্রমিক। একটি পিক-আপ পেয়েই হুড়োহুড়ি করে উঠে পড়লেন তারা।

কথা হয় বগুড়া জেলার ধনুট উপজেলার কমল, ছাবেদ ও শারমিন, সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বহুলীর বাবলু, হামিদ, জহুরা বেগম, কাজিপুরের ফেরদৌস আলী, সোমা খাতুনসহ অনেকের সাথে। তারা কেউ ৫ থেকে ২০ বছর ধরে গার্মেন্টেসে কাজ করছেন। নিজ নিজ পরিবারকে স্বাবলম্বী করার জন্যই তারা আত্মীয়-পরিজন ছেড়ে ঢাকায় রয়েছেন। পোশাক শ্রমিকের কাজ করে অনেকেই স্বাবলম্বী হয়েছেন, আবার অনেকেই এখনও দাঁড়াতেই পারেন নি।

ঈদের ছুটি ও লকডাউনে বাড়ি আসা এসব পোশাক শ্রমিকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, তারা ১৫ দিন ধরে ঘরে বসে রয়েছেন। ট্যাকের টাকাও ফুরিয়ে গেছে। এর মধ্যে আবার অফিস থেকে ম্যাসেজ পাঠিয়েছে। কাজে যেতেই হবে। কাজে না গেলে চাকরী চলে যেতে পারে। তাই যত কষ্টই হোক ঢাকায় যাবার জন্য রাস্তায় এসেছেন তারা। বাসের ভাড়া বেশি। ট্রাকে গেলে একটু কম টাকা লাগে। এ জন্য ট্রাকের জন্য অপেক্ষা করছিলেন তারা। তিন থেকে চারশো টাকা ভাড়ার মধ্যেই তারা ট্রাকে যেতে পারছেন।

খোলা ট্রাকে রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে ঢাকায় যেতে কষ্ট হবে এমন প্রশ্ন করলে তারা বলেন, এইডা আর কি কষ্ট। আমাগোরে কষ্ট সইয়্যা গেছে। এ পরিশ্রমের শরীরে যাতায়াতের কষ্ট কোন কষ্টই না বলে দাবী করেন অনেকেই।

পাঁচলিয়া এলাকার আওয়ামীলীগ নেতা আরাফাত রহমান বলেন, গার্মেন্টসকর্মীরা যেভাবে ঢাকায় যায় আর আসে-অন্য কোন সেক্টরের মানুষ সেভাবে পারবে না। ওদের কাছে রোদ-বৃষ্টিকে কিছুই মনে হয় না।স্থানীয় কাপড় ব্যবসায়ী আশরাফুল ইসলাম বলেন, ট্রাকের ঢালায় ঝুলে ঝুলে নারী-পুরুষ যাত্রীরা যাতায়াত করে। ওদের কষ্ট দেখতে দেখতে আমরাও অভ্যস্ত হয়ে গেছি।

বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোসাদ্দেক হোসেন বলেন, পোশাক শ্রমিকদের যাতায়াতের দুর্ভোগ দেখে আমাদেরও কষ্ট হয়। আমরা চেষ্টা করি তাদের যাত্রাকে যতটা সম্ভব নিরাপদ করতে।

About jamuna

আবার চেষ্টা করুন

নির্বাচনী কন্ট্রোল রুমে পাল্টে গেল ভোটের ফল: আদালতে স্বতন্ত্র প্রার্থী

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিরাজগঞ্জ যমুনাপ্রবাহ.কম: সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার বাঙালা ইউনিয়নের পশ্চিম সাতবাড়ীয় এবতেদায়ী মাদ্রাসা ভোট কেন্দ্রে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *